Daily Sunshine

রাজশাহীতে সড়ক ট্রাজেডি বাস-মাইক্রোর বেপরোয়া গতিই দুর্ঘটনার কারণ

Share

স্টাফ রিপোর্টার : মহাসড়কে একটি বাঁশবাহী ভ্যান আর বেপরোয়া বাস-মাইক্রোবাসের গতির কারণেই রাজশাহীর কাটাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কাটাখালী থানার সামনে এ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৭ জনসহ মাইক্রোবাসের সব যাত্রীই পুড়ে মারা যায়।
রাস্তার পাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দুর্ঘটনার এ দৃশ্য। তাতে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশের গাছতলায় আগে থেকেই একটি সাদা রঙয়ের লেগুনা দাঁড়িয়েছিল। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বাঁশ নিয়ে একটি ভ্যান রাজশাহীর দিকে যায়। পেছন থেকে কালো রঙের মাইক্রোবাস ভ্যানটিকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। ওই সময় দ্রুতগামী হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস চলে এলে মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ছিটকে গিয়ে বাসটি থানার সামনের মহাসড়ক থেকে নেমে গিয়ে গাছের সঙ্গে আটকে যায়। মাইক্রোবাসটিতে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন পাশে থাকা লেগুনায় ছড়িয়ে পড়ে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুর রশিদ বলেন, বেপরোয়া গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটিতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন ধরে যায়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ সবাই মারা যান।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। হাসপাতালে এদের মধ্যে ছয়জন মারা যান। দুর্ঘটনার পর আগুনে পোড়া মাইক্রোবাসটি থেকে নারী ও শিশুসহ ১১ জনের অঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা সবাই রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। চার পরিবার তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে রাজশাহীতে আসছিল। পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারান তারা।
হাসপাতালে নির্বাক স্বজনরা ॥ এদিকে রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের লাশ নিতে শনিবার সকালেই স্বজনেরা হাসপাতালে এসেছেন। তারা শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন। একসঙ্গে এতজনের লাশ নিতে আসা স্বজনরা জানান, মাইক্রোবাসে ১৮ জন ছিলেন। এদের মধ্যে বেঁচে আছেন শুধু পাভেল (২৭) নামে একজন। তিনি এখন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অচেতন। দুর্ঘটনায় তার বাবা মোখলেসুর রহমান (৪৫) ও মা পারভীন বেগম (৪০) নিহত হয়েছেন।
এছাড়া এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন পীরগঞ্জের রাঙ্গামাটি গ্রামের মো. সালাহউদ্দিন (৩৬), তার স্ত্রী শামসুন্নাহার (২৫), তাদের ছেলে সাজিদ (৮), মেয়ে সাফা (২), শামসুন্নাহারের বড় বোন কামরুন্নাহার (৩৭), উপজেলা সদরের মো. ভুট্টু (৪০), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৪০), ছেলে ইয়ামিন (১৫), বড় মজিদপুরের ফুলমিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫), ছেলে ফয়সাল (১৫) এবং মেয়ে সুমাইয়া (৮), সাবিহা (৩), দুরামিঠিপুরের ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম (৪৬) এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. হানিফ (৩০)। হানিফের বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলার পঁচাকান্দ গ্রামে।
শনিবার সকালে রামেক হাসপাতালে লাশ নিতে এসেছেন স্বজনেরা। এসেছেন নিহত শহীদুল ইসলামের ছেলে নাজমুল হুদাও (২০)। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নাজমুল জানান, উপজেলা সদরে ব্যবসার সুবাদে সবার সঙ্গে সবার বন্ধুত্ব। তারা সবাই প্রতিবছর একসঙ্গে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যেতেন। করোনার কারণে বেশকিছু দিন তাদের বেড়ানো হয়নি। তাই তারা রাজশাহীতে পিকনিক করার জন্য আসছিলেন।
নাজমুল বলেন, খবরটা দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানেই দেখি। টিভি খুলে দেখি একই নিউজ দেখাচ্ছে। এরপর আব্বাকে ফোন করি। নম্বর বন্ধ পাই। গাড়িতে যারা ছিলেন তাদের কয়েকজনকে ফোন করে দেখি তাদের নম্বরও বন্ধ। তখন মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
ফুলমিয়াসহ তার পরিবারের পাঁচজন মারা যাওয়ায় মরদেহ নিয়ে যাওয়ার মতোও কেউ নেই। মরদেহগুলো নিতে এসেছেন প্রতিবেশীরা। অন্যান্য মরদেহের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করেছেন দরদেহের জন্য। বিকেলের মধ্যে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে রাজশাহীর জেলা প্রশাসন।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) আবু আসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিলে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। আর সরকারি খরচে মরদেহগুলো পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নিহত ১৭ জনের লাশ হস্তান্তর : রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) মর্গ থেকে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহত ১৭ জনের মধ্যে আগুনে পুড়ে যাওয়ায় আটজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ময়নাতদন্তের সময় মরদেহগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক আছে এমন ব্যক্তিদেরও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর জন্য। নিহতরা সবাই রংপুরের পীরগঞ্জের বাসিন্দা। মরদেহ দেয়ার সময় প্যাকেটে নম্বর লিখে দেয়া হয়েছে। সেভাবেই স্বজনেরা নিয়ে গেলেন লাশ।
হতাহতের ঘটনায় মামলা ॥ রাজশাহীর কাটাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে বাসচালককে আসামি করে কাটাখালী থানার উপপরিদর্শক নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
চালকের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবেই তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাতে মামলাটি দায়ের করে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর থেকেই চালক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
এর আগে, শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে নগরীর কাটাখালী থানার সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটিতে আগুন লেগে যায়। দুর্ঘটনার পর আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এদের মধ্যে ছয়জন মারা যান। পরে আগুনে পোড়া মাইক্রোবাস থেকে নারী ও শিশুসহ ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭ জন মারা গেছেন। এরা সবাই মাইক্রোবাসের আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া পাভেল (১৯) নামে এক মাইক্রোবাস আরোহী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনায় বাসের হেলপারসহ তিন যাত্রী আহত হয়েছেন। তারাও রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে তাদের অবস্থা ততটা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হতাহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা ॥ রাজশাহীর কাটাখালীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ১৮ মাইক্রোবাস আরোহীর প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন দফতর এ সহায়তা দিচ্ছে। জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ১৮ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তরপ্রক্রিয়া শেষ হলেই এই অর্থ স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী থানার সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটিতে আগুন লেগে যায়। দুর্ঘটনার পর আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাদের মধ্যে ছয়জন মারা যান। পরে পোড়া মাইক্রোবাস থেকে নারী ও শিশুসহ ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৭ জন মারা গেছেন। তারা সবাই মাইক্রোবাসটির আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া পাভেল (১৯) নামের এক মাইক্রোবাস আরোহী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনায় তার বাবা ও মা প্রাণ হারিয়েছেন।

