Daily Sunshine

চলনবিলে ধানের বাম্পার ফলনেও দুশ্চিন্তায় কৃষক

Share

তাড়াশ প্রতিনিধি: চলন বিলে এ বছর ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। যতদূর চোখ যায় শুধু ধান আর ধান। মাঠে মাঠে রং ছড়াচ্ছে সোনালি ধান। সোনালি সেই ধানে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন।
সিরাজগঞ্জ উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে উনত্রিশ ধানের চাষাবাদ হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে প্রায় ৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে এ ধানের চাষাবাদ হয়েছে।
তবে বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ধান পাকতে শুরু করেছে। আবার অনেক কৃষক ধান কাটতে শুরু করেছেন। তবে আসন্ন রমজান মাস ও করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করায় শ্রমিক সংকটের কারণে চাষিরা ক্ষেত থেকে ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি-না তা নিয়ে রীতিমত দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
এদিকে গত কয়েকে দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ও গরম আবহাওয়ায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই দ্রুত ধান কেটে ঘরে না তুলতে পারলে কালবৈশাখীর ছোবলে বিপুল পরিমাণ ধান ক্ষেতেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্ত জুড়ে শুধু ধান আর ধান। গাঙ খননে জলাবদ্ধতা না থাকায় এ বছর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, নাটোর, গুরদাশপুর ও চাটমোহর উপজেলায়, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ২২ হাজার ৫২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও ধানের মূল্য বেশি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬০০ হেক্টরের বেশি জমিতে উনত্রিশ আবাদ হয়েছে।
তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহেশরৌহালী গ্রামের কৃষক সোহরাব আলী জানান, গাঙ খননের সুফল আমরা পাচ্ছি।
আবহাওয়া ও প্রকৃতির কারণে এবং গাঙ খননে জলাবদ্ধতা না থাকায় গতবারের চাইতে এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে আবহাওয়া ভালো, তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাল বৈশাখীর ঝড়ে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ১০-১২ দিনের মধ্যে পাকা ধান কাটা ও মাড়াইয়ে বিলম্ব হলে বৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই মাঠ থেকে ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত চিন্তার শেষ নেই।
তাড়াশ ইউনিয়নের নওগাঁ মহেশরৌহালী গ্রামে তোফাইল সরদার জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর উনত্রিশ ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তিনি প্রায় ৩ একর জমিতে উনত্রিশ ধানের আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের শুরু করবেন। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে ঠিকমত ধান ঘরে তুলতে পারব। তবে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
নওগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজনু জানান, গতবছরের তুলনায় এবছর ধান ভালো ও রোগ বালাই কম। তাছাড়া উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শেই কৃষকরা ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তবে ধান কেটে ঘরে না তোলা পর্যন্ত কৃষকের চিন্তার শেষ নেই।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার পারভীন বলেন, বোরো মৌসুমে কৃষক যাতে লাভবান হয় সেজন্য আমরা নজর রেখেছি ও পরামর্শ দিয়েছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সতর্কতার বিষয়ে আগেই আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। ধানের শীষ ৮০ শতাংশ পাকলেই তা কেটে নিতে বলা হচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এবছর আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬০০ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় উনত্রিশ ধান, ব্রি ২৮ বেশি পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। তাছাড়া উনত্রিশ ধান ৬৭, বিনা-১০ হাইব্রিড ধানের চাষ ও কিছু এলাকায় লবন সহিষ্ণু ধান চাষাবাদ হয়েছে। ‘অধিক ফলনের জন্য পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং সার্বিক পরিচর্যায় কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। ফলন হয়েছে বাম্পার। তবে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে পুরো ধান পাকার আগেই কেটে ফেলার পরামর্শ দেন তিনি।

এপ্রিল ১৭
০৩:৩৮ ২০২১

আরও খবর