Daily Sunshine

লকডাউনের প্রথম দিন জীবিকার কাছে উপেক্ষিত জীবন

Share

স্টাফ রিপোর্টার: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সাত দিনের লকডাউন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনগণকে ঘর থেকে বের হওয়ার অনুমতি নেই। কিন্তু এমন নিদের্শনা মানছেই না সাধারণ মানুষ। লকডাউনের প্রথম দিন অন্য স্বাভাবিক দিনের মতোই মানুষের চলাচলের চিত্র ছিল। দুরপাল্লার পরিবহন ছাড়া রিকশা, অটোরিকশা চলাচল ছিল স্বাভাবিক। বাজারগুলোতে ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। যেন জীবিকার কাছে জীবন উপেক্ষিত।
বিগত সময়ের লকডাউন জনজীবনকে যেমন স্থবির করে তুলেছিল, খেটে খাওয়া মানুষের অর্থনীতিতেও নানাভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কমবেশি সব মানুষই হয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত।
লকডাউনের সময়ে দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল মানুষ, এমনকি স্বল্প আয়ের মাসিক বেতনভুক্ত মানুষের আয়ের পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আগের লকডাউনের পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ মানুষের হিমশিম অবস্থা। তার উপরে নতুনভাবে লকডাউন মানুষকে চিন্তায় ফেলেছে।
দীর্ঘদিনের করোনার প্রভাবে শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালক, স্কুটার ও ট্যাক্সিচালক, অন্যান্য পরিবহনশ্রমিক, ছোট দোকানদার, রাস্তার বিক্রেতা, নাপিত, বিউটি পারলারের কর্মী, আবর্জনা তোলার শ্রমিক, খণ্ডকালীন গৃহকর্মী, ইটভাটার শ্রমিক, রাস্তার পাশের খাদ্য বিক্রেতা, হোটেল এবং রেস্তোরাঁর শ্রমিক, ব্যক্তিপর্যায়ে কাজ করা বা বাণিজ্যিক ড্রাইভার, পণ্যবাহী শ্রমিক, কাঠমিস্ত্রি, ই-কমার্সের ডেলিভারি কর্মী এবং আরও অনেক অনানুষ্ঠানিক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখনও বেশির ভাগ উপার্জনহীন। মাঝে করোনা প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ার কারণে অনেকেই বিপর্যয় কাটিয়ে নিজ কর্মে ফেরার চিন্তা করছিলেন। কিন্তু আবার করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় চরম চিন্তায় এসব খেটে খাওয়া মানুষ।
জীবন ও জীবিকার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা এসব মানুষ করোনা মোকাবেলার প্রথম যুদ্ধে জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত থাকলেও এমন তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ এবার জীবনের চেয়ে জীবিকাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার এলাকায় একটি হোটেলে কাজ করেন রুবেল। তিনি বলেন, মাত্র কিছুদিন আগেই বাড়ি থেকে এসে তিনি কাজ নিয়েছি। সামনে রমজান ও ঈদ। কিছু টাকা উপার্জন করে পরিবারের কাছে ফিরতে চেয়েছিলাম। লকডাউনের কারণে এখন কিছুই মাথায় আসছে না। সংসার চালাব কীভাবে? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসের মালিক জানান, গতবছর লকডাউনের কারণে অনেক টাকা গুণতে হয়েছে। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারা যায়নি। বছর পার না হতেই আবার লকডাউন। এবার পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
নগরীর নিউমার্কেট এলাকার রিকশাচালক জাহিদ বলেন, একদিন রিকশা না নিয়ে রাস্তায় বের হলে বাড়িতে ভাত হয়না। বউ, ছাওয়ালেরা না খাই থাকে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা তৌহিদ হাসান নামে একজন বলেন, আগের লকডাউনে চাকুরি হারিয়েছি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনভাবে আরো একটি চাকুরি জুটিয়েছি। এমন পরিস্থিতিতে এ চাকুরিটা থাকে কি না সন্দেহ। সামনে রমজান ও ঈদ। করোনার পরিস্থিতি থেকেও ভয়াবহ পরিবার-পরিজনকে নিয়ে না খেয়ে থাকা।
সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা ১৮ দফায় সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে রাজশাহীর অনেক এলাকায় তা উপেক্ষিত হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব, সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা নিশ্চিত করা যায়নি।
সোমবার রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার, লক্ষ্মীপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম। কিছু সময় পরপর মাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু তোয়াক্কা করছেন না কেউ। অনেকের মাস্ক নেমে এসেছে থুতনির নিচে। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন না কেউই।
এদিকে, রাজশাহীতে মার্কেট খোলার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ব্যবসায়ীরা। সোমবার বেলা ১১টার পর সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের সামনে জড়ো হয়ে ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারিরা। পরে সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ শুরু করে।
পরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। এর পর দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীরা রাস্তা ছেড়ে চলে যায়।
ব্যবসায়ী কাজল হোসেন বলেন, আমরা উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ ডিসি সাহেবের সাথে কথা বলেছি। আলোচনা করে কালকে জানাবেন। যদিও কোন রকম দোকান খোলার সিদ্ধান্ত না হয়; আমরা সবাই নিজে নিজে দোকান খুলে ফেলবো।
রাজশাহী কাপড়পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামিম বলেন, গত বছর লকডাউনের কারণে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠিক মতো ঈদ করতে পারেনি। লকডাউন চলছে চলুক, আমাদের একটা সময় বেধে দিলে ভালো হবে।

এপ্রিল ০৬
০৫:৫৫ ২০২১

আরও খবর

Subcribe Youtube Channel

বিশেষ সংবাদ

কী বন্ধ, কী খোলা জেনে নিন

কী বন্ধ, কী খোলা জেনে নিন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে, বন্ধ থাকছে যানবাহনও। বিধি-নিষেধ থাকছে সার্বিক কার্যাবলী ও চলাচলেও। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বন্ধ থাকছে: সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সকল প্রকার পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এ সময়ে টিকা কার্ড নিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন

বিস্তারিত