Daily Sunshine

পবায় পুকুরখনন নিয়ে উত্তেজনা

Share

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবায় পুকুরখননকে কেন্দ্র গ্রামবাসীর সাথে খননকারিদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে বড়গাছীর গোসাইপুর-শুভিপাড়া গ্রামের বিলে। পুলিশ উপস্থিত হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উক্ত স্থানে পুকুরখনন না করতে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছে ভুক্তভোগিরা।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিভিন্ন স্থানে চলছে পুকুর খননের কাজ। অভিযোগ রয়েছে এক শ্রেণীর মৎস্য ব্যবসায়ীরা স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের মদদে রাতারাতি পুকুর খনন কাজ করছে। বিলের পানি প্রবাহের স্থান বন্ধ করে বড় বড় দিঘী কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজনদের মাঝে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। অপরদিকে মাত্রাতিরিক্ত পুকুর খননের ফলে এই অঞ্চলে বিভিন্ন ফসলি জমি অতিদ্রুত কমে যাচ্ছে।
জানা গেছে, পুকুরখনন সিন্ডিকেট ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কৃষকদের বেশী টাকার বাৎসরিক ইজারার লোভ দেখায়ে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি করেন। পরে ওই ফসলী জমিগুলোতে পুকুরখননের পূর্বে পুলিশ-প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের সাথে বিশেষ চুক্তি করে। এরপর একাধিক স্কেভেটারের মাধ্যমে পুকুর খনন কাজ শুরু হয়। তারা আরো বলেছেন, মৎস্য ব্যবসায়ীরা বিলের পানি প্রবাহের স্থান বন্ধ করে বড় দিঘী কাটছে। এলাকায় যত্রতত্র ভাবে পুকুরখনন করায় কৃষকরা বছরের বেশীর ভাগ সময় বিলে পানি বন্ধি থেকে। এতে করে কৃষকদের প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকার ফসলহানী ঘটছে। পাশাপাশি কৃষিকাজ না থাকায় বেকারত্বসহ চুরি ছিনতাই বাড়ছে। অনেকে আবার শহরে রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।
ওই এলাকার মোজাম্মেল হক, তজেল ইসলাম, মজনু ইসলাম, দুলাল হোসেন, নেশারত আলী, মিজানুর রহমান, সাবদুল ইসলাম, মকবুল ও মহসীনসহ অনেকে বলেন, পুকুরখননের জন্য এমনিতেই একটু বৃষ্টি হলেই জমি ডুবে যায়। কয়েকবছর আগেই যে জমিগুলোতে আলু ও গমের আবাদ হয়েছে। একমাত্র পুকুরখননে ও পানি নিস্কাশন না হওয়ায় এখন সেই জমিগুলো ডুবে আছে। এখানে আবারও পুকুরখনন হলে বাড়িও ডুবে যাবে। তারা আরো বলেন, পুকুর খননের কারণে এই এলাকায় কৃষিকাজ নেই বললেই চলে। কৃষিশ্রমিক বছরের বেশীলভাগ সময়ই কাজ পাই না।
এব্যাপারে পুকুরখননকারি মাহবুব-উর-রহমান স্বপন বলেন, যাদের জমি হট্টগোলে তারা কেহই ছিলেন না। বড় বিষয় হচ্ছে পুকুরখননের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার নেয়া হয়েছে। জমিগুলো ডুবে থাকায় মালিকগণের কাছে থেকে লীজ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা রাখার শর্তে স্থানীয় ভূমি অফিস, কৃষি অফিস, মৎস্য অফিস, উপজেলা প্রশাসন সার্ভে করে পুকুরখননের পক্ষে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে। বড় বিষয় হচ্ছে আমাদের লোকজন সেদিন পুকুরখননের জন্য যায়নি। তারা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশের সাইনবোর্ড সাঁটানোর জন্য গিয়েছিল। তখনই কিছু দুস্কৃতিকারি আমার লোকজনের ওপর হামলা করে।

জানুয়ারি ১০
০৭:১৮ ২০২১

আরও খবর