Daily Sunshine

রাবিতেই সীমাবদ্ধ জোহা দিবস ৫২ বছরেও হয়নি জাতীয়করণ

Share

রাবি প্রতিনিধি : ‘আজ আমি ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত, এরপর কোনো গুলি হলে তা ছাত্রকে না লেগে যেন আমার গায়ে লাগে’। ১৯৬৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর আইয়ুব খান সরকার হামলা চালালে বিশ^বিদ্যালয়ের কলাভবনে সন্ধ্যায় সবার সামনে ছাত্রদের রক্তে রঞ্জিত নিজের শার্ট দেখিয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে এসব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালিন প্রক্টর শহীদ ড. শামসুজ্জোহা।
১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি। সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যুর খবর শুনে দেশব্যাপী গণ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৮ই ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার চেষ্টা করে। প্রক্টর শামসুজ্জোহা তখন বুঝতে পারেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা মিছিল বের করলে অনেক ছাত্রের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে ছাত্রদের মূল ফটক থেকে ফিরে যেতে বলেন। পাক সেনাসদস্যরা তখন মিছলের সম্মুখভাবে অবস্থান করছিলেন। এই সঙ্কটাপন্ন মুহূর্তে ছাত্রদের প্রাণ বাঁচাতে শামসুজ্জোহা নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন সেনাসদস্যদের। বলেছিলেন, ‘দয়া করে গুলি ছুঁড়বেন না, আমার ছাত্ররা এখনই চলে যাবে এখান থেকে।’ কিন্তু সেনা সদস্যরা তাঁর সব কথা উপেক্ষা করে গুলি চালাতে গেলে ড. জোহা নিজে এগিয়ে যান। তখন তার ওপরই গুলি চালায়, সেনারা। রাবির মূল ফটক থেকে বেরিয়ে একটু পূর্ব পাশে রাস্তার অপর ধারে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী নৃশংসভাবে হত্যা করে তাকে।
পরে মহান এই শিক্ষকের স্মরণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলের নামকরন করা হয় শহীদ শামসুজ্জোহা হল এবং তাঁর মৃত্যুর ৩৯ বছর পর ২০০৮ সালে তাকে স্বাধীনতা পুরষ্কারে ভূষিত করাসহ তাঁর নামে একটি স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করা হয়। তবে ড. জোহা নামটি শুধু রাবিতেই পরিচিত একটি দুটি শব্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই কেবল মনে করেন তিনি দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। এজন্য ১৮ ফেব্রুয়ারিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বিভিন্ন সময়ে রাবি শিক্ষক সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ত্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিবসটি জাতীয়করনের দাবি জানিয়ে আসলেও ড. জোহার ৫২তম শাহাদাত বার্ষিকীতেও জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি মেলেনি এ দিবসের।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ড. জোহা শহীদ হওয়ার দিনটিকে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হল প্রাধ্যক্ষ ড. জুলকার নায়েন বলেন, বহু বছর ধরে আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবী জানিয়ে আসলেও দুঃখের বিষয় এ দাবী পূরণ হয়নি আজও। ২০২১ সাল বাঙ্গালী জাতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি বছর। এ বছর আমরা পালন করছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী। এই বছরই পালিত হবে আমাদের গৌরাবান্বিত স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। আজ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি ১৮ ফেব্রুয়ারি কোন এক দিন ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং রাষ্ট্রীয় ভাবেই পালিত হবে। তবে তা হোক মুজিববর্ষে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এবং বর্তমান সরকারের হাত ধরে।
জোহা দিবসকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করলে এই ইতিহাসটি বছরের পর বছর নতুন প্রজন্মরা জানতে পারবে জানিয়ে বিশ^বিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ড. শামসুজ্জোহা দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দেশের প্রত্যেকটি মানুষের নিটক একটি অনুপ্রেরণার নাম। ১৯৬৯-এ জোহার আত্মত্যাগ গণ-আন্দোলনকে করেছে বেগবান। যা পরবর্তীতে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা আনতে সহযোগিতা করেছিলো। আজকের শিশুরা বেড়ে উঠছে স্বাধীন দেশের হাওয়া আর জলে, সেই শিশু কোনো দিন জানতেও পারবে না কেমন উত্তাল ছিল ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন।
উপ-উপাচার্য বলেন, ড. জোহা ছিলেন আমাদের আদর্শ। নতুন প্রজম্মের কাছে এ আদর্শ পৌছিয়ে দিতে জোহা দিবসকে জাতীয়করণ করা জুরুরী। এজন্য আমরা বরাবরই দাবি জানিয়ে থাকি দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের জন্য। আর এটা আমাদের সকলের দাবি। যতোদিন পর্যন্ত দিবসটিকে জাতীয়করণ না করা হবে ততোদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি এই দাবি থাকবে আমাদের।

ফেব্রুয়ারি ১৮
০৮:১৬ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

স্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম হয়ে যায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

সানশাইন ডেস্ক : মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত (এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে চলতি মাসেই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৭ হাজার ৩৬০টি শূন্য পদের তালিকা

বিস্তারিত