Daily Sunshine

পরিযায়ী পাখির কলতানে মুখর রাবি

Share

রাবি প্রতিনিধি : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বছর জুড়ে সেজে থাকে নানা রূপে। আর শীত আসলে সে রূপ বেড়ে যায় বহুগুণ। এসময় পরিযায়ী পাখিদের আগমণে যেনো প্রাণে ছোঁয়া লাগে পুরো ক্যাম্পাসে। এবারও এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। করোনাকালীন বন্ধ ক্যাম্পাসে প্রতিবারের মতোই এবারের শীতেও এসেছে হাজারো পরিযায়ী পাখি। পরিযায়ী পাখির আগমনে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে নির্জন ক্যাম্পাস।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া, তাপসী রাবেয়া, রহমতুন্নেছা হলের পেছনের চামপঁচা, শামসুজ্জোহা হলের পাশের পুকুরসহ বেশ কয়েকটি জলাশয়ে বসেছে পরিযায়ী পাখির মেলা। জলাশয়ের পাড়ে সরালিরা ঝাঁক বেঁধে উড়ছে শাঁই শাঁই করে, খোলা আকাশে দু-এক চক্কর দিয়ে আবার নেমে আসছে। খুনসুটি করছে নিজেদের মধ্যে, দিচ্ছে ডুবসাঁতার।
কেউ স্বচ্ছ পানিতে ডানা ঝাপটাচ্ছে, কেউ আবার পালকের ভেতর মুখ গুঁজে পোহাচ্ছে মিষ্টি রোদ। প্রতিবছর শীতজুড়ে অবাধ বিচরণ থাকে তাদের। এবারও পরিযায়ী পাখির কলকাকলি, খুনসুটি আর জলকেলিতে নিসর্গমতি এই ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে স্বর্গ।
প্রতিবছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয়ের উত্তরাঞ্চল থেকে ঝাঁক বেঁধে উড়ে আসে পরিযায়ী পাখিদের দল। তীব্র শীত আর ভারী তুষারপাতে টিকতে না পেরে উষ্ণতার খোঁজে তারা পাড়ি জমায় দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ দেশ বাংলাদেশে। দেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে সেসবের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।
দুই ধরনের পাখি আসে রাবি ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি থাকে ডাঙায় বা ডালে। আরেক ধরনের পাখি থাকে পানিতে। তবে রাবির জলাশয়গুলোতে আসা বেশিরভাগ পাখিই হাঁস জাতীয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাখিই ছোট সরালি। আর বাকিদের মধ্যে রয়েছে বড় সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুন্তে হাঁস, ভূতি হাঁস ও ঝুঁটি হাঁস ইত্যাদি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিযায়ী পাখিদের দেখে উচ্ছ্বসিত হন। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও অনেকে আসেন পরিযায়ী পাখি দেখতে। ক্যাম্পাসে এবার খুব বেশি পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আ-আল মামুন। বন্ধ ক্যাম্পাসে একদিন সকালে হাটতে গিয়ে ছাত্রী হল সংলগ্ন পুকুরে তিনি পরিযায়ী পাখিগুলো দেখতে পান। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অন্যান্য সময় খুব কম পরিমাণে পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। তবে এবারে প্রচুর পরিমাণে পরিযায়ী পাখির আগমন আমাকে মুগ্ধ করেছে।
নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাওয়ায় গত কয়েকবছর ধরে আসছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারেও এসেছে। ইতিমধ্যে হাজারো সরালি পাখি পাড়ি জমিয়েছে ক্যাম্পাসে। এবং দিন দিন এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ আরো বলেন, নভেম্বরের শুরু থেকে পাখিরা আসতে শুরু করেছে। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীদের সতর্ক থাকতে বলেছি।

জানুয়ারি ০৬
০৭:১৫ ২০২১

আরও খবর