Daily Sunshine

রাস্তার পাশে ধুলাবালির মধ্যে চলে মাংস বিক্রি

Share

মিজানুর রহমান, চারঘাট: সন্ধ্যার সময় মাইকিং চলছে বিশাল এড়ে গরু জবাই করা হবে। চলে আসেন সকাল সাতটার সময় মীরগঞ্জ বাজারে। এভাবে প্রতিদিনই সন্ধ্যা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ভ্যানযোগে চলে মাইকিং। কিন্তু পরের দিন সকাল সাতটার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে দেখছেন এখানে গরু জবাই করা হয়নি, হচ্ছে গরুর মাংস বিক্রি। প্রশ্ন উঠেছে বিক্রি হওয়া এসব মাংস সুস্থ্য গরুর, নাকি রোগাক্রান্তে গরুর। জীবিত গরুর, নাকি মরা গরুর মাংস। এ নিয়ে স্থানীয়রা গরুর মাংস বিক্রেতাদের বার বার প্রশ্ন করলেও উত্তর দেন না তারা। এভাবেই প্রতিনিয়তই ক্রেতাদের সঙ্গে চলছে রমরমা প্রতারনার বানিজ্য।
অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে মোবাইল ফোনে স্থানীয়রা একাধিকবার অভিযোগ করেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এসব প্রতারক গরুর মাংস বিক্রেতাদের। ফলে তারা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া।
মীরগঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিনই সন্ধ্যা হলেই শুরু হয় মাইকিং। বড় এড়ে গরু জবাই করা হবে। চলে আসেন সকাল সাতটায়। এভাবে মাইকিং করা হলেও গরু দেখা মেলেনা। তবে সকাল হলেই গরুর মাংস হাজির। এসব গরুর মাংস কোথায় থেকে নিয়ে আসা হয়, সুস্থ গরু, নাকি অসুস্থ গরুর মাংস। জীবিত নাকি মরা গরুর মাংস। তা কেউ জানে না। তারপরও এভাবেই চলছে মাংস বিক্রি। এছাড়াও এসব মাংস বিক্রেতাদের মাংস বিক্রির লাইসেন্স আছে কিনা তাও জানে না বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে মীরগঞ্জ বাজারে মাংস বিক্রির জন্য সরকারী ভাবে নির্ধারিত জায়গা থাকলেও সেখানে মাংস বিক্রি না করে ধুলাবালির মধ্যে রাস্তার ধারে চলছে মাংস বিক্রি। একাধিক ব্যবসায়ী নির্ধারিত জায়গায় মাংস বিক্রির কথা বললেও প্রভাবশালী মাংস বিক্রেতারা কথা শুনেন না কারোর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মীরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গরু জবাই না করে এভাবে মাংস বিক্রি নিষেধ করলেও তারা অলৌকিক শক্তির বলে প্রতিদিন মাইকিং করে প্রতারনার মাধ্যমে মাংস বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন। তাছাড়া সরকারী নিদের্শনা অনুযায়ী নেই মাংস বিক্রির দামের তালিকা। ইচ্ছা মতোই আদায় করা হয় মাংসের দাম।
মীরগঞ্জ এলাকার একজন কলেজ শিক্ষক জানান, মহামারী করোনার মধ্যে এসব গরুর মাংস বিক্রি করছেন অনেকটা সরকারী নিয়মনীতি উপেক্ষা করে। রাত পোহালে। মাংস পাওয়া গেলেও এসব মাংসের গুনগত মান ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য যেন কেউ নেই। রাস্তার ধারে ধুলাবালি আর মশামাছির মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রির কারণে পরিবেশ মারাক্তক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় রোগাক্রান্ত ও মরা গরুর মাংস বিক্রির কারণে মাংস বিক্রেতাদের জেল জরিমানার ঘটনাও ঘটেছে একাধিকবার। তার পরেও কিছু অস্বাধূ মাংস বিক্রেতারা স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী মাংস বিক্রি করে আসছেন। তাই দ্রুত এসব অবৈধ মাংস বিক্রেতাদের চিহিৃত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
বিষয়টি সম্পর্কে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা জানান, নির্ধারিত জায়গার বাইরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রিকারী সেইসঙ্গে লাইসেন্স বিহীন বা গরু জবাই না করে মাংস বিক্রি কারীদের চিহিৃত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংস বিক্রিসহ যারা লাইসেন্স বিহীন বা শুধু মাংস বিক্রি করবেন তাদের চিহিৃত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে দ্রুত।

এপ্রিল ১৩
০৬:১৪ ২০২১

আরও খবর