Daily Sunshine

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে রাজশাহীতে

Share

স্টাফ রিপোর্টার : গত ১১ বছরে দেশে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১০ সালে। পুরান ঢাকার নিমতলীতে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছিল ১২৪ জন। পরের বছর ২০১১ সালে সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১১ জন। এরপরে ২০১৬ সালে টঙ্গীর টাম্পাকো ফয়েলস কারখানার অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ৪১ জন। দেশে গত ১০ বছরে ছোট-বড় অন্তত ১৬ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৫৯০ জন। এমন ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রাজশাহী মহানগরীতেও দিনে দিনে বাড়ছে। নগরায়নের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মহানগরীতেও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। বাড়ছে বহুতল ভবন। তবে এসব বহুতল ভবনগুলোতে মানা হচ্ছে না কোন নিয়ম। নামমাত্র রাখা হচ্ছে নামমাত্র অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা। আবার কোনগুলোতে আগুন নেভানো কোন ব্যবস্থাই নেই।
মাত্র কয়েক বছর আগেও রাজশাহীতে সুউচ্চ ভবন বলতে সিঅ্যান্ডবি মোড়ের ১০ তলা ভবনটি ছিল। নগরজুড়ে একতলা থেকে তিনতলা বাড়ি বেশি দেখা যেত। কিন্তু এখন চিত্র আলাদা।
রাজশাহী মহানগরীতে ২০০৯ সাল থেকে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর আগে নগরীতে ১০ তলা ভবন বলতে ছিল কেবল সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জীবন বীমার ভবনটি। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ১০তলা ভবনের সংখ্যা প্রায় শতের কোটায় ছুঁই ছুঁই করছে। সাহেববাজার, উপশহর, বর্ণালীর মোড়, আলুপট্টির মোড়, হোসেনীগঞ্জ, শেখপাড়া, লক্ষ্মীপুর মোড়, সাগরপাড়া, আমবাগান, তেরোখাদিয়া, সিপাইপাড়া, কাজীহাটা ও পদ্মা আবাসিক এলাকায় রয়েছে শতাধিক বহুতল ভবন। এসব বহুতল ভবন ১০ তলা থেকে শুরু করে ২১ তলা পর্যন্ত।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে নগরীতে ৬০০ ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচতলা পর্যন্ত ৫৬৫টি এবং ছয়ের অধিক তলা ভবনের অনুমোদন ছিল ৩৫টির। ২০১৪ সালে অনুমোদন দেয়া হয় ৫০২টির। এর মধ্যে ৪৮৬টি পাঁচতলা পর্যন্ত এবং ছয়ের অধিক তলার ভবন ৩৫টি।
২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫৪টি ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টি পাঁচতলা পর্যন্ত এবং ছয়ের অধিক তলার ভবন অনুমোদন ছিল ৩৩টি। এর পরের ৫ বছরে আরো প্রায় ২ হাজার ভবনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এসব ভবন নির্মাণে থাকার কথা পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। শর্ত অনুযায়ী পূরণ করার কথা থাকলেও ভবন নির্মাণের সময় সেসব শর্ত অনেক সময় মানা হয় না। মানুষের নিরাপত্তা বিবেচনায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রতিটি ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার বিভিন্ন বিধিমালা নির্ধারণ করে দিলেও তার পুরোপুরি প্রয়োগ নেই ভবনগুলোতে। অগ্নিনির্বাপণের নিজস্ব ব্যবস্থা, ইমার্জেন্সি এক্সিট সিঁড়ি, ৩০ ফুট রাস্তা, পানির আন্ডারগ্রাউন্ড, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ সুবিধাসহ বেশিরভাগ বহুতল ভবনে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ফলে ভূমিকম্প কিংবা বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে এসব ভবনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে অনেক বেশি।
এদিকে রাজশাহীতে বহুতল ভবনে আগুন নিভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের নেই সক্ষমতা। যে লেডার (মই) আছে তা দিয়ে ৪ থেকে ৫ তলার আগুন নির্বাপণ করা সম্ভব। এর বেশি তলাতে আগুন লাগলে তা নির্বাপণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের প্রতি। এছাড়াও দিনে দিনে নগরীতে কমে এসেছে পুকুরের সংখ্যা। ফলে ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নগরী হয়ে উঠছে রাজশাহী।
