Daily Sunshine

এবারের লকডাউনে চাইলেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না

Share

সানশাইন ডেস্ক: মানুষ ইচ্ছে হলেই ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে আসতে পারবে না। এটা যেকোনও মূল্যে নিশ্চিত করা হবে। এরকম কঠোর বিধিনিষেধসহ আগামী বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে আপাতত সাত দিনের জন্য সারাদেশে সার্বাত্মক লকডাউন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই মুহূর্তে আর কোনও উপায় না দেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া না গেলে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। এ সময় সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মানতে হবে। এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সরকারের ওপরমহল থেকে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র জানিয়েছে, মেহনতি মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে কড়া লকডাউন দিতে চায়নি সরকার। কিন্তু একদিকে করোনার বেপরোয়া সংক্রমণ ও মৃত্যু, অপরদিকে এই সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেওয়া নিয়মনীতি মানার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চরম অবজ্ঞা কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। এবারের এক সপ্তাহের লকডাউনকে বলা হচ্ছে কমপ্লিট বা ফুল লকডাউন। মানুষ চাইলেই ঘরের বাইরে বের হতে পারবে না। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে আসতে বা ঘোরাঘুরি করতে দেওয়া হবে না। যেকোনও মূল্যে ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করা হবে।
সরকারের ওপর মহলের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাস্থবিধি মানাসিহ অন্যান্য বিধিনিষেধের প্রতি জনসাধারণের অবহেলায় খুবই ক্ষুব্ধ সরকারের নীতিনির্ধারকরা। গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া ১৮ দফা নির্দেশনা জনসাধারণ মানেনি। নানাভাবে আনুনয় বিনয়ের পরেও মুখে মাস্ক পড়ানো যায়নি। ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ এখনও মাস্ক থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখেন। পুলিশ দেখলে মুখে তোলেন। ১৮ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে পারলে সংক্রমণের হার নিচের দিকে নামতো। বাধ্য হয়ে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন, শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রেখে অফিস আদালত সীমিত পরিসরে খোলা রেখে কঠোর নির্দেশনা বা আংশিক লকডাউন দিতে বাধ্য হয়। তবে এই ১০ দফা নির্দেশনা বা আংশিক লকডাউন দেওয়ার দুই দিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে বাধ্য হয় সরকার।
শুরুতে গণপরিবহন চালু করা হলো। এক্ষেত্রে দেওয়া ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া আদায় ছাড়া কোনও শর্তই বাস্তবায়ন হয়নি গণপরিবহনে। পরের দিন নৌপথে চলাচলের জন্য নৌযান খুলে দেওয়া হলো। সেখানেও বাড়তি ভাড়া আদায় ছাড়া কার্যকর হয়নি কোনও শর্ত। এর পর ব্যাপক দাবি ও বিক্ষোভের মুখে খুলে দেওয়া হলো শপিংমল ও দোকান পাট। রাস্তায় নামলো সাধারণ মানুষের ঢল। মোবাইলের কভার পরিবর্তন, ঈদের জন্য জামা-কাপড়ের নতুন ডিজাইন দেখতে, বাজারের অবস্থা বুঝতে মানুষ ছুটতে লাগলো শপিংমলের দিকে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। একদিকে রাস্তায় মানুষের ঢল, অপরদিকে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রতিযোগিতা পাল্লা দিয়ে যেন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বাধ্য হয়ে সোমবার ১৪ এপ্রিল থেকে আপাতত সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশানুরূপ ফল না মিললে সময়সীমা বাড়বে- এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এবারের সাত দিনের লকডাউনে মানুষ যে যেখানে আছেন, সেখনেই থাকবেন। কেউ কোনও অজুহাতেই এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে পারবেন না। সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্বসাশিত আধা স্বায়ত্বশাসিত সব ধরনের অফিস-আদালত ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। চলবে না কোনও গণপরিবহন। বন্ধ থাকবে প্রাইভেট গাড়ি, লঞ্চ, ট্রলার জাহাজসহ কোনও প্রকার যানবাহন। এমনকি রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ইত্যাদিও বন্ধ রাখার পরিকল্পনা চলছে। এই সময় বন্ধ রাখতে হবে সব রকমের নির্মাণ কাজ। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ওষুধ সংগ্রহ বা রোগী হাসপাতালে নেওয়া ছাড়া সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। লাশ দাফন বা সৎকারে থাকবে না কোনও বিধিনিষেধ। তবে জরুরি প্রয়োজনে নদীতে চালু রাখা হবে ফেরি চলাচল।
সেবাদানের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন ফায়ার সার্ভিস খোলা থাকবে। খোলা থাকবে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ওষুধের দোকান। দিনে খুবই সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকবে কাঁচাবাজার। তবে সেখানে মানতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। লাইন ধরে তিনফুট দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনতে হবে। পুরোপুরি বন্ধ থাকবে সব ধরনের শিল্পকারখানা, গার্মেন্টস। সব কিছুই লকডাউনের আওতায় থাকবে। সংক্রমণ রোধে প্রত্যেক মানুষকে এই লকডাউন মানতে হবে।
সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রবিবার (১১ এপ্রিল) বিকাল নাগাদ জারি করা আদেশে জানা যাবে পুরো বিধিনিষেধ। এবারের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর থাকবে প্রশাসন। মাঠে নামানো হতে পারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বা সেনাবাহিনীর সদস্যদের। এর আগে কেবিনেট সচিবের নেতৃত্বে প্রধানন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সরকারের সব সিনিয়র সচিব, সচিবসহ তিন বাহিনী প্রধানদের প্রতিনিধি, গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান বা প্রতিনিধি, পুলিশ, বিজিবি, আনসার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকতারা জুমে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকেই সাত দিনের কঠোর লকডাউনের নিধিনিষেধ চূড়ান্ত করা হবে। এর পরই জারি করা হবে প্রজ্ঞাপন। আগামী ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন দিতে যাচ্ছে সরকার।
এ বিষয়ে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) আগাম ইঙ্গিত দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একই সুরে কথা বলেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তারা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য সারাদেশে কঠোর লকডাউন দেওয়া হবে। ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই সিদ্ধান্ত ছাড়া আমাদের হাতে অন্য কোনও উপায় নাই। যে কোনোভাবেই হোক মানুষকে ঘরে রাখতে হবে। সরকার এই লকডাউন বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শেখ ইউসুফ হারুন জানিয়েছেন, অফিসিয়াল আদেশ বা নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি। রবিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং সিনিয়র সচিবদের সমন্বয় মিটিং হবে। সেখানেই অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত হবে।

এপ্রিল ১১
০৫:৫৬ ২০২১

আরও খবর