Daily Sunshine

সফল কৃষি উদ্যোক্তা ফলচাষী বাকী

Share

আরিফুল ইসলাম তপু, বাগাতিপাড়া: থাইপেয়ারা, কমলা, মাল্টা, কাশ্মীরি কুল ও গোড়মতি আম চাষ করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার চাষী আব্দুল বারী বাকী। প্রথমে লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন কোটি টাকার অধিক মালিক হয়েছেন তিনি।
এতে শুধু তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন তাই না, বেকারদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখছে তার এই ফলজ চাষ। মৃত্তিকা পরীক্ষাগারে মাটি পরীক্ষার মাধ্যেমে কীটনাশক ছাড়াই তিনি এখন প্রায় দু‘শ বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা, দার্জিলিং ও চায়না কমলা ৪৫ বিঘা, মাল্টা ৪৫ বিঘা, কাশ্মীরি কুল ২৪ বিঘা ও গোড়মতি আম ১০ বিঘা চাষ করেছেন। তার উৎপাদিত এইসব ফল ফলাদী এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। কীটনাশক মুক্ত ফলজ চাষে সকল সমস্যা সমাধানে কৃষিবিভাগ, আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহনের দাবী সফল ফলজ চাষী বাকীর।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কৃষক আব্দুল বারী বাকী নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার খন্দকার মালঞ্চি গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। বাকী বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল মনে নতুন কিছু করার। সেই স্বপ্ন আর আত্মবিশ্বাস থেকেই পথ চলা। মাঝপথে প্রতিবন্ধকতা, তারপরেও হতাশায় রাতের ঘুম নষ্ট না করে আগামী দিনের সোনালী স্বপ্নকে বুকে লালন করে অবশেষে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
১৯৯৪ সালে এস.এস.সি পাশ করে কলেজে ভর্তি হলেও নানা প্রতিকুলতায় পড়াশুনায় আর এগোতে পারেননি তিনি। তবে স্কুলের গন্ডি পেরোনো আত্ন প্রত্যয়ী ছেলেটির স্বপ্ন বুনন শুরু হয় তখন থেকেই। চতুর্থ শ্রেনীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় পড়াশুনার পাশা-পাশি বাবার সাথে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হন। তারপরে আস্তে আস্তে অভীষ্ঠ লক্ষ্যে এগিয়ে চলা।
ছোট বেলা থেকে তিনি স্বপ্ন দেখতেন কৃষিক্ষেত্রে নিজেকে স্বাবলম্বী করার। সেই থেকে শুরু করেন পেয়ারা ও পেঁপেসহ নানা ফলজ চাষ। বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দূর্যোগে তার ফলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও থেমে থাকেননি তিনি। নতুন করে সাহস সঞ্চার করে ঝুঁকি নিয়েছেন ঘুরে দাঁড়াবার।
বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমরেজ আলী বলেন, লাখ টাকা বিনিয়োগে শুরু করা থাই-পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, কাশ্মীরি কুল ও গোড়মতি আম চাষী এখন কোটি টাকার মালিক। ৬ বিঘা দিয়ে শুরু করা বাগান এখন দাড়িয়েছে প্রায় সাড়ে তিন’শ বিঘায়।
সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মৃত্তিকা পরীক্ষাগার থেকে মাটি পরীক্ষা করে এই ফলজ চাষ যোগ্যতা যাচাই করে কীটনাশক ছাড়াই থাইপেয়ারা, কমলা, মাল্টা, কাশ্মীরি কুল ও গোড়মতি আম চাষ করছেন তিনি।
প্রতিবেশী ও সমাজসেবী মহিদুল ইসলাম মনি বলেন, নিজের পাশাপশি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও আশার সঞ্চার করে যাচ্ছেন বাকী। তার ফলজ বাগানে প্রায় শতাধিক শ্রমিক নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষনের কাজ করে। প্রতিজন শ্রমিকের মজুরী তিন‘শ থেকে চার‘শ টাকা। আব্দুল বারী বাকীর নিজস্ব জমির পরিমান কম হলেও প্রতি বিঘা আট থেকে বার হাজার টাকায় লিজ নিয়ে তিনি এখন নিজ এলাকার পাশাপাশি লালপুরে, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রায় সাড়ে তিন‘শ বিঘা জমিতে ফলজ চাষ সম্প্রসারণ করেছেন।
পেয়ারা বাগানে কাজ করা শ্রমিকদের সর্দার মাসুম রেজা ও মানিক চন্দ জানান, কৃষক বাকি ভাই পেয়ারা চাষ করাতে আমরা নিয়মিত কাজ পেয়েছি এবং তার দেওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে নিজের ও পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে সংসারের উন্নতি করেছি।
বাগাতিপাড়ায় কর্মরত সাবেক উপজেলা তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার সরকারের অনুপ্রেরনাতেই তিনি থাই পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন বলে জানান। শুরুতে তিনি পুঠিয়ার এক চাষীর কাছ থেকে থাই পেয়ারার চারা নিয়ে বাগান করেন। প্রথম দিকে এক লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলেও এখন কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কৃষি ঋণ এবং সরকারীভাবে অন্যান্য সহায়তা পেলে আগামীতে পেয়ারার বাগান সম্প্রসারনের পাশাপশি ড্রাগন, শরিফা, হাই ব্রীট নারিকেলসহ উন্নত ফলের চাষ করতে চান বাকি। তিনি দাবী করেন, কীটনাশক ছাড়া পেয়ারা চাষ করতে পলিথিনের ব্যাগ প্রয়োজন। তবে আইনী বাধ্য বোধকতার জন্য নানা সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে। থাই-পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, কাশ্মীরি কুল ও গোড়মতি আম চাষের মতো অন্যান্য পুষ্টিকর ফলকে কীটনাশকের বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে সরকারীভাবে পলিথিনের বিকল্প ব্যকস্থার মাধ্যমে সমস্যা উত্তরনে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা সব চাষীদের প্রাণের দাবী মনে করেন তিনি।
এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, ‘আব্দুর বারী বাকিকে একজন সফল চাষী বলা যায়। তার ঋণ সুবিধা পাওয়ার জন্য রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে যোগাযেগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি, ড্রাগন, শরিফা, হাই ব্রীট নারিকেলসহ অন্যান্য ফলের চাষ করতে চাইলে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করা হবে জানান উপজেলা প্রশাসনের ওই কর্তা ব্যক্তি।
স্থানীয় সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুল এ ফলজ বাগান পরিদর্শন করবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, বাকীসহ নির্বাচনী এলাকার যে কোনো উদ্যোক্তা আমাকে পাশে পাবেন সব সময়। তাদের যেকোনো সমস্যা আমাকে বললে যেটুকু পারি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব ইনশাহ্আল্লাহ্।

জানুয়ারি ১১
০৫:৪৬ ২০২১

আরও খবর