Daily Sunshine

বিভাগে ৬ জনের মৃত্যু, রিপোর্ট নেগেটিভ, তবু করোনায় মারা গেলেন চিকিৎসক

Share

স্টাফ রিপোর্টার: করোনা রিপোর্টে ফলাফল নেগেটিভ। কিন্তু এরপরেও অসুস্থবোধ করছেন অনেকেই। ধিরে ধিরে অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ছে। অনেকে মারাও যাচ্ছে। করোনার এই ধরনের নতুন আক্রমনের কৌশল চিন্তায় ফেলতে শুরু করেছে চিকিৎসদের।
বগুড়ায় করোনার উপসর্গ নিয়ে গাজী সাইফুল আলম চৌধুরী (৬২) নামে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। করোনা পরিক্ষায় নেগেটিভ এসেছিল। কিন্তু পরে অসুস্থবোধ করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে বাঁচানো যায়নি তাকে। অবশেষে মারা যান তিনি।
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ডা. গাজী সাইফুল আলম চৌধুরী অসুস্থতাবোধ করলে ৫ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ৭ এপ্রিল বুধবার শজিমেকের আরটি পিসিআর ল্যাবে তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু অবাক বিষয় পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন সিটি স্ক্যান করে তার ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা যায়। তাছাড়া তার অক্সিজেনের মাত্রাও কমে যেতে থাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডা. গাজী সাইফুল আলম চৌধুরী মারা যান।
শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এখন এমন অনেক রোগি পাওয়া যাচ্ছে যাদের আরটি-পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট আসছে। কিন্তু করোনা নেগেটিভ হলেও তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে- এমনকি মৃত্যুও হচ্ছে। এটা আমাদের খুব ভাবিয়ে তুলেছে।
মরহুম গাজী সাইফুল আলম চৌধুরীর চাচাতো ভাই সরকারি আজিজুল হক কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরী বলেন, শনিবার বাদ আসর গাবতলী উপজেলার দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের উজগ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ওয়ার্ড ও আইসিইউতে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।
তিনি বলেন, যে পাঁচজন মারা গেছে তাদের শ্বাসকষ্টসহ করোনারসব উপসর্গ ছিল। তাদের নমুনা সংগ্রহ করার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের দাফন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মৃতরা হলেন, নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকার হাবিবুরের মেয়ে মনোয়ারা (৫০), গোদাগাড়ীর খেতুর গ্রামের কবিরাজের মেয়ে শ্যামলী (৩০), চাঁপাইনবাবগঞ্জের রুহুল আমিন (৬০)।
এদের মধ্যে শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ৩০ নং করোনা ওয়ার্ডে মনোয়ারা, করোনা আইসিইউতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শ্যামলী ও রাত সাড়ে ৩টার দিকে ২৯ নং করোনা ওয়ার্ডে রুহুল আমিন মারা যান।
অপর দুইজন শনিবার সকালে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। দুপুর পর্যন্ত ওয়ার্ড মাস্টারের তালিকায় তাদের নাম না আসায় পরিচয় জানা যায়নি।
ডা. সাইফুল জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৪৫ জন রোগি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে রাখা হয়েছে নয়জনকে। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৫ জন। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় এ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে তিনজন ও বুধবার পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুল আহসান জানান, রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয় জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ৭৪ জন, নওগাঁয় একজন, জয়পুরহাটে ১২ জন, বগুড়ায় আটজন, সিরাজগঞ্জ ১৯ জন ও পাবনায় ২৩ জন।

এপ্রিল ১১
০৬:১৮ ২০২১

আরও খবর