Daily Sunshine

সু চি: একনজরে আদ্যোপান্ত

Share

সানশাইন ডেস্ক: মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক জেনারেল অং সানের মেয়ে অং সান সু চি। যিনি একজন নীতিবান অধিকারকর্মী হিসেবে দশকের পর দশক ধরে মিয়ানমারের শাসন ক্ষমতায় থাকা নির্দয় সামরিক জেনারেলদের চ্যালেঞ্জ করতে নিজের স্বাধীনতাকে জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন। আর এ কারণে যাকে এক সময় মানবাধিকারের বাতিঘর বলা হতো।
সোমবার তাকেসহ তার ক্ষমতাসীন দল এনএলডির কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। এছাড়া একইসঙ্গে আগামী ১ বছরের জন্য দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ২০১১ সালে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা উত্তরণের আগ পর্যন্ত মিয়ানমারের ক্ষমতায় ছিল সেনাবাহিনী। আজ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির প্রায় এক দশক পর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেল।
জেনারেল অং সানের মেয়ে অং সান সু চির জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৯ জুন। তার জন্মের দুই বছর পর খুন হন তার বাবা জেনারেল অং সান। ১৯৮৮ সালে তার মায়ের দেখাশোনায় মিয়ানমারে ফেরত আসেন। এরপর কয়েক দশ ধরে চলা সামরিক শাসনের বিরুদ্ধ দেশজুড়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। সেই আন্দোলন গুঁড়িয়ে দেয় সেনাবাহিনী। আর গৃহবন্দি করা হয় সু চিকে। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে অন্তত ১৫ বছর বন্দি জীবন কাটান তিনি।
১৯৯১ সালে গৃহবন্দি অবস্থায় নোবেল শান্তি পুরষ্কার পান তিনি। তবে ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উসকে দেয়ার অভিযোগে সু চিকে দেয়া সবচেয়ে সম্মানজনক মানবাধিকার পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয় অ্যামন্যাস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়া ১৯৯৭ সালে সু চিকে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিলের দেয়া ‘ফ্রিডম অব দ্যা সিটি’ খেতাব প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্তু সু চি অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউজ কলেজে পড়াশুনা করেন। মিয়ানমারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৭ সালে সু চিকে ‘ফ্রিডম অব দ্যা সিটি’ খেতাব দেয় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড সিটি কাউন্সিল।
১৯৯৫ সালে বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পান সু চি। এরপর নিয়মিত বাড়ির সামনে বড় জমায়েতে বক্তব্য দিতেন। ১৯৯৯ সালে সু চির স্বামী ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক মাইকেল অ্যারিস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কিন্তু জান্তা সরকার তার দেশে ফেরা আটকে দিতে পারে এক শঙ্কায় তিনি মৃত স্বামীকেও দেখতে যেতে পারেননি, থেকে যান মিয়ানমারেই। ২০০০ সালে আবারও গ্রেফতার হন সু চি। গ্রেফতারের পর ১৯ মাস বন্দিজীবন কাটান।
২০১০ সালে সাধারণ নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর তৈরি রাজনৈতিক দলের বিপুল ভোটে জয়। এরপর সু চি এনএলডির নির্বাচন বর্জন করেন। সমালোচনার মুখে সাবেক জেনারেল থেইন সেইনের নেতৃত্বে আধা বেসামরিক সরকার গঠন করা হয়। এরপর সু চির চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০১২ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরোপিত বিভিনিষেধ তুলে নেন থেইন। মুক্ত হন শত শত রাজনৈতক বন্দি। ২০১২ সালে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে ৪৪ সংসদীয় আসনের ৪৩টিতে জয় পান তার দল। এরপর ওই বছরের মে মাসে নেপিডোয় পার্লামেন্টে নিজ আসনে বসে সু চি। এর এক মাস পর দেশটির রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম ও বৌদ্ধদের সংঘর্ষ বাধে।
এছাড়া ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে পুলিশ স্টেশনে প্রাণঘাতী হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে সেনাবাহিনী। নির্যাতন থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রায় নিয়েছে। ২০১৯ সালে হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপের বিষয়ে নিজের স্বপক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর তার আন্তর্জাতিক সুনাম নষ্ট হয়।
২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বরে ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার অনুষ্ঠিত অবাধ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি এনএলডির নেতৃত্ব দেন এবং বড় রকমের জয় পান তিনি। তার সন্তানেরা বাইরের দেশের নাগরিক হওয়ায় তিনি মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। তবে একজন ডি ফ্যাক্টো নেতা হিসেবেই সুপরিচিত ৭৫ বছর বয়সী সু চি।

ফেব্রুয়ারি ০২
০৬:৫৭ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

স্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম হয়ে যায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মার্চ

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মার্চ

সানশাইন ডেস্ক : ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। এই পরীক্ষা ১৯ মার্চ নেয়ার দিন ধার্য করেছে পিএসসি। বুধবার বিকেলে পিএসসিতে এক অনির্ধারিত সভায় যথাসময়ে এই পরীক্ষা নেয়ার মত দেয়া হয়। পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে এ অনির্ধারিত সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। ২০১৯ সালের

বিস্তারিত