Daily Sunshine

সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

Share

স্টাফ রিপোর্টার: সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ দিয়ে স্বল্প খরচে জমিতে সেচ দিচ্ছেন কৃষকরা। সেচের জন্য ব্যবহারের পর সোলার প্যানেল থেকে বাড়তি বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় একটি গভীর নলকূপে এমন প্রযুক্তি স্থাপন করেছে। আরও দুটি গভীর নলকূপে এই প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। যে গভীর নলকূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডেও বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে সেটি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলারর হাবাসপুর মাঠে অবস্থিত।
টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সেডা) চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন রোববার দুপুরে এটি পরিদর্শন করেছেন। তার সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান খান এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের প্রকল্প সমন্বয়ক মোদাব্বির বিন আনামও উপস্থিত ছিলেন। তারা বিএমডিএ’র এই প্রকল্পটি দেখে অভিভূত হন। তারা বিএমডিএ কর্মকর্তাদের এমন প্রযুক্তি আরও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন।
গত বছরের জুলাই মাসে বিএমডিএ তাদের এই গভীর নলকূপটিতে সোলার প্যানেল সংযোজন করে। আগে সেটি শুধু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ দিয়েই চলত। এখন সেখানে প্রতি ঘণ্টায় ১৯ কিলোওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে সেচকাজ চললে ঘণ্টায় ১১ কিলোওয়াট বিদ্যুতের ব্যবহার হয়। বাকি বিদ্যুৎটুকু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়ে যায়। আর যখন সেচ বন্ধ থাকে তখন পুরো বিদ্যুৎটিই যোগ হয় জাতীয় গ্রিডে। যতক্ষণ আকাশে সূর্য থাকে ততক্ষণই বিদ্যুতের উৎপাদন চলতে থাকে। রাজশাহীতে আরও দুটি গভীর নলকূপে এমন প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ চলছে। বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খাঁন জানান, হাবাসপুরের গভীর নলকূপটি থেকে এখন ১০০ বিঘা জমির সেচকাজ চলছে। ধান, গম ও রবিশস্যের সেচের চাহিদা মিটিয়েও গভীর নলকূপটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। তিনি জানান, বিএমডিএ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ ব্যবহার করে গভীর নলকূপ চালায়। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ তারা সোলার প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছেন সেই পরিমাণ বিদ্যুতের মূল্য তাদের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দিতে হচ্ছে না। তাই আগামীতে বরেন্দ্র অঞ্চলে আরও বেশি সংখ্যক গভীর নলকূপে সোলার প্যানেল এবং নেট মিটারিং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে বিএমডিএ’র। সেডা চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিনও বিএমডিএকে এই পরামর্শ দিয়েছেন। হাবাসপুরের গভীর নলকূপটি পরিদর্শন শেষে বিএমডিএ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই পরামর্শ দেন। বিএমডিএ সদর দপ্তরে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বিএমডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুর রশিদ, ড. মো. আবুল কাসেম, শামসুল হুদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মার্চ ২২
০৪:৫২ ২০২১

আরও খবর