Daily Sunshine

রামেকের করোনা ওয়ার্ডে ফাঁকা নেই বেড

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি ১৬০টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। তবো রোগীদের চাপে এখন আইসিইউসহ কোন বেডই আর ফাঁকা নেই। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি রাজশাহীতে হঠাৎ করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই আক্রান্তদের অধিকাংশই রাজশাহীর স্থানীয় হলেও তারা সম্প্রতি জেলার বাইরে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন বা রোগটি বহন করে নিয়ে এসেছেন। এছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগে উন্নত চিকিৎসা হওয়ায় আশপাশের অনেক জেলার রোগীরাও রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে ভিড় করছেন।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোন পরীক্ষার দ্বিতীয় ল্যাবটি দুই মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রথম ল্যাবে নমুনা জট বৃদ্ধি পেয়েছে। রামেক হাসপাতালের ল্যব কর্তৃপক্ষের দাবি জনবলের অভাবে তারা ল্যাবটি চালু করতে পারছে না। প্রথম ল্যাব সংশ্লিষ্টদের দেয়া সূত্র মতে, এখন প্রায় ৭৫০ জনের নমুনা পড়ে রয়েছে। একটি ল্যাবে ৪ সিফটে পরীক্ষা করেও এই জট কমানো সম্ভব হচ্ছে না। রাজশাহীর এই ল্যাবে রাজশাহী জেলা ছাড়াও জয়পুরহাট, নাটোরসহ আশপারেশ অন্যান্য জেলার মানুষের নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়।
শুক্রবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের করোনা পরীক্ষা ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পর ১০৪ জনের করোনা ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে রাজশাহীর ৯১ জন। বাকি ১৩ জন জয়পুরহাট জেলার। এদিন ল্যাবে মোট ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ল্যাবটির ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনেহারা। রাজশাহীতে শনাক্ত ৯১ জনের মধ্যে অধিকাংশই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগী। এছাড়া রাজশাহী নগরীর ১০জন এবং দুই জন দুর্গাপুরের ও দুইজন পাবা উপজেলার বাসিন্দা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান এবং করোনা পরীক্ষা ল্যাবে ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনেহারা জানান, রাজশাহীতে একটি ল্যাব চালু থাকায়, ল্যাবটিতে চাপ বেড়েছে। প্রতিদিন তাদেরকে পৌনে চারশো জনের নমুনা পরীক্ষা করতে হচ্ছে। মাত্র ১২ জন জনবল দিয়ে তাদেরকে ল্যাবটি পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন তাদের জনবল ঝুঁকিতে পড়ছেন, একই ভাবে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ল্যাবের যন্ত্রাংশ বিকল হবার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে ল্যাবে নমুনা জট বৃদ্ধি পায়েছে।
রাজাশাহী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. নওশাদ আলী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের জন্য ১৬০টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে ১০টি আইসিইউ বেড। হাই ফ্লো ক্যানোলা আছে ২৩টি। করোনায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের এই বেডগুলোতে রাখা হয়েছে। আর সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম যেসব ওয়ার্ডে আছে সেসব ওয়ার্ড করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম সংস্কার করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ঢেলে সাজানো হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামিম ইয়াজদানি জানান, হাসপাতালের প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত রোগী অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এধরণের রোগীর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে হাসপাতালে প্রতি নিয়তই বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গেল বছরের শেষর দিকে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন আবারো রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৯ ও ৩০ এর পাশাপাশি ২৫, ২৭ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ওয়ার্ডগুলোতে আগে অন্য রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হতো।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক আরো জানান, যেহেতু হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে কারণে অন্য যেসব রোগের চিকিৎসা দুই বা তিন মাস পরে দেয়া সম্ভভ তাদের হাসপাতালে ভর্তি করার ক্ষেত্রে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এটা ওই সব রোগীদের স্বার্থেই করা হচ্ছে।
রামেক হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা ল্যাব বন্ধের প্রসঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামিম ইয়াজদানি জানান, ল্যাব টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে আমরা ল্যাব বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি। জনবল চেয়ে স্বাস্থ বিভাগে চিঠি পাঠনো হয়েছে। ল্যাব প্রস্তুত আছে জনবল পেলেই আমরা ল্যাব চালু করতে পারবো।

এপ্রিল ১০
০৬:৪৪ ২০২১

আরও খবর