Daily Sunshine

আ.লীগে বেড়েছে দ্বন্দ্ব, ভোটে ভাটা বিএনপির

Share

রাজু আহমেদ : পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত রাজশাহীর ১৩টি পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে শুরুর দিকে তুলনামূলক নিরব থাকলেও শেষের দিকে এসে আবারো সেই পুরোনো অভিযোগে স্বরব হয়ে উঠে বিএনপি। তবে সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। বড় কোনো সহিংসতা ছাড়াই ১৩টি পৌরসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং কোনঠাসা বিএনপিকে এই নির্বাচন ভোটারদের মাঝে তাদের জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে ধারণা পেতে ভূমিকা রাখবে। আর এই নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দলগুলো আগামীতে তাদের করণীয় নির্ধারণ করবে।
নির্বাচন ঘিরে একদিকে যেমন আওয়ামী লীগের অন্তদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসছে, তেমনি রাজশাহীতে বিএনপির ভোট ব্যাংকে যে ভাটা পড়েছে, তা সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনী পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। একাধিক রাজনৈতিক দল থাকলেও এবার আওয়ামী লীগের শরীক দলগুলোর মধ্যে ওয়াকার্স পার্টি, জাসদ এবং জাতীয় পার্টি ছিল নিরব ভূমিকায়। নির্বাচনে তারা দলীয় প্রার্থী না দিলেও নির্বাচন ঘিরে শরীক দল হিসেবে দলগুলোকে প্রাচার-প্রচারণায় দেয়া যায়নি। অবশ্য এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এই দলগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে বা জনপ্রিয়তা অর্জনে এখন পর্যন্ত সক্ষমতা অর্জন করেনি।
১৩টি পৌরসভার নির্বাচনী তথ্য বিশ্লেষণ ও এসময়ের মধ্যে আলোচিত ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজশাহীতে সম্প্রতি শেষ হওয়া পৌরসভা নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা ছিলো পূর্বের যেকোনো নির্বাচনের চাইতে তুলনামূলক কম। ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিলো আশাব্যঞ্জক। অবশ্য এই নির্বাচন নিয়েও বিএনপির অভিযোগ রয়েছে। ভবানিগঞ্জ, তাহেরপুর এবং চারঘাট পৌরসভার বিএনপির ৩ জন প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে ভোট চলাকালীন সময়ের মেধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেন।
সদ্য সমাপ্ত ১৩টি পৌরসভা নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার ৭০৩ জন। এদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ৫৪০ জন। এই হিসেবে রাজশাহীর পৌরসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭.১৪ শতাংশ। ১৩ টি পৌরসভার মধ্যে সবচাইতে বেশি ভোট পড়েছে কেশরহাটে ৮৫.৮০ শতাংশ। আর সব চাইতে কম ভোট পড়েছে চারঘাটে ৫৯.০৬ শতাংশ। রাজশাহীর ১৪টি পৌরসভার মধ্যে বাঘায় উপনির্বাচনের পর মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় পৌরসভাটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
১৩টি পৌরসভায় অংশগ্রহণকারী মোট ভোটারদের ৫৫.৭২ শতাংশ ভোট পেয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা, আর ২২.৯২ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। অবশ্য নিজ দলের বিদ্রোহীদের আয়ত্বে আনা গেলে আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা আরো বেশি হতো। এদিকে ১৩টি পৌরসভার মধ্যে ৯ টিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এবং ১ টিতে বিএনপি দলীয় প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আর ৩ টিতে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
নির্বাচন ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় মগ্ন ছিলো। দলীয় বিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিস্কার করেও তাদেরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। পৌরসভাগুলোর মধ্যে ৬ টিতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নাকানী-চুবানি খেতে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আড়ানী, নাওহাটা, গোদাগাড়ী, মুণ্ডুমালা, পুঠিয়া এবং ভবানীগঞ্জ। এর খেসারত হিসেবে ৪টি পৌরসভা আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়েছে।
নাম প্রাকাশ না করার শর্তে রাজশাহীতে উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে দলের মধ্যে বিদ্রোহের প্রধানতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্থানীয় সাংসদের সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের পূর্বের ক্রোন্দল, দলীয় ভাবে জনপ্রিয়তা না থাকার পরো পৌর নির্বচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দেয়া। অবশ্য জয় ছিনিয়ে নেয়া বিদ্রোহী প্রথীরা এরই মধ্যে আওয়ামী লীগে ফিরতে তদবির শুরু করেছেন। এবিষয়ে কথা বলতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারার মোবাইলে কথা বলতে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে একদা বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত রাজশাহী জেলার প্রান্তিকের এলাকাগুলো সময়ের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ অনেকটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলেছে। ফলে ওইসব এলাকার কোনকোনটিতে বিএনপি ভোট পেয়েছে ১০ শতাংশেরও নিচে।
বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কাটাখালি পৌরসভায় ভোট পেয়েছেন ০.০৪ শতাংশ, কেশরহাটে ৯.৭৯, তাহেরপুরে ৭.৬৯, আড়ানীতে পেয়েছেন ১১.৩০, ভবানীগঞ্জে ৯.৬৮, নওহাটায় ২০.৩৮ এবং চারঘাট পৌরসভায় ভোট পেয়েছেন ১৫.৮০ শতাংশ। পৌর নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন সময় নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেলেও এক্ষেত্রে বিএনপির নেতৃবৃন্দের মাঝে সমন্বয়হীনতা ছিল লক্ষনীয়।
বিএনপি’র চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু জানান, পৌর নির্বাচন ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে ডিসি এবং ইউএনও সহ নির্বাচন কমিশনে এখন পর্যন্ত ৩০০ টির বেশি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো ফল পাননি তারা। স্থানীয় সাংসদ প্রচার প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। যেসব ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, ভোট নিরপেক্ষ হলে বিএনপি রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ভোট পাবে।
১৩টির মধ্যে কাটাখালী পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৭৭.৫২ শতাংশ, এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ৯৩.৭৬ শতাংশ, বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ০.৪৫ শতাংশ ভোট। কাকনহাট পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮৩.৩২ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫০.২৮ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৪৬.২৬ শতাংশ। কেশরহাট পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮৫.৮০ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৮০.৬৩ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৯.৭৯ শাতাংশ। তাহেরপুর পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮০.৩৩ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৯৩.৩১ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৭.৬৯ শতাংশ। চারঘাট পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৫৯.০৬ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৮৪.২০ শতাংশ, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছে ১৫.৮০ শতাংশ। পুঠিয়া পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৭৩.৬৭ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছেন ৪২.১১ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৪৮.৩০ শতাংশ।
আড়ানী পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮২.৯৯ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩৭.০৫ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ১১.৩০, আর বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছেন ৫০.৮৭ শতাংশ। নওহাটা পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮১.৪৭ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪০.৪৬ শতাংশ, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছে ২০.৩৮ আর বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছেন ৩৯.১৬ শতাংশ। তানোর পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮১.৪৪ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৬২.৮৬ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৩৫.৯২ শতাংশ। দুর্গাপুর পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৭৮.৩৪ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫৩.২২ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৩৮.৩৬ শতাংশ। ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৭৭.৫৬ শতাংশ, আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৬৫.৪৬ শতাংশ, বিএনপি পেয়েছে ৯.৬৪ শতাংশ, আর বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছে ২৪.৬৮ শতাংশ। মুণ্ডমালা পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৮০.৪৬ শতাংশ, আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ৩৭.৯১ শতাংশ, বিএনপি প্রার্থী পেয়েছে ২৩.৭৫ শতাংশ, বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছেন ৩৮.৩৪ শতাংশ। গোদাগাড়ী পৌরসভায় ভোট পড়েছে ৭২.৮৪ শতাংশ, আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন ১৭.৫১ শতাংশ, বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ২৮.৯১ এবং বিদ্রোহী প্রার্থী পেয়েছেন ৩৭.৫১ শতাংশ ভোট। এদিকে নির্বাচনী আইন অনুসারে নুন্যতম ভোট (প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট) না পাওয়ায় পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হতে চলেছে।

মার্চ ০২
০৬:০৫ ২০২১

আরও খবর

Subcribe Youtube Channel

বিশেষ সংবাদ

কী বন্ধ, কী খোলা জেনে নিন

কী বন্ধ, কী খোলা জেনে নিন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে, বন্ধ থাকছে যানবাহনও। বিধি-নিষেধ থাকছে সার্বিক কার্যাবলী ও চলাচলেও। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বন্ধ থাকছে: সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সকল প্রকার পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

টিকা কার্ড নিয়ে যাতায়াত করা যাবে

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির কারণে ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে এ সময়ে টিকা কার্ড নিয়ে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন

বিস্তারিত