Daily Sunshine

মসলিন পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ করব

Share

রাবি প্রতিনিধি : মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে মসলিন তুলে দিয়ে তাঁর মসলিন পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তোগীর গাজী বীরপ্রতীক। সোমবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুই দিনের সফরে বর্তমানে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন তিনি।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের লেকচার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘মসলিন প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ শীর্ষক গবেষণার অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মসলিন পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সকল কিছু করার কথা বলেছিলেন। আমরা চেষ্টা করছি যেন তা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে দেওয়া যায়। পরে দাম আরো কমানোর চেষ্টা করব। আশা করি, মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে মসলিন তুলে দিয়ে তাঁর মসলিন পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, দেশকে স্বাধীন করলেও বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা বিনির্মাণ করে যেতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে মসলিন পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপর গবেষকরা সেই মসলিন পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গবেষণা প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক ও রাবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক বলেছেন, দেশের তাঁতশিল্পের ঐতিহ্যকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সরকার। শুধুমাত্র রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঘিরেই রয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প। বর্তমানে নানা সমস্যায় রয়েছে এই এলাকার তাঁতশিল্পীরা। সরকার এসব সমস্যা নিরশনে কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ রেশম বোর্ড ও তাঁত বোর্ডের মাধ্যমে এসব সমস্যা কাটিয়ে এই শিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনা হবে।
সোমবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের লাহারপুরে তাঁত পল্লী পরিদর্শন শেষে তাঁতী, রিলার ও বসনী সমাবেশে এসব কথা বলেন বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রী।
এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, বিদেশী তাঁত পণ্যে সবমিলিয়ে ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরেও দেশের তাঁতশিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে, বিদেশীদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছি না। ভারত ও চীন বিভিন্ন তাঁত পণ্য অল্প দামে ও সুদর্শন রেশম সুতা দিতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারবো না? এতে অব্যশই আমাদের কিছু প্রযুক্তিগত দুর্বলতা রয়েছে। এসব দুর্বলতা দূর করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। প্রয়োজনে চীন থেকে বিশেষজ্ঞ এনে দেশের তাঁতশিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রী বলেন, আওয়ামীলীগ খেত-খামার থেকে উঠে আসা একটি দল। বিএনপি-জামায়াতের সময় ধ্বংশ হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তাঁত ও রেশম শিল্প। কিন্তু আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে তাঁত শিল্পের উন্নয়নে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, তাঁত ও রেশম শিল্প সংশ্লিষ্টদের ঋণের পরিমান বাড়ানো হবে। কারন বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৬০ হাজার টাকায় তেমন কিছুই হয় না। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে বলেও জানান বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি। পরে মন্ত্রী রানিহাটি ইউনিয়নের হরিনগর এলাকার তাঁতপল্লী ঘুরে দেখেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ফজলে হোসেন এমপি, বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ আলম, বস্ত্র ও পাঠ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অলিউল্লাহ, জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মু. আবদুল হাকিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, পুলিশ সুপার এএইচএম আব্দুর রকিবসহ অন্যান্যরা।

জানুয়ারি ১২
০৬:৫৬ ২০২১

আরও খবর