Daily Sunshine

স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারে ভুতুড়ে বিলের সুযোগ থাকবে না

Share

স্টাফ রিপোর্টার : ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, সহজে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও বিল পরিশোধের সুবিধা সম্বলিত বিশেষ এই স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপন কার্যক্রম রাজশাহীতেও চলছে। ’শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহী অঞ্চলে ৫ লাখ গ্রাহকের ঘরে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)। ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই সেবা জনপ্রিয়তা পেলেও রাজশাহীতে এখনও সেভাবে স্থাপন করা যায়নি স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার। এক্ষেত্রে কার্যক্রমটি নানা বিরোধিতার কারণে আটকে আছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারসহ নানা বিষয়ে দৈনিক সানশাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী লিমিটেড (নেসকো) রাজশাহীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি বলবো- নেসকোর স্মার্ট পেইড মিটারগুলো আমরা বসাতে দেরি করে ফেলেছি। কারণ কোম্পানির কর্মকাণ্ড দেরিতে শুরু হয়েছিল। তবে ইতোমধ্যে গত দুই বছরে ডেসকো, ডিপিডিসি, বিডিপি, ওয়েস্ট জোন পল্লী বিদ্যুৎ এই চারটা কোম্পানি ইতোমধ্যে সারাদেশে স্মার্ট মিটার বসাচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকা শহরে ব্যাপক হারে বসছে, খুলনা অঞ্চলে বসছে, পল্লী বিদ্যুতের বিভিন্ন এলাকায় বসছে, বিডিপির চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ এলাকায় বসছে বা বসেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীবাসী কেন এর সুফল অবগত নয়, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। কারণ সারাদেশের জনগণ জানেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথম থেকেই বলেছেন ’তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রযুক্তি যুক্ত করতে যাচ্ছেন’। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তি সংযোজনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হচ্ছে স্মার্ট প্রি-পেইড সিস্টেম। যাতে অনলাইনে বিল প্রদান করা যায়। মোবাইলে যেমন যেকোনো সময় বিল পেইড করা যায় তেমনি এখানেও করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৬ ভাগ অনলাইন বিল সংগ্রহ শুরু করেছি। তাই স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার এসে গেলে শতভাগ বিদ্যুৎ বিল সংগ্রহ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দিয়ে দুটি স্মার্ট মিটার ম্যানুফ্যাকচারিং মিটার স্থাপন করেছেন। আমরা দেশেই স্মার্ট মিটার বানাচ্ছি। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান থেকেই স্মার্ট মিটার নিয়ে বসানো হবে। এই দুটি বিষয় যদি আমরা অনুধাবন করি তাহলে বুঝতে পারবেন স্মার্ট মিটার এমন কিছুই না। সর্বোপরি যে সুবিধা হবে তা হচ্ছে অনলাইনে বিল পেইড করা যাবে। লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পেমেন্ট করা লাগবে না। মোবাইল কোম্পানির মতো যেভাবে কল করলে টাকা খরচ হবে ঠিক বিদ্যুৎ যতটুকু খরচ করবেন ততোটুকুই বিল আসবে।
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে নেসকো রাজশাহীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম বলেন, স্মার্ট মিটার পরিবর্তনের জন্য গ্রাহককে কোনো টাকা দিতে হবে না। অর্থাৎ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিনামূল্যে স্মার্ট মিটার সরবরাহ ও স্থাপন করা হচ্ছে। মিটার স্থাপনের সময় গ্রাহকদের ২০০ টাকার ইমারজেন্সি ব্যালেন্সও দেয়া হচ্ছে। ফলে যেকোনো সরকারি ছুটির দিনে মিটারে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকবে।
এছাড়া অন্যান্য দিনে বিকাল ৪টা থেকে পরের দিন সকাল ১১টা পর্যন্ত মিটারে টাকা থাকুক বা না থাকুক বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকবে। আর গ্রাহক চাইলে ইমারজেন্সি ব্যালেন্স ব্যবহার করে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন।
এছাড়া ইনস্টান্ট রিচার্জের একটা সুযোগ থাকবে। যেহেতু এটা অনলাইন যদি কোনো কারণে বিল পেমেন্ট করতে অসুবিধা হয় রাত দুইটা তিনটা বাজলেও আমাদের কল সেন্টার থাকবে সেখানে বিকাশ রকেট নগদের মাধ্যমে বিল পেমেন্ট করতে পারবেন। কাজেই আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। বরং এটার সুবিধা হচ্ছে মিটার রিডিংয়ের নামে যে অপচয়গুলো হতো সেটি বন্ধ হয়ে যাবে। অনলাইনে লগইন করে দেখতে পারবেন কি পরিমাণ খরচ করছেন। এসএমএস ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারা যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো স্বচ্ছতা পাওয়া যাবে এই স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে। আগে যেটা হতো এতো টাকা বিদ্যুৎ বিলতো হওয়ার কথা না তাও এতো বেশি কেন হলো সেটা বলার সুযোগ নেই। যতোটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে তাই বিল হবে। প্রতিটি গ্রাহক নিজেই কন্ট্রোল করতে পারবে। মিটার রিডারদের দৌরাত্ম্ন কিংবা অবৈধ মিটার লাগানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। গ্রাহকরা না বুঝেই নিজেরা আতঙ্কিত হচ্ছেন। স্মার্ট মিটারে ভুতুড়ে বিলের কোনো সুযোগ থাকবে না। ১০ দিন পর লাইন চালু করলে আগের ৯ দিনের বিল আসবে না। নেসকো প্রাইভেট কোম্পানি নয়, এটা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রতিষ্ঠান। তাই গ্রাহকরা আস্থা রাখলেই সুফল পাবেন।
স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের সুবিধাসমূহ : গ্রাহকের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন; গ্রাহকগণ ১ শতাংশ হারে রেয়াত সুবিধা পাবে; বিদ্যুতের বিলের কপি প্রাপ্তি ও সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই; বিদ্যুতের ব্যবহার অনুযায়ী মিটারের ব্যালেন্স হতে বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করা হবে; মিটার ব্যালেন্স শেষ হওয়ার পূর্বে মিটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকেত দেবে, ফলে গ্রাহক মিটারের অবশিষ্ট ব্যালেন্স সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন; গ্রাহক যে কোনো স্থান থেকে যে কোনো সময় নির্ধারিত অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার মিটারে টাকা রিচার্জ করতে পারবেন; এছাড়া গ্রাহকের সুবিধার্থে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন মিটারে ব্যালেন্স শেষ হলেও ক্রেডিট-এ বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল থাকবে এবং অন্যান্য দিন বিকেল ৪টা থেকে পরের দিন সকাল ১১টা পর্যন্ত ফ্রেন্ডলি আওয়ার-এর সুবিধা পাবে; মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে জরুরি ব্যালেন্সের মাধ্যমে গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন; গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।

জানুয়ারি ২৬
০৭:৩৫ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

স্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম হয়ে যায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মার্চ

৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১৯ মার্চ

সানশাইন ডেস্ক : ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। এই পরীক্ষা ১৯ মার্চ নেয়ার দিন ধার্য করেছে পিএসসি। বুধবার বিকেলে পিএসসিতে এক অনির্ধারিত সভায় যথাসময়ে এই পরীক্ষা নেয়ার মত দেয়া হয়। পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে এ অনির্ধারিত সভায় কোনো আলোচনা হয়নি। ২০১৯ সালের

বিস্তারিত