Daily Sunshine

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড- শেষ পর্ব : একশো স্মার্ট স্কুল করার পরিকল্পনা

Share

শাহ্জাদা মিলন :রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রনে একশো স্মার্ট স্কুল করার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সৃষ্টিশীল চিন্তাভাবনা মাধ্যমে শিক্ষাকে যত সহজে শিক্ষার্থীরা আয়ত্ত করতে পারে সেই লক্ষ্য ও পরিকল্পনা এবং শিক্ষাবোর্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ শুরু করছেন বলে জানালেন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোকবুল হোসেন। সম্প্রতি দৈনিক সানশাইনের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা জানান। আজ সেই সাক্ষাৎকারের শেষ পর্ব সানশাইনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
চেয়ারম্যান বলেন, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ভান্ডার শাখা, স্ক্রিপ্ট শাখাসহ বিভিন্ন শাখা খুবই জরাজীণ। কিছু কর্মকর্তা কর্মচারিরা যে কুঠরীতে বসে কাজ করছে তা মোটেও স্বাস্থ্য সম্মত নয়। তারা খুব জরাজীর্ন পরিবেশে কাজ করছে। গরমে একেবারে ভিজে যায়। আবার শীতে অতিরিক্ত ঠান্ডায় কাজ করতে খুব কষ্ট হয়।
রাজশাহী সিটি মেয়র যেভাবে রাজশাহীকে অন্যতম বাসযোগ্য নগরী করে গড়ে তুলছেন আমিও চাই রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে সেরকম স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে সবাই কাজ করবে। পরিবেশ যদি ভালো হয় কাজের প্রতি আগ্রহ কিন্তু সহজে আসবে । যেসকল জরাজীর্ন কক্ষ ও হলরুম এখন ব্যবহার উপযোগি নয় সেটাকে নতুন করে তৈরি করার পরিকল্পনা করছি। সে কারনে চারটি বড় প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। উদ্দেশ্য হচ্ছে এক ছাদের নিচে প্রত্যেকটি শাখাকে নিয়ে আসা। এর জন্য একটি প্রকল্প কিছুদিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রনালয়ে জমা দিবো। সিভিল ওয়ার্কগুলো হচ্ছে। এই কাজগুলো সম্পন্ন হলে অনুমোদন নেয়ার চেষ্টা করবো। সত্যিকার অর্থে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের উন্নয়নকে দৃশ্যমান দেখতে যত দ্রুত সম্ভব চেষ্টা করবো। সেজন্য রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে একটি দশতলা ভবন নির্মাণের জন্য আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি যেই হলরুমটা রয়েছে সেটি ভেঙে ফেলে ওখানেই গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। তার নীচেই হবে দুই হাজার আসনের একটি বড় হলরুম। যেখানে বিভিন্ন দিবসগুলোতে এটি ব্যবহার করা হবে। যেখানে প্রধান পরীক্ষক, কেন্দ্র সচিব,শিক্ষার মান উন্নয়নে আলোচনা সভা ছাড়াও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রনে আটটি জেলার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে মোটিভেশন ও একই সাথে মিটিংয়ে বসতে পারে সেজন্য এই অডিটোরিয়াম ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেকটি ফেøারে সেবাকে সুনিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে কর্মকর্তাদের পদসোপান অনুযায়ী তাদের অবস্থান বিন্যস্ত করার চেষ্টা করবো।
এরকম একটি অবকাঠামোগত পরিকল্পনা করেছি। এখানে কর্মকর্তা কর্মচারিরা স্বস্তির মধ্যে থেকে একটি সুন্দর সেবা যেনো দিতে পারে। এতে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে। আমি হয়তো এখানে দুই তিন বছর চাকরি করতে পারবো কিন্তু যদি এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করে যেতে পারি তবে তৃপ্তি নিয়ে কর্মময় জীবন থেকে বের হতে পারবো।
শিক্ষাবোর্ড চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল করা হয়েছে এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু কর্ণারের কাজ চলছে। অনেক পেনশনভোগি কর্মকর্তা কর্মচারি শিক্ষক এখানে আসেন তারা বার্ধক্যজনিত কারনে চার পাঁচতলায় উঠতে কষ্ট করেন। এখানে লিফট তৈরি করা হবে। প্রাক্তণ শিক্ষকদের ও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও এই দাবি করা হয়েছে যেনো দ্রুত লিফটের ব্যবস্থা করা হয়। তৃতীয় কাজটি হচ্ছে, এখানে যোগদানের পর স্থানীয় মুসল্লীদের দাবি রয়েছে একটি বড় মসজিদ নেই যেখানে সবাই একসাথে নামায আদায় করতে পারে। বর্তমান বাস্তবতায় মসজিদটি হয়তো ঠিক আছে কিন্তু পঞ্চাশ বছর পর এর পরিসর আরো বড় লাগবে জনসংখ্যার দিক দিয়ে। এজন্য আশি ফিট বাই আশি ফিট একটি চারতলা দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি যেটা শিক্ষাবোর্ডের পাশাপাশি রাজশাহী শহরের সৌন্দর্য বর্ধণে ভূমিকা রাখবে। মসজিদের নীচে গাড়ি পার্ক করার ব্যবস্থা থাকবে যেনো সড়কে কেউ গাড়ি পার্কিং না করে। এজন্য সার্ভে করা হয়েছে ও ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে মৌখিক ভাবে আলোচনা করেছে। