Daily Sunshine

লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে মানুষের সমাগম

Share

স্টাফ রিপোর্টার : দেশজুড়ে সর্বাত্মক লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার রাজশাহীর চিত্র ছিল কিছুটা ঢিলেঢালা। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তৎপর থাকলেও, তাদের চোখ এড়িয়ে মানুষকে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পড় পড়া-মহল্লায় মানুষের আড্ডা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার, ইফতারি ও চিকিৎসার নাম করে মানুষকে বাইরে ঘুরতে ও আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এদিকে গত দুইদিনে রাজশাহী মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানার অর্থ আদায় কারেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাধারণ মানুষের অসচেতনতায় রাজশাহীতে করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে গত ২৫ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ৬৪ জন মারা গেছেন। যাদের অধিকাংশই করোনা আক্রান্ত নয়তো সন্দেহভাজন (উপসর্গ) রোগী ছিলেন। মৃতের সারিতে দুই জন চিকিৎসকের নামও রয়েছে। বৃহস্পতিবার মারা গেছেন ৮জন। যাদের মধ্যে ৫জন করোনা পজিটিভ এবং ৩জনের উপসর্গ ছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, গেল বছর মার্চ মাসে রাজশাহীতে করোনা রোগী শনাক্তের পর এপর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৭৫ জনের করোনা ধরা পড়ে। প্রতিদিন এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবছর শনাক্তের হার গেল বছরের চাইতে বেশি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের করোনা পরীক্ষা ল্যাবে ২৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৭ জনের করোনা ধরা পড়ে।
বুধ ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বুধবার লকডাউনের প্রথম দিন নগরীর রাস্তা ঘাটে মানুষের উপস্থিত ছিল একেবারেই কম। এদিন বাইরে বেরহওয়া মানুষকে পদে পদে কৈফিয়ত দিতে হয় ভ্রাম্যমান আদালত ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে। অটো ও রিক্সার টায়ারের চাকার পাম ছেড়ে দিতে দেখা যায় রাস্তায় থাকা পুলিশকে। তবে দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার এই চিত্র ছিল কিছুটা ভিন্ন। সড়কে পুলিশের উপস্থিতিও ছিল প্রথম দিনের তুলনায় কম। এদিকে সন্ধ্যার পর রাজশাহীর বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় এলাকাবাসীকে ঘুরতে দেখা গেছে। চায়ের দোকানপাট কৌশলে খুলে রাখা হয়। নয়তো ছোট ফ্লাক্সে করে ভ্রাম্যমান চায়ের দোকান ঘিরে এলাকাবাসীকে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এক কথায় বলতে গেলে, সুযোগ পেলেই মানুষ বাইরে ভিড় করছে। রাজশাহীর বাইরে থেকে রাজশাহীতে প্রবেশ করলেও বাড়িতে কেউ কোয়ারেন্টাইনে থাকছে না। এতে করে নিজের পরিবারের পাশাপাশি সমাজকেও তারা করোনার সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলছেন।
বৃহস্পতিবার রাজশাহী মাহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলা করে ৭৪ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। আর আগে বুধবার ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে মোট ২৮ হাজার ৫০ টাকা আদায় করা হয়। লকডাউন পর্যবেক্ষণে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলকে প্রথম দিন রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় টিহল দিতে দেখা যায়। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম জানান, লকডাউন শতভাগ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মাঠে কাজ করছে প্রশাসন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌাস জানান, করোনা প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। রাজশাহীর বাইরে থেকে কেউ রাজশাহীতে প্রবেশ করলে বাড়িতে অন্তত ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এবার কোয়ারেন্টাইনে কাউকেই থাকতে দেখা যাচ্ছে না। মাস্ক পড়তে হবে। করোনা শনাক্তের শুরু থেকেই চিকিৎসাধীন থাকলে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
রামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামীম ইয়াজদানী জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ৫টি ওয়ার্ডে মোট ১৬০টির বেশি বেড প্রস্তুর রাখা হয়েছে। আইসিইউ ইউনিটে বেড রয়েছে ১০টি। হাউফ্লো নোজেল ক্যানোলা বেডের সুবিধা রয়েছে ২০টিতে। অন্যগুলো সাধারণ বেড। তবে প্রতিটি করোনা ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা আছে। হাসপাতালে ভিভিআইপিদের জন্যে একটি কেবিন ও একটি আইসিইউ সুবিধা রাখা হয়েছে।

এপ্রিল ১৬
০৩:৪০ ২০২১

আরও খবর