Daily Sunshine

সড়কে অবৈধ-ফিটসেনবিহীন যান

Share

রাজু আহমেদ : চোখের সামনে অবৈধ পার্কিং, ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী যানবাহন চলচল করলেও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই আরএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের। সড়কে এসব বিপদজনক যানবাহন ছেড়ে সার্জেন্টদের নজর শুধুমাত্র মোটরসাইকেলের মতো ছোটো যানের দিকে। সড়কে পক্ষপাতমূলক আইনের এমন প্রয়োগ ঘটছে প্রকাশ্যেই। সড়ক সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যানবাহনের কারণে যাত্রীসহ পুরো সড়ক ব্যবস্থাই অনিরাপদ।
ব্যস্ততম সড়কে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে সার্জেন্টকে মোটরসাইকেল ধরতে রীতিমতো চালকের পেছনে দৌড়াতে দেখা যায়। সড়কে দায়িত্বরত সার্জেন্টসহ তার সাথে থাকা কনসটেবলদের ভূমিকা দেখে মনে হয় প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চালক নয়, যেনো কোনো ডাকাত ডাকাতি করে ফিরছেন, তকে চিহ্নিত করা হয়েছে, এখন সার্জেন্ট সেই ডাকাতকে ধরতে দৌড় দিচ্ছেন। এমনকি সার্জেন্ট ও তাদের সাথে থাকা কনসটেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মোটরসাইকেল চালকদের সাথে অসদাচরণের। একাধকি মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীদের অভিযোগ এমনটাই।
এখন পুরো নগরী সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকায় ট্রাফিক বিভাগের এমন অনিয়ম পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টির বাইরে থাকার কথা নয়। আর পক্ষপাতমূলক আইন প্রয়োগ এবং দুর্ব্যবহারে জড়িতদের অন্যতম আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট আরমান ও তোফায়েল। নগরীর সড়কে দায়িত্বরত অবস্থায় তাদের গতিবিধি সরজমিনে পর্যবেক্ষণ অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি নগরীর ভদ্রা সড়কে বিলাসী নামের একটি বাসকে দেখা যায় ভদ্রা হয়ে শিরোইল টার্মিনালের দিকে যেতে। প্রথমে বাসটি দেখে মনে হলো হয়তো সেটি মেরামত করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাসটির রং ওঠা, একদিক ভেঙে পড়া, সামনে নম্বর প্লেট নেই, পেছনে রং দিয়ে লেখা গাড়ির নম্বরটিও মুঝে গেছে। ‘চট্ট চ- ৫’ এর বেশি আর পড়া যায়নি। নেই লুকিং গ্লাস, ইন্ডিকেটর লাইটও কাজ করে না। বাসটির পিছু নিতেই চোখে পড়লো যাত্রী রয়েছে। কিছুদূর এগিয়ে যাত্রী নামলে হেলপরের সাথে কথা বলে জানা গেলো, বাসটি বাঘ-রাজশাহী রুটে চলাচল করছে নিয়মিত। শিরোইল বাস টার্মিনালের সামনে আরো একটি বাসকে দেখা গেছে, ওই সারের কোনো ইন্ডিকেটর বাতি নেই, নেই লুকিং গ্লাস। মংমনসিংহ জ-০৪-০১১৮ নম্বরের এই গাড়িটি রাজশাহী, তানোর, মুন্ডুমালা ও আমনুরা রুটে চলাচল করে। গাড়ির পেছনে অটোতে থাকা এক যাত্রী জানালেন, লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি। এক দেখাতেই যেকেউ বলবে গাড়িগুলোর ফিটনেস নেই, এই গাড়িতে থাকা যাত্রী ও বাইরের পথচারী কেউই নিরাপদ নয়। প্রকাশ্যে এই গাড়ি কিভাবে চলে রাস্তায়!
৪ ফেব্রুয়ারি রাত ৭ টা প্রায়, কাজ শেরে আম চত্ত্বর থেকে পোস্টাল এ্যকাডেমির সড়ক হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন একটি টিভি চ্যানেলের ভিডিও জার্নালিন্ট। এসময় তার মাথায় হেলমেট ছিলো। পোস্টাল একাডেমি থেকে দক্ষিণের বাঁকে সিসি ক্যামেরার আড়ালে সার্জেন্টসহ কয়েকজন পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিলেন। একজন পুলিশ সদস্য সেই সাংবাদিককে থামতে ইশারা করেন। ইন্ডিকেটর সিগনাল দিয়ে সে রাস্তার এক ধারে থামতে যান। এসময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশের ওই সদস্য লাঠি উচিয়ে তার দিকে তেড়ে আসেন এবং অকথ্য ভাষায় দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন। পুলিশের ওই সদস্য সার্জেন্টকে ডেকে বলতে থাকেন, তাকে (পুলিশকে) মোটরসাইকেল চাপা দিয়ে পালাতে যাচ্ছিলো এই চালক। ওই সাংবাদিক জানান, রাজশাহীতে পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্কটা সৌহার্দপূর্ণ। পুলিশ দেখে তার পালানোর কোনো প্রয়োজন নেই, আর চাপা দেয়ারতো প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া তিনি জানেন নগরীর চতুর দিকে সিটি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। অপরাধ করে পালানোর উপায় নেই কারোই। তিনি আরো দাবি করেন, ওই দিন রাস্তায় যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা সত্যিই ভয়াবহ। তার কাছে ড্রাইভিংয়ের লার্নার থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মামলা দেয়া হয়। অথচ এই রুটে নিয়মিত ভুটভুটিসহ অনেক অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন প্রকাশ্যে চলাচল করে। যেগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
