Daily Sunshine

উন্মুক্ত তিন বিলে নামতে পারছে না মৎস্যজীবীরা

Share

মাহবুব সোহেল: রাজশাহীর মোহনপুরে উন্মুক্ত জলাশয়ে নজর পড়েছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের। তারা প্রকৃত মৎস্যজীবিদের মাছ ধরতে বাধা দিয়ে আসছে। এ নিয়ে মৎস্যজীবিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে মৎস্যজীবিরা।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জনসংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ২১ জন। খাস জমির পরিমান ১ হাজার ৮৯৪.৫৬ একর। উন্মুক্ত জলাশয় ৬টি, প্লাবনভূমি ১২টি, নদী ২টি। পরিচয়পত্র প্রাপ্ত মৎস্যজীবি ১ হাজার ৮৫৪ জন। মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তারা মাছ ধরে বিভিন্ন হাটে বাজারে বিক্রি করে পরিবার ও ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করান।
গত একবছর ধরে চলমান করোনাকালে সরকার মৎস্যচাষীদের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ১৮ জন মৎস্যচাষীকে লোন দিলেও মৎস্যজীবিদের কপালে জোটেনি কোন সরকারী সহায়তা।
এতদিন তারা প্রাকৃতিক জলাশয় বাকশিমইল ইউপির বিল কাটরা বিল, ধুরইল ইউপির বড় বিল ও কেশরহাট পৌর এলাকার ইচলাবাড়ি বিল হতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। বর্তমানে বিলগুলি দখলে নিয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সাঙ্গপাঙ্গোরা।
বিল দখলে নিয়ে তাবু খাটিয়ে নিয়মিত পাহারা বসিয়ে মৎস্যজীবিদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে জলাভূমি হতে মাছ ধরতে দিচ্ছেন না।
সরকার জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের উদ্দ্যেগে বিভিন্ন বিলে নানা প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করছেন। কিন্ত দলীয় নেতা কর্মীরা বলছেন তারা সরকারীভাবে উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের বিল কাটরা বিল ও ধুরইল ইউনিয়নের বড় বিল ও কেশরহাট পৌর এলাকার ইচলাবাড়িসহ উন্মুক্ত জলাশয়গুলিতে মাছ ছেড়েছেন ও জলাশয়গুলি সরকারিভাবে লীজ নিয়েছেন। অথচ উপজেলা ভূমি অফিস বলছে জলাশয়গুলো লীজ দেওয়া হয়নি।
এবিষয়ে উভয়ের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জলাভূমি হতে মৎস্যজীবিদের মাছ ধরতে বাধা দেওয়ার কারণে যেকোন সময় উভয়ের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় ভূক্তভোগী মৎস্যজীবি আবু সাইদ, রুস্তম, শফিকুল, ইয়াকুব, রবিউল, জুনাবসহ ৫৮ জন স্বাক্ষরিত অভিযোগ রাজশাহী জেলা প্রশাসকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করেছেন।
অভিযোগে সুত্রে জানা গেছে, ধুরইল ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের সমসেরের ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী শহিদুল ইসলাম, কফিলের ছেলে টিপু, অহির উদ্দিনের ছেলে বিএনপি নেতা আজিম, আতাবের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন, জিল্লুর রহমানের ছেলে মুকুল, সিদ্দিকের ছেলে আলিম উদ্দিনসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রাকৃতিক জলাভূমি হতে মাছ ধরতে বাধা প্রদান করে আসছেন। তারা জলাভূমির পাশে তাবু খাটিয়ে পাহারা বসিয়েছেন যাতে কেউ ওই জলাভূমি হতে মাছ ধরতে না পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সাবধান করা হলেও দলীয় শক্তির বলে তারা মৎস্যজীবিদের হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, তারা আদিকাল থেকে জলাশয়গুলো হতে মাছ ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের মাছ শিকারতো দূরের কথা এর কাছে না যেতে নানা রকম হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। বর্তমানে রবি মৌসুমে বোরো ধানে পানি সেচ দিতে এ জলাশয়গুলি থেকে কৃষকদের পানি উঠাতে দেওয়া হচ্ছেনা। প্রতিবাদ জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মৎস্যজীবি আবু সাইদ, রুস্তম আলী, ইয়াকুব, মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, আমরা জন্মের পর থেকে বিল কাটরা ও বড়বিলসহ বিভিন্ন বিলে মাছ ধরে আসছি। এখান থেকে মাছ ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা আমাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। সরকার আমাদের মৎস্যজীবি কার্ড করে দিয়েছেন সে জন্য আমরা গর্বিত। কিন্তু হঠাৎ করে স্থানীয় একটি চক্র সরকারের দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আমাদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন।
তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ভাঙ্গিয়ে বলছেন তিনি জলাভূমি থেকে আমাদের মাছ ধরার অনুমতি দিয়েছেন। যদি তাই হয় আমরা গরিব মানুষ মাছ ধরে তা হাটে বেচে জীবিকা নির্বাহ করি। মাছ ধরতে না পারলে পরিবার পরিজন নিয়ে খাবো কি?
ধুরইল বড়বিল নিয়ে খোঁজ নিলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধুরইল ইউনিয়নের একাধিক কৃষক ও মৎসজীবি বলেন, তারা রবি মৌসুমে বোরো ধান রোপন করেছেন ধানে পানি সেচ দিতে বড় বিলের খাল হতে পানি তুলতে গেলে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ নেতার নির্দেশে জিনু, আবজাল, সোহেল, মিনারুল, মালেক, ছইফুল, চৌকিদার খোরশেদসহ ২০-২৫ জন পানি তুলতে দিচ্ছে না এবং আমাদের সাথে মারমুখী আচরণ করেন।
তারা তাবু খাটিয়ে খাল পাহারা দিচ্ছেন যাতে খাল থেকে কেউ মাছ ধরতে না পারে। তারা স্থানীয় মৎস্যজীবিদের খাল হতে মাছ ধরতে দিচ্ছে না। বর্তমানে এ খালে কয়েক লাখ টাকার মাছ রয়েছে।
এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাকৃতিক জলাভূমি হতে মৎস্যজীবিদের বৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার অগ্রাধিকার রয়েছে। এছাড়াও যে কেউ মাছ ধরতে পারবে। বিশেষ কোন গোষ্ঠী বা দল মাছ ধরতে কোন প্রকার বাধা নিষেধ করতে পারেন না।
এবিষয়ে ইউএনও সানওয়ার হোসেন বলেন, জলাশয়গুলো ইজারা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে বাধাদানকারীদের নিষেধ করা হয়েছে। কথা না শুনলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মার্চ ৩১
০৬:১০ ২০২১

আরও খবর

Subcribe Youtube Channel

বিশেষ সংবাদ

ঈদের আগে ৫০ লাখ পরিবার পাচ্ছে আর্থিক সহায়তা

সানশাইন ডক্সে; করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ গরিব পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। প্রত‌্যকে পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ঈদের আগে মোবাইলের মাধ্যমে সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার হিসেবে এ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এ সময়ে টিকা কার্ড নিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন

বিস্তারিত