Daily Sunshine

পদ্মার চরে আলুর ফলনে বাম্পার

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: দিনে পরিমিত রোদ, সঙ্গে রাতের কুয়াশা। নেই পোকা-মাকড়, কিংবা ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ। সর্বোপরি এবছর আলুচাষে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন চাষিসহ সংশ্লিষ্টরা। লাভের আশা নিয়ে এখন আলুক্ষেত পরিচর্যায় বাস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। এরমধ্যে বাঘার প্রমত্তা পদ্মাচরের আলুর গুনগত মান ভালো হওয়ায় এটি স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি রপ্তানী হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
সংশ্লিষ্ঠদের মতে, এ বছর শীত মৌসুমে রাজশাহীতে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আর প্রতি হেক্টরে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন। সর্বোমোট ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবছর অধিক উৎপাদন হবে বলে আশা করছে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।
এদিকে থেকে আলু প্রধান এলাকা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কৃষকরা আগাম আলু চাষ করে বাম্পার ফলন পেতে চলেছেন। বিশেষ করে উপজেলার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলসহ সমতল এলাকার শত-শত কৃষক এবার আলু চাষে ভাল দাম পাওয়ায় তারা আলু চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।
তারা বলছেন, গত বছর আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় এ বছর অনেকেই আলু নিয়ে আতঙ্কে ছিল। কিন্তু এবার বাজার মূল্য ভাল হওয়ায় সবাই আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ অঞ্চলের আলু স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশা-পাশি রপ্তানী হচ্ছে রাজধানী ঢাকায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর বাঘা উপজেলায় আলু চাষের লক্ষমাত্রা ছিল প্রায় দুই হাজার হেক্টর। যা অতিক্রম করে চাষাবাদ হয়েছে আড়াই হাজার হেক্টর। এরমধ্যে অর্ধেকের বেশি লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল পদ্মার চরাঞ্চলে। সে মোতাবেক চরবাসীদের অনেকেই আগাম আলু চাষকরে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হচ্ছেন। তাদের দেয়া তথ্য মতে, বাঘার চরাঞ্চলের আলুর গুনগত মান ভাল। এ কারণে এখান থেকে প্রতি আলু মৌসুমে বাস এবং ট্রাকে যোগে আলু চালন দেয়া হয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
বাঘার চরাঞ্চলের কৃষক বাবলু দেওয়ান জানান, তিনি এবছর পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষা করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, এ বছর একদিকে যেমন আলুর বাজার ভাল, অন্যদিকে আবহাওয়া অনুকুল থাকায় ফলনও আশানুরুপ। অনুরুপ কথা বলেন, সমতল এলাকার বাউসা গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক ও তেুঁথুলিয়া গ্রামের গ্রামের কৃষক নাজমুল হক।
বাঘার চরাঞ্চলের চেয়ারম্যান আজিজুল আজম বলেন, উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলকে এক কথায় সবজি ভান্ডার বলা হয়। কারণ এখানে এমন কোন সবজি নেই যা উৎপাদন হয়না। তার মতে, চরাঞ্চলে কাঁচা মরিজ ও পেঁয়াজ-রসুন থেকে শুরু করে আলু, বেগুন, টমেটো, গাজর, সিম, করলা, পুইসাক, লাও, মিষ্টি কুমড়া ও মুলাসহ সকল প্রকার সাকসবজি উৎপাদন হয় এবং এ সমস্ত উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়।
সার্বিক বিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাঘার মাটি কৃষি আবাদের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। বিশেষ করে এ উপজেলার চরাঞ্চলে সব ধরনের সবজির উৎপাদন ভাল হয়। এদিক থেকে এবার সমতল এলাকাতেও অনেক সবজি উৎপাদন হচ্ছে। তার মতে, এবার শীত মৌসুমে লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমান আলু চাষাবাদ হয়েছে দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। তিনি সকল প্রকার কৃষি আবাদের জন্য কৃষকদের নিয়ে মাঝে-মধ্যে সমাবেশের মাধ্যমে নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান।

জানুয়ারি ১২
০৬:৪৬ ২০২১

আরও খবর