Daily Sunshine

শীর্ষ জঙ্গীর পরিবারও পেলো সরকারি ঘর!

Share

স্টাফ রিপোর্টার : হলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত আইএসআই’র আদলে গড়ে উঠা নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা সারোয়ার জাহানের পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে পেয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি। উপজেলা প্রশাসন বলছে, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সুপারিশে পরিবারটিকে দেয়া হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রীর উপহার’।
হলি আর্টিজানে হামলার আগেরদিন বসুন্ধরার একটি বাসায় হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনার সময় মূল হামলাকারীদের অন্যতম জঙ্গী ছিলো সারোয়ার জাহান ওরফে মানিক। হামলার কয়েকদিন আগে থেকে নিয়মিত জঙ্গীদের বিভিন্ন তাত্বিক জ্ঞান ও উদ্দীপনামূলক বক্তব্য দিত সারোয়ার জাহান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ও অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেন সারোয়ারের নাম। সেই সারোয়ার জাহান ওরফে মানিকের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের মুশরীভূজা গ্রামে। এবার তার পরিবার পেয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপহার।
ভূমিহীন কিংবা ২ শতকের নিচে জমি থাকা পরিবার জমিসহ ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাড়ি পাওয়ার কথা থাকলেও জঙ্গি সারোয়ারের বড় ভাই মনিরুলের পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে ১৪ শতকের বেশি। অথচ একজন জঙ্গি পরিবারের সদস্য হয়েও বাগিয়ে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার।
জঙ্গি সারোয়ারের পরিবার ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, ভূমিহীন দরিদ্র হওয়ার সুবাদেই বাড়ি পেয়েছে তারা। অথচ জমির কাগজপত্রে (খতিয়ান) দেখা যায়, জঙ্গী সারোয়ারের বাবা আব্দুল মান্নানের নামে দুটি খতিয়ানে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ জমি রয়েছে। এতে পৈত্রিক সূত্রে দেশে প্রচলিত আইনানুসারে ১৪ শতকেরও বেশি জমি রয়েছে সারোয়ারের ভাই মুদি দোকানী মনিরুল ইসলামের নামে। শুধু জঙ্গি পরিবার নয়, ভোলাহাট উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি দেয়া নিয়ে রয়েছে নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ।
উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, এই গ্রামে অনেক হতদরিদ্র মানুষ রয়েছে। যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উপহার পাওয়ার যোগ্য। অথচ তা না করে জমি রয়েছে এমন জঙ্গি পরিবারের সদস্যকে বাড়ি দেয়া হয়েছে। অবাক করার বিষয় চূড়ান্তভাবে বাড়ি প্রদানের আগেই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ হলেও অজ্ঞাত কারনে পরিবারটিকে বাড়ি দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বাইরে গিয়ে বাড়িটি দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আরো বলেন, দলদলী ইউনিয়নে এখনো অনেক ভূমিহীন, অসহায়, দরিদ্র পরিবার বসবাস। এমন কয়েকটি বাড়ি দেয়া হয়েছে, দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কেউ বসবাস করছে না। গরু ছাগলের বসবাস ও মাদকাসক্তদের আস্তানা হিসেবে রয়েছে এসব বাড়ি। সরেজমিনে গিয়েও এর সত্যতা মিলেছে।
গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, ভোলাহাটে সবগুলো বাড়ি যোগ্য পরিবারগুলো পায়নি। আরেকটা বাড়ি আছে, সেখানে বসবাস করে। অথচ এমন পরিবারগুলোও বাড়ি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া বাড়িগুলোতে বসবাস করছে গরু-ছাগল। এখন জঙ্গী সারোয়ারের পরিবারও বসবাস করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, বাস্তবে গরিব, অসহায়, দুস্থ, ভূমিহীন পরিবারগুলো আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি পেলে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সার্থক হয়। কিন্তু ভোলাহাটে এটি হয়নি। অসহায়, ভূমিহীন পরিবারগুলো বাড়ি পাওয়ার কথা থাকলেও তারা না পেয়ে বাড়ি ও জমি রয়েছে এমন পরিবার বাড়ি পেয়েছে। যারা আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়ার যোগ্য তাদেরকেই দেয়ার দাবি জানান তিনি।
দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিবুল্লাহ মেসবাহ জানান, কে বা কারা হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনাকারী সারোয়ার জাহানের ভাই মনিরুলকে বাড়ি প্রদানের বিষয়ে আগেই অভিযোগ করা হয়েছিলো। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ইউপি চেয়ারম্যান তদন্ত করার পর মনিরুলকে বাড়িটি দেয়া হয়েছে।
জঙ্গি সারোয়ার জাহান ওরফে মানিকের সঙ্গে পরিবারের কোন সম্পর্ক ছিলো না জানিয়ে তার (জঙ্গি সারোয়ার) ভাবি সালমা খাতুন বলেন, আমার শ^শুরের জমিজমা ছিলো, কিন্তু তিনি তা বিক্রি করে শেষ করছেন। কোনরকমে মুদি দোকানের মাধ্যমে সংসার চালান তারা। তাই বাড়িটি আমাদের দেয়া হয়েছে।
উপজেলার দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরজেদ আলী ভুটু বলেন, কোন অনিয়ম নয়, সঠিকভাবে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তাদের দেয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার। জঙ্গি সারোয়ারের পরিবার জমি থাকা স্বত্বেও বাড়ির পাওয়ার বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রাব্বুল হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি এ বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন।
ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান বলেন, মনিরুলের জমি আছে, এটা আমাদের জানা নেয়। জঙ্গি সারোয়ার জাহানের পরিবারের লোক ও জমি থাকা নিয়ে একটি অভিযোগ হলেও শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সুপারিশে পরিবারটিকে বাড়ি দেয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে কোন অনিয়ম হয়নি বলেও জানান তিনি।
ভোলাহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াসিন আলী শাহ বলেন, প্রশাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় বা পরামর্শ না করেই জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। তাই মনিরুলের বাড়ি পাওয়াসহ আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে এমন বিষয়গুলো আবারো খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুজনই আ’লীগের নেতা। জঙ্গি কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করেন এমন একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জঙ্গি পরিবারকে এই বাড়িটি দেয়ার মাধ্যমে অন্য তরুণদের উৎসাহ দেয়া হয়েছে। কারন এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নবাগত জঙ্গিরা নিজেদের পরিবারকে আরো বেশি সুরক্ষিত মনে করবে। এতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে আরো বেশি গতি আসবে এবং আত্মঘাতী হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
যোগাযোগ করা হলে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, তার কাছেও অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে যোগদানের আগেই বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন ওই বাড়িতে বসবাসও শুরু হয়েছে। তারপরেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মার্চ ১৫
০৬:১৪ ২০২১

আরও খবর

Subcribe Youtube Channel

বিশেষ সংবাদ

ঈদের আগে ৫০ লাখ পরিবার পাচ্ছে আর্থিক সহায়তা

সানশাইন ডক্সে; করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ গরিব পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। প্রত‌্যকে পরিবারকে ২৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ঈদের আগে মোবাইলের মাধ্যমে সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার হিসেবে এ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এ সময়ে টিকা কার্ড নিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন

বিস্তারিত