Daily Sunshine

দাবি না মানলে ঢাকা অভিমুখে মিছিল : সাতক্ষীরায় বাদশা

Share

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের নদ-নদীগুলো বাঁচাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ ও দেশজুড়ে চলমান ওয়ার্কার্স পার্টির নদী আন্দোলনের দাবিগুলো না মানা হলে; প্রতিটি জেলা থেকে ঢাকা অভিমুখে মিছিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
বুধবার সকালে ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা কমিটির উদ্যোগে বেতনা ও মরিচ্চাপ নদীতে জোয়ারাধার প্রকল্প
(টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-টিআরএম) সহ ৭ দফা দাবিতে আয়োজিত পদযাত্রা ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। বাংলার চাষাবাদ, জনজীবন, প্রকৃতি, প্রায় সবই নদীনির্ভর। জীবন-জীবিকা, সাহিত্য-সংস্কৃতি সবকিছুর সাথে এদেশের নদীগুলো জড়িয়ে আছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সিংহভাগ নদীর অবস্থাই ভালো নয়। অবৈধভাবে নদী ভরাট করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট গড়ে তোলায় ক্রমেই কমছে পানিপ্রবাহ। পরে এসব নদীজুড়ে জেগে উঠছে চর। যার কারণে নাব্যতা হারাচ্ছে নদী।
সাংসদ বাদশা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নদীগুলোকে পূর্বের ধারায় ফেরাতে না পারলে চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে জনজীবন। মনে রাখতে হবে, নদীগুলো বেঁচে না থাকলে বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে না। তাই দেশের নদ-নদী বাঁচানোর আন্দোলনে নেমেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। আগামীতে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এই আন্দোলন আরও জোরালোভাবে করা হবে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দাবি জানিয়েও যতি তা বাস্তবায়িত না হয়, তবে আমরা সারা দেশ থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা শুরু করবো।
রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা আরও বলেন, সংবিধানে স্পষ্টভাবে লিখা আছে, এদেশের মালিক সাধারণ জনগণ। জাতীয় সংসদে এই সংবিধান যেদিন পাশ হয়, সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “এই সংবিধান শুধুমাত্র কলমের কালিতে লিখা নয়, এই সংবিধান ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে লিখা।” যে সংবিধান প্রতিষ্ঠার পেছনে এতো মানুষের রক্ত, সেই সংবিধানকে উপেক্ষা করে দেশ পরিচালিত হলে ওয়ার্কার্স পার্টি তা কখনোই সমর্থন করবে না।
মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সংবিধান যারা গ্রহণ করে না; তাদেরও রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের কিছু মন্ত্রী আছেন যারা স্বাধীনতার চেতনা সহ্য করতে পারেন না। তারা কারা? তাদের নাম প্রকাশ হওয়া দরকার। যে মন্ত্রীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সংবিধান অনুসারে চলতে চান না; তাদের আমরা মন্ত্রীসভায় দেখতে চাই না। আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে আহ্বান জানাই, আপনি রাজাকারের যে তালিকা তৈরী করছেন, সেখানে রাষ্ট্রের সংবিধান যারা মানে না তাদের নামও অন্তর্ভূক্ত করুন।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বারবার ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে তাদের সব সহায় সম্পদ হারাচ্ছেন। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে তাদের জীবন জীবিকা কৃষি ও অন্যান্য পেশা রক্ষায় জলাবদ্ধতারোধে নদী ও সংযোগ খাল খনন অতীব জরুরী। টিআরএম এর মাধ্যমে পলি পড়ে মজে যাওয়া বেতনা ও মরিচ্চাপ নদী ও খালে পানি প্রবাহ বাড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, নদী খাল শুকিয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চল এক বিরানভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। মানুষ তার পেশা হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ছে। অনেকে দেশান্তরী হচ্ছেন। গ্রামের পর গ্রাম সারা বছর ধরে পানিমগ্ন হয়ে থাকছে।
পদযাত্রা ও সমাবেশে এমপি ফজলে হোসেন বাদশা ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবগুলো হলো- টিআরএম পদ্ধতি চালু করা, নদী ও খাল খনন করা, নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ স্থাপন, দক্ষিনাঞ্চলে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, স্লুইসগেটগুলো সচল করা, সকল অবৈধ ইজারা বাতিল এবং নদীতীরে বসবাসকারী মানুষকে সরিয়ে তাদের পুনর্বাসন করা।
সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সভাপতি মহিবুল্লাহ মোড়লের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দলের কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরো সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুল হক কিসলু।

জানুয়ারি ০৭
০৪:৫০ ২০২১

আরও খবর