Daily Sunshine

ফিরে এলো ‘ঢাকাই মসলিন’

Share

রাবি প্রতিনিধি : মসলিন ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র। ফুটি কার্পাস নামক তুলা থেকে উৎপন্ন অতি চিকন সুতা দিয়ে তৈরি হতো মসলিন। ১৭০ বছর পূর্বে দেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া সেই গৌরব আবারও ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন একদল গবেষক। দীর্ঘ ছয় বছরের চেষ্টায় পূর্বের ন্যায় আবারও মসলিন বুনতে সক্ষম হয়েছেন তারা।
কথিত আছে, ঢাকাই মসলিন এতটাই মিহি ছিল যা দিয়াশলাইয়ের বাক্সের ভেতর একটি পুরো শাড়ি রাখা যেত। একটি আংটির ভেতর দিয়ে মসলিনের শাড়ি বের করা যেত। প্রচলিত আছে, কারিগরদের আঙুল কেটে দেওয়ার পরে ঢাকাই মসলিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়।
শুরুর গল্পে জানা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মসলিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। পরে গবেষণাকাজের স্বার্থে আরও সাত সদস্যকে কমিটিতে যুক্ত করা হয়। প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেনকে।
অর্ধ যুগের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় মসলিন তৈরির গল্প শুনতে সম্প্রতি কথা হয় গবেষণা প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মসলিন কাপড় বোনার জন্য ‘ফুটি কার্পাস’-এর কথা জানতে পারি। পূর্বে ভারতবর্ষে তথা বাংলাদেশে এই গাছ চাষ হতো। তাই ভাবলাম মসলিন কাপড়ের নমুনা পেলে, সুতার ডিএনএ সিকুয়েন্স ফুটি কার্পাস গাছের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই হয়তো কোনো তথ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের হাতে মসলিন কাপড় বা ফুটি কার্পাস কোনটাই ছিল না।
ফুটি কার্পাস তুলা সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জায়গাতে খোঁজখবর নিয়েছি। এরমধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাঁর ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেখে গাজীপুরের কাপাশিয়া থেকে এক ছাত্র আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। জানায়, কাপাশিয়ায় এই তুলার চাষ হতো। গাছের খোঁজে সে এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাতে চিঠি পাঠানো হয়, মাইকিং করা হয়। পরে সেখানে নয়টা তুলা গাছ পাই। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৮ প্রজাতির তুলা গাছের সন্ধান পাই। সংগ্রহ করে এসব গাছ রাবির গবেষণা মাঠে চাষ শুরু করি।
পরে স্থানীয় উৎস থেকে মসলিন খুঁজতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আট টুকরা কাপড়ও সংগ্রহ করা হলেও সেগুলোর কোনোটি মসলিন ছিলো না। পরে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। একপর্যায়ে মসলিনের নমুনা সংগ্রহের জন্য ভারতের ন্যাশনাল মিউজিয়াম কলকাতায় যাই। কিন্তু সেখানেও পাওয়া যায়নি। পরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে যাওয়া হয়। সেখানে মসলিনের কাপড়ের নমুনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়।
প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, কাপাশিয়া থেকে সংগ্রহ থেকে করা তুলার আঁশ বেশি শক্ত, সাদা ধবধবে। এটা মসলিনের সেই সুতার কাছাকাছি যেতে পারে এমন ধারণা ছিলো। তারপর লন্ডন থেকে সংগৃহীত মসলিন কাপড়ের ডিএনএ আর সেই তুলার ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হলো সংগৃহিত তুলার জাতটা ফুটি কার্পাস।
মসলিন তৈরি করার জন্য সাধারণত ৩০০-৫০০ কাউন্টের সুতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু ফুটি কার্পাস থেকে ৫০০ কাউন্টের সুতা তৈরি করা সহজ নয়। এই সুতা আধুনিক যন্ত্রে হবে না, চরকায় কাটতে হবে। চরকায় সুতা কাটা তাঁতিদের খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে কুমিল্লায় পাওয়া যায়। কিন্তু তারা মোটা সুতা কাটেন যাতে কাউন্টের মাপ আসেনা। পরে তাদের ৪০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। দুই বছর প্রশিক্ষণ দিয়ে সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত ছয় জনকে বাছাই করা হয়।
ড. মনজুর বলেন, অবশেষে সুতা নিয়ে তাঁতির দুয়ারে হাজির হলাম। নারায়ণগঞ্জে দুজন তাঁতির খোঁজ পেলাম। কিন্তু এত মিহি সুতা দিয়ে কেউ বানাতে রাজি হচ্ছিল না। পরে তাদের কয়েক ধাপে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বহু কষ্টে তারা বুনন পদ্ধতি রপ্ত করে। অবশেষে ১৭১০ সালে বোনা শাড়ির নকশা দেখে হুবহু একটি শাড়ি বুনে ফেলেন তাঁতিরা। প্রথম অবস্থায় শাড়িটি তৈরি করতে খরচ পড়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মোট ছয়টি শাড়ি তৈরি করা হয়, যার একটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে অধ্যাপক মনজুর হোসেন বলেন, এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। বরাদ্দের ৩০ শতাংশ খরচ হয়েছে অবশিষ্ট প্রায় ৭০ শতাংশ টাকা সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। আমাদের যথেষ্ট লোকবল, সুতা, তাঁত আছে। আশা করছি আরও শাড়ী তৈরি করা সম্ভব হবে। কমার্শিয়াল বা ব্যবসা কেন্দ্রিক শাড়ী তৈরি করার জন্য সরকারিভাবে বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

জানুয়ারি ১২
০৭:০০ ২০২১

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

কবর খুঁড়তেই দেখা গেল আরবি হরফের ছাপ!

কবর খুঁড়তেই দেখা গেল আরবি হরফের ছাপ!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এক মৃত ব্যক্তির কবর খোরার সময় আরবি অক্ষর লেখা বের হয়েছে কবরে দুই পাশের মাটিতে। কবরের দুই পাঁজরের পাশে বিসমিল্লাহ, সুরা ইয়াছিন অক্ষরের কিছু অংশ এবং পূর্ব পাশে রয়েছে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৪১ও ৪২তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

৪১ও ৪২তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

সানশাইন ডেস্ক : ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি এবং ৪২তম বিশেষ বিসিএসের এমসিকিউ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী ১৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে হবে। তার আগে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টা

বিস্তারিত