Daily Sunshine

পদ্মার বুকে সরিষা চাষে বিপ্লব

Share

নুরুজ্জামান, বাঘা: ‘শীতকালে প্রকৃতিক সৌন্দর্য’ বিষয়ক রচনা লিখতে বললে সরিষা খেতের কথা আসবেই। সরিষাখেতের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয় প্রজাপতি আর মৌমাছিরা। রংবেরঙের প্রজাপতি হলুদ ফুলগুলোর ওপর বসে মধু খাচ্ছে, কী চমতকার একটা দৃশ্য। আর এ দৃশ্য দেখতে হলে আসতে হবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠা চকরাজাপুর ইউনিয়নে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠ। এবছর অনেকেই আগাম সরিষা চাষ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
উপজেলার সমতল এলাকার বাইরেও বিস্তির্ণ চরাঞ্চলে এ বছর সবচেয়ে বেশী সরিষার চাষ করা হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠা বিশাল এ চরের মাঠ জুড়ে সরিষার চাষ করে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। তাদের মনে এখন নতুন করে আশা সঞ্চার করেছে সরিষা।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, গতবারের চেয়ে এবার অনেক বেশি পরিমান সরিষা চাষাবাদ হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার সমতল এলাকার ৬ টি ইউনিয়ন এবং ২ টি পৌর সভায় যে পরিমান সরিষা চাষ হচ্ছে। আনুপাতিক হারে সমপরিমান চাষ হচ্ছে দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে।
তাদের তথ্য মতে, এবছর উপজেলায় প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। গতবছর আবাদ করা হয়েছিল ১৪০০ হেক্টর জমিতে। গতবছর উৎপাদন হয়েছিল প্রতি হেক্টরে ৯ মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা গত বারের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।
বাঘার চরাঞ্চলের কৃষক হাফিজ শিকদার জানান, এবার ৩ বিঘা জমিতে তিনি সরিষা আবাদ করেছেন। এ আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক কম লাগে। তার মতে, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে এবার বাম্পার লাভ হবে।
তিনি বলেন, সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল-ই তৈরী করে না। এ সরিষা ভাঙ্গিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরী হয় যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসাবেও ব্যবহৃত হয়।
অনুরুপ কথা বলেন, সমতল এলাকার আমোদপুর গ্রামের কৃষক আলী আকবর ও মহাসিন আলী। তারা জানান, গত বছর সরিষার চাষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (নিম্নচাপ) হওয়ায় অনেকেই আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাই এবার সরিষার চাষের পাশাপাশি প্রায় সব এলাকাতেই অন্য ফসল পেঁয়াজ, রসুন, মসুর, আলু, বেগুন ও গম চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ্ সুলতান জানান, উপজেলার সমতল এলাকার বাইরে বিস্তির্ণ চরাঞ্চলে পলি জমে মাটির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে এবছর ব্যাপক হারে সরিষার চাষ করা হয়েছে।
আমরা কৃষকদের বিনামুল্যে নানা প্রকার কৃষি বীজ ও সার উপকরণ দিয়ে সহায়তা করেছি। তার মতে, এবছর বারি-১৪ জাতের সরিষা কৃষকের স্বপ্ন পূরনের পাশা-পাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

জানুয়ারি ০৬
০৭:০১ ২০২১

আরও খবর