Daily Sunshine

রাজশাহীতে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

Share

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও রাজশাহী সিভিল সার্জনের আয়োজনে দিবসটি উপলক্ষে স্ট্যান্ডিং র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড শোভিত ষ্ট্যান্ডিং র‌্যালিটি নগরীর ঐতিহ্য চত্ত্বর (ঘোড়া চত্ত্বর) ও সিটি বাইপাস মোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার’। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও রাজশাহী জেলায় জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, ব্র্যাক, ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন, তিলোত্তমা, রিক, আপস, নাটাব, আইসিডিডিআর.বি প্রভৃতি সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ মো. হাবিবুল আহসান তালুকদার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী সিভিল সার্জন ডাঃ মো. কাইয়ুম তালুকদার, বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মো. চন্দন কুমার প্রামানিক, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রন কর্মসূচি রাজশাহী বিভাগীয় টিবি এক্সপাট ডাঃ মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। এর বাইরেও ব্র্যাক, ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন, তিলোত্তমা, রিক, আপস, নাটাব, আইসিডিডিআর.বি প্রভৃতি সহযোগী সংগঠনের কর্মকর্তাগণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তিলোত্তমার মো: আনোয়ার জাহিদ।
আলোচনা সভা থেকে জানা যায়, ১৮৮২ সালের ২৪ মার্চ বিজ্ঞানী রবার্ট কক্ যক্ষ্মা রোগের জীবানু আবিস্কার করেন। এই যুগান্তকারী আবিস্কারের শতবর্ষপূর্তীতে ১৯৮২ সাল থেকে এই দিনটি “বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস” হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
আলোচনায় আরও জানা যায়, বাংলাদেশে যক্ষ্মা একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লক্ষ ৬১ হাজার নতুন যক্ষ্মা রোগী সৃষ্টি হয়। ৩৮ হাজার লোক যক্ষ্মা রোগে মারা যায়। বাংলাদেশ সরকার জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশের প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও নির্দিষ্ট এন.জি.ও ক্লিনিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সরকারের এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে। সাধারণ যক্ষ্মা রোগের সাথে যোগ হয়েছে “ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা” বা “মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এম.ডি.আর) যক্ষ্মা” এর মারাত্মক ঝুঁকি। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ সনাক্ত করতে বিলম্ব হওয়ায় ও সঠিক নিয়ম মেনে চিকিৎসা গ্রহন না করার কারনে এই পরিস্থিতি তৈরী হয়। বর্তমান যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রাথমিক অবস্থায় দ্রুততার সাথে রোগ সনাক্ত করা, ডিরেক্টলি অবসার্ভড ট্রিটমেন্ট (ডট/ ডিওটি)পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ নিশ্চিত করা। এই চ্যালেঞ্জ সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারলেই কেবল যক্ষ্মা রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে “মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এম.ডি.আর) যক্ষ্মা” সনাক্ত করার সর্বাধুনিক পরীক্ষা “জীন এক্সপার্ট” মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এই মেশিনের সাহায্যে মাত্র ২ ঘন্টায় সাধারণ যক্ষ্মাসহ এমডিআর যক্ষ্মা রোগের জীবানু সনাক্ত করা যায়।
আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি ডাঃ মো. হাবিবুল আহসান তালুকদার যক্ষ্মা নির্মূলে সকলস্তরের জনগনকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে ও সকল ভয়ভীতি ও কুসংস্কার কাটিয়ে যক্ষ্মা রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনতে সচেষ্ট হওয়ার জোর আহ্বান জানান।
আলোচকবৃন্দ আরো বলেন, সরকার সারাদেশে বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ও পরীক্ষার যে সুযোগ করে দিয়েছে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যক্ষ্মারোগী সনাক্ত করার জন্য কাজ করতে হবে। ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, যক্ষ্মা মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার’ এই শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যক্ষ্মা মুক্ত দেশ উপহার দেয়া যাবে।

মার্চ ২৫
০৬:৫৫ ২০২১

আরও খবর

Subcribe Youtube Channel

বিশেষ সংবাদ

মামুনুল হককে আদালতে নেয়া হচ্ছে

মামুনুল হককে আদালতে নেয়া হচ্ছে

বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে আজ সকাল ১০টার পর আদালতে নেয়া হবে। আজ সোমবার সকালে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল রবিবার বেলা ১২ টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এ সময়ে টিকা কার্ড নিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন

বিস্তারিত