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের আরেকটি জায়গা রয়েছে এক বিঘা জমি যেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে সেখানে স্থানীয়রা ময়লা আবর্জনা ফেলে ডাস্টবিনে পরিণত করে রেখেছেন। এই জমিটিতে বাউন্ডারি করা হয়েছে এখানে শিক্ষাবোর্ড টাওয়ার নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে চার হাজার প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের যদি জেলা ভিত্তিক করে মিটিং করা হয় তবে অনেক দূরের জেলা থেকে দিনে এসে কাজ শেষ করে ফিরে যাওয়া ব্যপক কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। তাই সেখানে রেস্টহাউজ করতে চাই। অনেক শিক্ষকরা দেখা যাচ্ছে রাতে হোটেলে থাকছে চাকরির প্রয়োজনে। আমার পরিকল্পনা হলো তারা সীমিত মূল্যে রেস্ট হাউসে থাকবে। এই টাকাগুলো ফান্ডে জমা হবে। সেখানে একটি অডিটেরিয়াম করার পরিকল্পনা রেখেছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাড়া নিয়ে এটি ব্যবহার করতে পারে। এটি শিক্ষাবোর্ডের আয়ের বাড়তি উৎস হবে। আমাদের শিক্ষাবোর্ডের যে ডরমেটোরী আছে সেটি মানসম্মত নয় । সেজন্য ভালো একটি ডরমেটরী রুম রাখতে চাই যেখানে কর্মকর্তারা সাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড ১৯৬২ সালে নির্মাণ হলেও কোন প্রকাশনা নেই, এখানে অবশ্যই নিজস্ব একটি আর্কাইভ থাকবে। এই শিক্ষাবোর্ডের আন্ডারে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের লেখাগুলো, ভালো ভালো কাজ সেখানে সংরক্ষণ করা হবে। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কিন্তু সরাসরি শিক্ষাবোর্ডের দ্বারা পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হয়ে গেছে। আমরা যদি সুযোগ পাই এরকম আরো একটি প্রতিষ্ঠান করতে চাই। এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি মেয়র ও সংসদ সদস্যের সাথে কথা হয়েছে।
এছাড়া রাজশাহীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে এ লেভেল, ও লেভেল , ব্রিটিশ অথবা আমেরিকান কারিকুলামে পরিচালিত হবে। রাজশাহীকে আমরা শিক্ষা নগরী বলছি কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের একটি স্কুল যদি এখানে প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিপূর্ণতা পাবে। রাজশাহী কোর্টের পাশে ৭০ বিঘার মতো বড় একটি জায়গা রয়েছে এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের রেসিডেনসিয়াল স্কুল করা যেতে পারে। সেখানে সাব কন্টিনেন্টের শিক্ষার্থীরাও পড়ার সুযোগ পাবে। ইতিমধ্যে একটি খসড়া শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।
পৃথিবী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেরকমভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড তার নতুন নতুন উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি সেখানে একশোটি স্মার্ট স্কুল রাখার। রাজশাহীতে শিক্ষাবোর্ড রয়েছে, স্বনামধন্য শিক্ষকরা রয়েছে। করোনা কালে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিলো। আমার পরিকল্পনায় হচ্ছে একটি অ্যাপস ও একটি মিনি স্টুডিও করার। যেখানে শিক্ষকরা স্টুডিও থেকে ক্লাস নিবেন আর সিরাজগঞ্জের অজোপাড়ার শিক্ষার্থীরা সেই ক্লাস করতে পারবে । আমি ডিজিটালাইজেশন করতে চাই। শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো কিন্তু কিছুটা বৈষম্য রয়েছে পাঠদানের ক্ষেত্রে, সেই জায়গা সমান করতে চাই। সকল শিক্ষার্থীর মেধা হবে এক। শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীর কোন পার্থক্য না থাকে। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী হীনমন্যতায় ভোগে । তাদেরকে বলতে চাই যারা রাজশাহী কলেজ কিংবা নিউ ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী তারা গ্রামের ছেলেমেয়েদের চেয়ে অনেক ভালো এটা যেনো কেউ না ভাবে। আমরা এমন কর্মসূচি করতে চাচ্ছি সব স্কুল ভালো স্কুল, সব শিক্ষার্থী সমান। প্রযুক্তিগত সুযোগ শুধু শহরের শিক্ষার্থী না গ্রামের শিক্ষার্থীরাও পায় আমি সেটি নিশ্চিত করতে চাই। সব স্কুল হবে সমান, এটি হচ্ছে মূল স্লোগান।

মার্চ ২৫
০৬:৪৭ ২০২১

আরও খবর

Subcribe Youtube Channel

বিশেষ সংবাদ

করোনা উপসর্গে রাজশাহী হাসপাতালে পাঁচজনের মৃত্যু

করোনা উপসর্গে রাজশাহী হাসপাতালে পাঁচজনের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে বুধবার দিবাগত রাতের বিভিন্ন সময় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।  এর মধ্যে আবুল হোসেন নামের একজন আইসিইউতে এবং ২৯ ও ৩০ নং করোনা ওয়ার্ডে মারা যান চারজন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৪৪ জন রোগি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এদের

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৫২ হাজার শুন্যপদের তালিকা প্রকাশ করলো এনটিআরসিএ

৫২ হাজার শুন্যপদের তালিকা প্রকাশ করলো এনটিআরসিএ

বেসরকারি স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলে ৫৪ হাজার ৩০৭ টি পদে শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দ্বায়িত্বে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এনটিআরসিএ।মঙ্গলবার ৩০ মার্চ এ গনবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।আগামী ৪ এপ্রিল সকাল ১০ টা থেকে ৩০ এপ্রিল রাত ১২ টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। তবে

বিস্তারিত