রাজশাহী দমকল বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রশিদ বলেন, ভবন নির্মানের জন্য অনুমোদন যখন নেয়া হয় তখন নকশায় সবই থাকে। কিন্তু কাজের সময় কেউ মানে আবার কেউ মানে না। জননিরাপত্তার বিষয়টা আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
উপপরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা আছে কি না তা দেখার জন্য রাজশাহী মহানগরীতে আমাদের ২টি পরিদর্শন টিম আছে। ওই টিমগুলো তাদের পরিদর্শন রিপোর্ট কিছুদিন পরপর জমা দেয়। আমরা সেই অনুযায়ি ভবন মালিকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি।
দমকল বিভাগের সক্ষমতা : রাজশাহী মহানগরীতে আগুন নেভাতে রাজশাহী দমকল বিভাগের যে সরঞ্জাম আছে তা দিয়ে ৫ তলা পর্যন্ত আগুন নেভানো যাবে। এর বেশি সম্ভব নয়। রাজশাহী দমকল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উঁচু দালানে আটকে পড়া লোকজন উদ্ধারকাজের জন্য টার্নটেবল লেডার, সেøারকেল লেডারের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নেই রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের। অতিতে রাজশাহী মহানগরীতে যে রাস্তা ছিল তাতে বড় বড় গাড়ী ও যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহার করা যেতো না। সেজন্য যন্ত্রপাতিগুলো নিয়ে আসা হয়নি। বর্তমানে রাস্তা প্রশস্ত হয়েছে।
রাজশাহী দমকল বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রশিদ জানান, আগামীতে বহুতল ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপনের জন্য যেসব সরঞ্জাম প্রয়োজন সেগুলো নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
জলাশয় ভরাট : একসময় ৪ হাজারের বেশি পুকুর ছিল রাজশাহীতে। এখন আছে তা হাতেগোনা। ভরাট হয়েছে পুকুরগুলোও। বিগত বছরগুলোতে রাজশাহীতে আশঙ্কাজনক হারে জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে। গত ৫৯ বছরে রাজশাহীর জলাশয়ের প্রায় ৯৭ দশমিক ১৬ শতাংশ দখল ও ভরাট হয়েছে। ৯৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজশাহী শহরে এখন জলাশয় আছে মাত্র ১২০টি। যার মধ্যে কেবল ২২টি পুকুর সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে অগ্নি নির্বাপনের সময় পানির উৎস নিয়েও বর্তমান সময়ে দেখা দিয়েছে সংকট।
হেরিটেজ রাজশাহীর এর হিসেব অনুযায়ি, রাজশাহী শহরে সবচেয়ে বেশি জলাশয় ছিল ১৯৬০ সালে। তখন সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৪ হাজার ২৩৮। ১৯৮১ সালের এক জরিপে জলাশয়ের সংখ্যা পাওয়া যায় ২ হাজার ৭১। ২০১৯ সালের জরিপে দেখা যায়, রাজশাহীতে ১২ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের জলাশয় আছে ১২০টি। রাজশাহী দমকল বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রশিদ বলেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। সেজন্য আইনের পাশাপাশি সবাইকে তাদের কাজের প্রতি স্বচ্ছ হতে হবে। নগরীর রাস্তাগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রসারিত। রাজশাহীতে দমকল বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। সেজন্য আমরাও বহুতল ভবনগুলো আগুন নেভাতে যেসব সরঞ্জাম লাগবে তা নিয়ে আসার বিষয়ে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি ১৪
০৭:২৫ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

স্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম হয়ে যায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

সানশাইন ডেস্ক : মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত (এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে চলতি মাসেই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৭ হাজার ৩৬০টি শূন্য পদের তালিকা

বিস্তারিত