Daily Sunshine

আড়ানীতে বিএনপির দ্বন্দ্বে আ’লীগ বিদ্রোহী সুবিধায়

Share

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা: আর মাত্র ৩ দিন পর ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে একক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় জয়ের দাবি বিএনপির। তবে শেষ মুহুর্তে এসে তাঁদের-নেতা-কর্মীদের মধ্যে অর্ন্তদ্বন্দ্ব দানা বেধে উঠেছে। এ দিক থেকে এখন জনসমর্থন বাড়ছে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর।
এই পৌর সভায় গত ১৫ সালের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী তোজাম্মেল হক এবং বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম পাল্টা-পাল্টি ভোট করে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মুক্তার আলীর কাছে। সে সময় ৯ টি কেন্দ্রের জরিপে দেখা গেছে, বিএনপির দুই প্রার্থী মিলেও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মুক্তার আলীর সমান ভোট পাননি।
কিন্তু এবার বিএনপির একক প্রার্থী তোজাম্মেল হক অত্যান্ত ফুর-ফুরে মেজাজে রয়েছেন। তার ধারনা, আ’লীগে দুই প্রার্থী থাকার কারণে তিনি এবার জয়ের মালা পরবেন। কিন্তিু নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি অগ্যাত কারণে তার কর্মীদের ধরে রাখতে পারছেন না। অপরদিকে গত বারের ন্যায় এবারও মনোনয়ন বঞ্চিত পৌর বিএনপির অন্যতম নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলামসহ তার লোকজন দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তাদের ভোট দুই ভাগে ভাগ হচ্ছে।
এদিক থেকে বড় একটি ভাগ চলে যাচ্ছে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর নারিকেল গাছ প্রতীকে। কারণ ধানের শীষ প্রতীকের অনেক ব্যাক্তি রয়েছেন-তারা দলীয় প্রার্থীর উপর রাগ করে নৌকায় ভোট না দিয়ে অন্য প্রতীকে দেয়ার মনস্থীর করছেন। ফলে শেষ মুহুর্তে এসে জনসমর্থন বাড়ছে মুক্তার আলীর। প্রতিদিন বিকেল হলে চলছে নারী-পুরুষ সম্বলিত তার বিশাল মিছিল। এ মিছিল দেখে অনেকেই শিহরিত হচ্ছেন। তিনি ইতোমধ্যে গনমাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, আমি নিজেকে কখনই বিদ্রোহী মনে করছি না। আমার কাছে প্রতীক কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, আমার কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী এখন ব্যাক্তি।
আড়ানী বাজারের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী শামিম উদ্দিন বলেন, এখানে নির্বাচন কেন্দ্রিক একটি বৈশম্য কাজ করে। সেটি হলো বাজারের উত্তরপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রেল লাইন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে যে দু’জনকে দলীয় মনোনযন দেয়া হয়েছে তাদের বাড়ি রেল লাইন উত্তরে। সেখানে ৩টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার।
এদিক থেকে রেল লাইনের দক্ষিন প্রান্তে ৬ টি কেন্দ্রে ভোটার রয়েছে প্রায় ১১ হাজার। এর মধ্যে মুক্তার আলীর নিজেস্ব ওয়ার্ডে রয়েছে ২ হাজার ৭ শ ভোট। সব মিলে আমরা শতভাগ আশাবাদি যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে আবারও জয়ের মালা পরবে মুক্তার আলী।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মুক্তার আলী ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি এর আগেও অনেকবার ভোট করেছি। তবে এবারের মতো সাড়া এর আগে কখনো পায়নি। আমি এর আগে একাধারে ইউপি সদস্য, কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র, ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং সর্বশেষ ৫ বছর মেয়র মিলে মোট ২১ বছর আপনাদের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
আমি আপনাদের কাছ থেকে এ মুহুর্তে যে আশার বাণী শুনতে পাচ্ছি সেটা হলো আঞ্চলিকতার টান। আপনারা জানেন, আমার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিলো। কিন্ত রাজনৈতিক ম্যারপ্যাঁচে সেটি হয়নি। আমি আপনাদের ভালবাসার মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, যতদিন বেঁচে থাকবো আপনাদের ক্ষেদমত করে যাবো এবং মরার আগের দিন পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়েই বেঁচে থাকবো।

জানুয়ারি ১৩
০৬:০৩ ২০২১

আরও খবর