Daily Sunshine

রহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফির বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের অনাস্থা

Share

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আল শফি আনসারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে অনাস্থা দিয়েছেন ১০ ইউপি সদস্য। গত ২৭ ডিসেম্বর রবিবার গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এ অনাস্থাপত্র দেয়া হয়।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে ইউপি সদস্যরা অনাস্থার অনুলিপি দিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক বরাবর।
অনাস্থায় ১০টি সুনির্দিষ্ট অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করা হয় ইউপি চেয়ারম্যান শফি আনসারীর বিরুদ্ধে। ১২ জনের মধ্যে ১১ ইউপি সদস্যই অনাস্থা দিলেও পরে একজন প্রত্যাহার করেন।
অন্য ইউপি সদস্যদের অনাস্থা প্রত্যাহার করতে চেয়ারম্যান শফি আনসারী বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনাস্থা দিয়েছেন, প্যানেল চেয়ারম্যান বাইরুল ইসলাম (৭ নং ওয়ার্ড), ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, সানাউল ইসলাম, তজিবুর রহমান, বাবর আলী, সোহরাব হোসেন, ইসমাইল হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রুলিয়ারা বেগম, কোহিনূর ও জোসনা বেগম। এছাড়াও ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য আলাউদ্দিন অনাস্থা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে।
অনাস্থায় ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান শাহ আল শফি আনসারী ইউপি সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত মাসিক সভা করেন না। টিআর, কাবিখা, এডিপি খাত হতে আসা প্রকল্পের পদাধিকার বলে সভাপতিকে কাজ বাস্তবায়ন করতে দেয়া হয়না।
কৃষি প্রনোদণা পেতে সভা না করে সার, বীজ সঠিক সময়ে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেননি। এতে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী-সন্তানের কাছে যাওয়া-আসার কারণে বিভিন্ন নাগরিক সেবা বঞ্চিত হয় ইউনিয়নবাসী। এমনকি ২০২০-২১ অর্থবছরে মাতৃত্বকালীন তালিকা চিঠি অনুযায়ী না দেয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
ইউপি সদস্যরা অনাস্থাপত্রে উল্লেখ করেন, অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইউজিপি) তালিকা সভায় চূড়ান্ত করার পরও চেয়ারম্যান আবারও তার ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করেন।
একইভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে ভিজিডি যাচাই-বাছাই করার পরেও পুনরায় পরিবর্তন করেন শফি আনসারী। এমনকি সভা চলাকালীন সময়ে ইউপি সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেও চাঁদার দাবিতে ফাইলে স্বাক্ষর না করা ও বিল না দেয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব তহবিলের অর্থ ব্যাংকে জমা না করে আত্মসাৎ করেন গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আল শফি আনসারী।
রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, গত রবিবার অনাস্থা দেয়ায় বিভিন্নভাবে চেয়ারম্যান তা প্রত্যাহার করতে চাপ দিচ্ছে। এটি না করলে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিরুপায় অবস্থায় আমরা অনাস্থা দিয়েছি। ইউনিয়ন পরিষদকে তিনি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন।
৪নং ওয়ার্ড সদস্য সানাউল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন থেকে ৪০ দিনের কর্মসূচির বিলে সাক্ষর করতে অনীহা দেখাচ্ছে। তার কাছে ঘুরে ঘুরে না পেয়ে ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি জানালে সোমবার দুপুর উপজেলায় সাক্ষর করেছে। ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ ৩০০টি কম্বলের মধ্যে ৪নং ওয়ার্ডের জন্য ভাগ হয় ১০টি। কিন্তু এই ১০টি কম্বলের মধ্যে এখনও ৪টি কম্বল পায়নি।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে রহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আল শফি আনসারী বলেন, আমি আওয়ামী লীগ করি, অন্যদিকে সকল ইউপি সদস্য বিএনপির। তাই রাজনৈতিক মদদে এসব অভিযোগ ও অনাস্থা দেয়া হয়েছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানুয়ারি ০৬
০৭:০১ ২০২১

আরও খবর