Daily Sunshine

করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু আজ

Share
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার : আজ (রোববার) থেকে করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। সারাদেশের মত এ নিয়ে রাজশাহীতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে টিকা নেয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গ্রামাঞ্চলে সরকারি প্রচারণা হয়েছে খুবই কম। ফলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে অনলাইনে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে আসা মানুষের সংখ্যা অনেক কম। রাজশাহীতে প্রথম করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। শনিবার দুপুরে তিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টা থেকে টিকা প্রয়োগ কারর্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যেই উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে করোনার ভ্যাকসিন। রাজশাহী নগরীর তিনটি হাসপাতাল ছাড়াও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে টিকাদান কেন্দ্র ও বুথ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুলিশ লাইনস হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল কেন্দ্র স্থাপন করে টিকা প্রদান করা হবে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আটটি বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সেখানে ৮০০ জনকে টিকা প্রদান করা হবে। শনিবার টিকা প্রদান কেন্দ্র জীবাণুমুক্ত করাসহ ধোয়া-মুছা ও সাজানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়।
সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, সাধারণ মানুষ হিসেবেই নিবন্ধন করেছেন। টিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই ভীতি কাটিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতেই সবার আগে টিকা নিব। টিকা নেয়ার জন্য তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য উল্লেখ করে অনলাইনে নিবন্ধন করেছিলাম।
তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী ফোন করে রোববার সকাল ১০টায় টিকা গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজশাহীর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে করোনা টিকা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার জানান, টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু করার জন্য এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথম দিন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, রাজশাহীর পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন এবং তিনি নিজেও টিকা নেবেন। প্রথমদিন রাজশাহী শহরের তিনিটি হাসপাতাল ও জেলার নয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একযোগে করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচি শুরু হবে।
সিভিল সার্জন বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুলিশ হাসপাতাল, সামরিক হাসপাতালসহ জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টিকা পাঠানো হয়েছে। প্রথমদিন টিকা গ্রহণকারীর সংখ্যা কম থাকার কারণে সীমিত আকারে বুথ চালু করা হবে। তবে পযার্য়ক্রমে চাপ বাড়ার সাথে সাথে বুথের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
করোনা টিকা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। ৫৫ ঊর্ধ্ব বয়সের নাগরিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকসহ ১৫টি ক্যাটাগরির নাগরিক ভ্যাসিনের জন্য এই মুহূর্তে আবেদন করতে পারছেন। গুজবে কান না দিয়ে সকল প্রকার ভয়ভীতি ঊর্ধ্বে থেকে সবাইকে পর্যায়ক্রমে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, প্রথম ধাপে রাজশাহীর ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ টিকার আওতায় আসবে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মহানগরীর ৩টি পয়েন্ট ও জেলার ৯টি উপজেলার প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই ভ্যাকসিনেশন প্রোগাম পরিচালনা করা হবে। একটি করে বুথে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এজন্য রাজশাহী জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তারা টিকা দেওয়ার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, টিকা নিয়ে ভয় বা ক্ষতির কোনো কারণ নেই। রাজশাহীর সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা টিকা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তার সবাই টিকা নেবেন। তাই কোনো গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে টিকা নেওয়ার জন্য অ্যাপে আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, নিবন্ধনে সহায়তা করতে রাজশাহীর ৭২টি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে গ্রামাঞ্চলে অনেকেরই প্রযুক্তিগত জ্ঞান নাও থাকতে পারে- সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্দেশনাটি পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন। তিনি বলেন, ‘আসলে মানুষ দেখতে চায় যে অন্যরা কী করছেন। কাজেই, যখন ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে তখন এমনিতেই সবাই কেন্দ্রগুলোতে যাবে এবং নিবন্ধনের সংখ্যাও বাড়বে।’
গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সরকার স্থানীয় সরকারি প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছে। ভ্যাকসিন নিবন্ধনের জন্য সরকারি ওয়েবসাইটে (ংঁৎড়শশধযধ.মড়া.নফ) প্রায় তিন লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন। প্রথম মাসে ৩৫ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি আরও জানান, করোনার টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে সারা দেশে মোট সাত হাজার ৩৪৪টি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি দলে দুজন ভ্যাকসিনেটর এবং চার জন ভলান্টিয়ার থাকবেন। একটি দল দিনে প্রায় দেড় শ মানুষকে টিকা দেবে। ভ্যাকসিনেটরদের মধ্যে নার্সও থাকবেন। ইতোমধ্যে ১৪ হাজার ৬৮৮ জন ভ্যাকসিনেটর এবং ২৯ হাজার ৩৭৬ জন ভলান্টিয়ারকে টিকাদানের প্রশিক্ষণ দিয়েছে সরকার। প্রতি উপজেলায় তিনটি ভ্যাকসিন সেন্টার থাকবে।
গত ২৫ জানুয়ারি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ৫০ লাখ ডোজ পেয়েছে বাংলাদেশ। সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে তিন কোটি ডোজ অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন কিনেছে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে। এ ছাড়া, ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছে বাংলাদেশ।
ভারত থেকে আসা এই ভ্যাকসিন ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের নেতৃত্বে পরিচালিত কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ পাবে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন। গত বুধবার কোভ্যাক্স একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সে অনুযায়ী, ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় এক কোটি ২২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ।

ফেব্রুয়ারি ০৭
০৪:১৪ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর
Spread the love

Spread the loveস্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মার্চ

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মার্চ
Spread the love

Spread the loveসানশাইন ডেস্ক : ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। এই পরীক্ষা ১৯ মার্চ নেয়ার দিন ধার্য করেছে পিএসসি। বুধবার বিকেলে পিএসসিতে এক অনির্ধারিত সভায় যথাসময়ে এই পরীক্ষা নেয়ার মত দেয়া হয়। পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে এ অনির্ধারিত সভায় কোনো আলোচনা হয়নি।

বিস্তারিত