Daily Sunshine

নিউ জিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

Share

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট নিউ জিল্যান্ডের ফ্যামিলি মেম্বার হিসেবে নিত্য দিন ব্ল্যাক ক্যাপস ও হোয়াইট ফারন্সদের খেলার আপডেট পাই। মাঝে মাঝে তারকা খেলোয়াড়দের সাথে টুইট বিনিময় করি। করোনার সময়ে যেই দলগুলো সবচেয়ে বিকশিত হয়েছে তাদের শীর্ষে আছে নিউ জিল্যান্ড।
টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ‘হর্সেস ফর কোর্সস’ রয়েছে ওদের। অপরদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট পরিকল্পনা হীনতার কারণে এই মুহূর্তে সবচেয়ে অপ্রস্তুত দল! দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দলকে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাওয়াশ করলেও টেস্ট সিরিজে ‘ব্রাউন ওয়াশ’ হয়েছে। সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত দল নিয়ে সাকিব ও মাশরাফিবিহীন বাংলাদেশ দল তিনটি করে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলতে এখন নিউ জিলান্ডে।
দক্ষিণ গোলার্ধে এখন ধীরে ধীরে শীত নামছে। নিউ জিলান্ড দক্ষিণ গোলার্ধের শেষ প্রান্তিক। দক্ষিণের দ্বীপপুঞ্জের ডানেডিন এবং ক্রাইস্টচার্চে হবে প্রথম দুইটি ওয়ানডে এবং শেষ ম্যাচটি হবে উত্তর দ্বীপপুঞ্জের ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে। মাঠগুলো ছোট,ঘাসের উইকেটে সিম মুভমেন্ট হয় , বাতাসে বল সাপের মতো বাক নেয়। যে কোনো অতিথি দল এমনকি তাসমান প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার জন্যও নিউ জিল্যান্ডকে নিউ জিল্যান্ডে মোকাবিলা অনেক চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশ স্বাগতিক নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো ফরম্যাটে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জিততে পারেনি। এখন তুখোড় ফর্মে থাকা নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সীমিত প্রস্তুত দলের চ্যালেঞ্জ সহজেই অনুমেয়।
বাংলাদেশ দলে সাতজন নবীন-প্রবীণ পেস বোলার থাকলেও কিউই কন্ডিশনে ১২৫-১৩০ কিলোমিটার গতিতে বল করে হালে পানি পাবে না! খুনে মেজাজে থাকা গাপটিল, কনওয়ে, নিশাম, লাথাম, টেলররা অপেক্ষাকৃত স্বল্প গতির পেসারদের তুলোধুনা করবে। আবার যদি শর্ট কিংবা ফুলার লেন্থে বল পায় তাহলে উড়াবে চোখের পলকে। দলে উইকেট টেকিং স্পিনার দৃশ্যমান নয়। যে যা বলে বলুক পেশাদারিত্বের খাতিরে, ইউনিভার্সিটি ওভাল, হ্যাগলি ওভাল বা বেসিন রিজার্ভে বাংলাদেশ স্পিনারদের ভালো কিছু করার সুযোগ দেখি না। ফলে বোলারদের চ্যালেঞ্জ দৃশ্যমান।
তুখোড় ফর্মের শোধী, বোল্ট, হেনরি, জেমিসনদের ওদের ডেরায় এই মুহূর্তে সামাল দেয়ার মতো আছেন শুধু তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ। ওদের সাথে যদি লিটন, মিঠুন,মিরাজ, সৌম্য কিছু করতে পারেন তাহলে হয়তো ২৫০- ২৬০ রানের পুঁজি পেয়ে লড়াই করার সুযোগ করতে পারে। অনেকটা নিশ্চিত করেই বলতে পারি তুখোড় ফর্মে থাকা নিউ জিল্যান্ডও বাংলাদেশের আক্রমণ হেসে খেলে ৩০০ বা ততোধিক রান করবে।
তবে ওয়ানডে যখন বাংলাদেশের শক্তির জায়গা তাই হারার আগে হেরে যাওয়া চলবে না। নিজেদের সামর্থের সব কিছু দিয়ে লড়াই করতে হবে। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। উচ্চ আশার পারদটা একটু নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চ্যালেঞ্জ অনেক, সম্ভাবনা সীমিত।

মার্চ ১৪
০৬:৪২ ২০২১

আরও খবর