মার্চ ২৮
০৬:২৫ ২০২১

আরও খবর

Subcribe Youtube Channel

বিশেষ সংবাদ

লকডাউনে খোলা থাকবে শিল্প কারখানা

লকডাউনে খোলা থাকবে শিল্প কারখানা

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী বুধবার থেকে কঠোর লকডাউনে জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। তবে বাধ সাধেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকেরা। তাঁরা দাবি করেন, কারখানা বন্ধ করলে ক্রয়াদেশ হারাবে বাংলাদেশ। তা ছাড়া শ্রমিকেরা ছুটিতে গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা দিলে সংক্রমণ আরও ছড়াবে। ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আজ রোববার বেলা তিনটায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৫২ হাজার শুন্যপদের তালিকা প্রকাশ করলো এনটিআরসিএ

৫২ হাজার শুন্যপদের তালিকা প্রকাশ করলো এনটিআরসিএ

বেসরকারি স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলে ৫৪ হাজার ৩০৭ টি পদে শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দ্বায়িত্বে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এনটিআরসিএ।মঙ্গলবার ৩০ মার্চ এ গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।আগামী ৪ এপ্রিল সকাল ১০ টা থেকে ৩০ এপ্রিল রাত ১২ টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। তবে

বিস্তারিত