Daily Sunshine

ফুল ব্যবসায়ীদের মুখে নেই বসন্তের হাসি

Share

আবু সাঈদ রনি : কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কথায় ‘ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত।’- হ্যাঁ, ফুল ফুটেছে। কাননে কাননে হাজারো ফুলের সমারোহ জানিয়ে দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। দিন দুয়েক পরেই আসছে আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্তবরণের দিন।
ফুল বিক্রির মাধ্যমে অন্যের বসন্ত রঙ্গিন করে তোলেন ফুল বিক্রেতারা। তবে এবছর বসন্তের সেই হাসি মেলতে পারেনি রাজশাহীর ফুল বিক্রেতাদের চোখেমুখে। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে শিক্ষা নগরীর প্রতিষ্ঠানগুলো। শহরে নেই শিক্ষার্থীরাও। থাকবে না বসন্তবরণের আনুষ্ঠানিক আয়োজন। তাই আশানুরূপ ফুল বিক্রি না হওয়ার শঙ্কায় বসন্তের রংটাও যেন ফিকে মনে হচ্ছে তাদের কাছে।
রাজশাহী নগরীর ব্যস্ততম এলাকা সাহেববাজার। বাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে আরডি মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার ধার ঘেঁষে গড়ে উঠেছে হরেক ফুলের দোকান। সকাল থেকেই এগুলোতে লেগে থাকতো উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু এখন ক্রেতাশূন্য না হলেও বিক্রি কমেছে কয়েক গুণ। সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ধারাবাহিক অনুষ্ঠানের বাইরে তেমন কোন অর্ডার থাকছে না দোকানগুলোতে। সাধারণ ক্রেতাদের উপস্থিতিও নেই বললেই চলে।
সারাদেশের মত রাজশাহীতেও ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ফুলের চাহিদা থাকে প্রচুর। বিজয় দিবস, থার্টিফার্স্ট নাইট, বসন্তবরণ, ভ্যালেন্টাইনস ডে, শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে ফুলের ব্যবহার বাড়ছে ক্রমেই। রাজশাহীতে বিশেষভাবে এসব ফুলের একটা বড় অংশের ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবারের বসন্তবরণ ও ভ্যালেন্টাইনস ডে’তে ফুল বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন দোকানীরা।
কোভিড-১৯ এর প্রকোপে ফুল বিক্রির ভরা মৌসুমেও আশানুরূপ ফুলের ক্রেতা নেই রাজশাহীতে। টানা ১১ মাসের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ফুল বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে বলে জানান দোকানীরা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তাতে অল্প দিনের মধ্যেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নগরীর জিরো পয়েন্টে ফুল বিক্রি করছেন মাইনুল ইসলাম। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেচাকেনা নিয়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘এর আগে এত খারাপ অবস্থা দেখতে হয়নি কোনদিন। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সব ছাত্রছাত্রী এখনও রাজশাহীতে ফেরেনি। তাছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনুষ্ঠানও কমে গেছে।’
বসন্তবরণের দিনে ফুল বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বসন্তবরণ বা ভালোবাসা দিবস, যে দিবসের কথায় বলেন; রাজশাহীতে সব অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে। তারা না থাকলে অনুষ্ঠান হয় কিভাবে? আর অন্য বছরের চেয়ে এবারের শীতে বিয়ের অনুষ্ঠানও কমে গেছে। সব মিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থা যাচ্ছে।’
রাজশাহীর বাজারে বিক্রি হওয়া ফুলগুলোর অধিকাংশ আসে যশোর থেকে। দেশের অন্যান্য স্থানের মত রাজশাহীর ফুলের বাজারে যশোরের গদখালীর ফুলের রয়েছে একক রাজত্ব। এছাড়া নওগাঁ ও রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলা থেকেও বেশ কিছু ফুলের আমদানি হয় এই বাজারে।
নগরীর দোকানগুলোতে সাধারণত গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, চন্দ্রমল্লিকা, জার্বেরা, গ্লাডিওলাস, জিপসি সহ নানান প্রজাতির ফুল বিক্রি হয়। জাতভেদে একেকটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪০ টাকা দরে। এছাড়াও রজনীগন্ধা ১৫ টাকা, প্রতি ১০০ পিস গাঁদাফুল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, জার্বেরা ২০ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ১০ টাকা, জিপসি ফুল ২০ টাকা, গ্লাডিওলাস ৩০ টাকা দরে খুচরা বিক্রি হয়। আকার ও ফুলের জাতভেদে তোড়া বা বুকেটগুলোর দামে রয়েছে ভিন্নতা। সর্বনিম্ন ২০০ থেকে এগুলোর দাম শুরু হয়।
ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন রাজশাহীর বাজারে ফুল বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার। ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা দাঁড়ায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে এবছর ফেব্রুয়ারিতে ফুল বিক্রি ১ লাখ টাকা ছাড়াবে না বলে মন্তব্য করেন দোকানীরা।
ফুল বিক্রেতা রাজিব হাসান বলেন, ‘আগে ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হতো। আর এবার বিক্রি ৫ থেকে ৭ হাজারের উপরে যাচ্ছে না। সরকারি অফিস ছাড়া তেমন কোনো অর্ডারও পাওয়া যাচ্ছে না।’
বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফুলের আমদানি পর্যাপ্ত থাকলেও চাহিদা নেই। তবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারিতে ফুলের চাহিদা বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফেব্রুয়ারি ১২
০৭:২৭ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

স্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম হয়ে যায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

সানশাইন ডেস্ক : মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত (এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে চলতি মাসেই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৭ হাজার ৩৬০টি শূন্য পদের তালিকা

বিস্তারিত