একাধিক মোটরসাইকেল চালকদের সাথে কথা হলে, তারাও ট্রাফিক সার্জেন্ট ও তাদের সাথে থাকা ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের বিরুদ্ধে একই ধরণের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ এমনটা করে তারা মামলার মাত্রাটা বাড়িয়ে দিতে চায়। মোটরসাইকেল চালকরা সার্জেন্টদের কাছে ডাকাতসম। অথচ, যারা মোটরসাইকেল চালান তাদের অধিকাংশই নিজেদের যাতায়াত ব্যয় কমানোর জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।
এদিকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টার দিকে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের কাছে এ্যপেক্স শোরুমের সামনে সার্জেন্ট তোফায়েল দুইজন কনসটেবলকে সাথে নিয়ে ডিউটি করছিলেন। ডিউটিরত অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে তাকে মোবাইলে কথা বলতে দেখা যায়। তার চোখের সামনেই জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর ব্যাটারি চালিত অটো ও ইমা গাড়ি থামিয়ে তাতে যাত্রী নামানো এবং ওঠানো হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে অটো ও ইমা দাড়িয়ে থাকার কারণে যানজট নিয়মিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। রাস্তার ওপারেও একই চিত্র। অথচ সেইদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই সার্জেন্টের।
মোবাইলে কথা শেষ হতেই সার্জেন্ট তোফায়েলের একটি মোটরসাইকেলের দিকে চোখ পড়ে। হেলমেট পরা ওই চালককে থামতে বললেও সে চলতে থাকেন। তা দেখে সার্জেন্ট ওই মোটরসাইকেল ধরতে পিছে দৌড় দেন। তবে সার্জেন্ট ওই চালকের নাগাল না পেয়ে ফিরে আসেন। তিনি যখন মোটরসাইকেলের পিছে দৌড়াচ্ছেন তখনো জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর দাড়িয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে অটো-ইমায়। এভাবে প্রায় ৩০ মিনিট জিরো পয়েন্টে দাড়িয়ে দেখা গেলো সার্জেন্টের টার্গেট শুধুমাত্র মোটরসাইকেল। অথচ জিরো পয়েন্ট থেকে গণকপাড়া পর্যন্ত সড়ক দখল করে ব্যবসা করছে একদল মানুষ। এতে ওই সড়ক সংকীর্ণ হয়ে রয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসহ চলাচল করছে যানবাহন। অত্র এলাকায় যানজট নিত্য দিনের বিষয়।
একই দিন রেল স্টেশনের সামনের চৌরাস্তার মোড়ে দাড়িয়েও দেখা গেছে অভিন্ন চিত্র। সার্জেন্টের সিনিয়র পদে ট্রাফিক বিভাগের একজন কর্মকর্তাকে দেখা যায় তিনি সড়কের উত্তরে তাকিয়ে দাড়িয়ে আছেন। তার চোখের সামনে দিয়ে ফিটনেস বিহীন বালুভর্তি ট্রাক একের পর এক দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে। ট্রাকগুলোর অধিকাংশেরই লুকিংগ্লাস নেই, কোনোটার বাম্পার লাগানো, রং ওঠা। স্টেশনের দেয়াল সংলগ্ন সড়কে সারিবদ্ধ ভাবে অন্তত ৬টি বাস যাত্রী ছাড়াই দাড়া করিয়ে রাখা রাত্রি থেকে। এতে ওই সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। এই সড়কে দিন-রাত রাস্তা দখল করে রাখা হয় বাস, এই সড়কেই বাস ধোয়া-মোছার কাজও করা হয়। অথচ পাশেই বাসটার্মিনাল। চাইলেই বাসগুলো সেখানে সরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিকে ঝুঁকিমুক্ত করা যায়।
এর আগে সার্জেন্ট আরমান আম চত্তর এলাকায় ডিউটিরত অবস্থায় একজন মোটরসাইকেল চালককে ধরেন। সাথে হেলমেট না থাকায় মামলা দিতে গেলে ওই চালক সড়কে তার সামনে দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ ভুটভুটি, নম্বর প্লেট বিহীন নিএসজি, মাহিন্দ্রা দেখিয়ে সার্জেন্টকে জিজ্ঞেস করেন, এই যানবাহনগুলোকে ধরবেননা? উত্তরে সার্জেন্ট সাফ জানিয়ে দেয়, ‘আমাকে শিখাতে আসবেন না’। সাথে থাকা কনসটেবল উচ্চস্বরে বলেউঠে, বেশি কথা বলছে, আরো বেশি মমলা দেন সার।
সড়কে ট্রাফিক বিভাগের এমন দায়িত্বহীনতা ও পক্ষপাতমূল ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে আরএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের ডিসি অনির্বাণ চাকমার সাথে সোমবার রাতে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি। রাজশাহী মগানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার রুহুল কুদ্দুস জানান, সড়কে চলাচল করা যানবাহনগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল চালকদের আইন ভঙ্গের প্রবণতা বেশি। একারণেই তাদেরকে বেশি ধরা হয়। যানবাহনের ফিটনেসের অনুমোদন দেয় অন্য বিভাগ। সার্জেন্টসহ ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের দুর্ব্যবহারের প্রসঙ্গে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ফেব্রুয়ারি ১০
০৭:৩৪ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

স্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম হয়ে যায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

সানশাইন ডেস্ক : মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত (এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে চলতি মাসেই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৭ হাজার ৩৬০টি শূন্য পদের তালিকা

বিস্তারিত