Daily Sunshine

বাগমারায় ভেঙ্গে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা

Share

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়েছে বলে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও রোগীর অভিভাবকেরা এ অভিযোগ করেছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা সময়মত আসেন না। অনেকে আসলেও তারা মুঠোফোনে ফেসবুক ও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যস্ত সময় কাটান বলে অধিকাংশ রোগির স্বজনেরা জানিয়েছেন। আবার এসব ডাক্তারদের অধিকাংশই উপজেলা ও জেলা সদরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগি দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীর সর্ব বৃহৎ বাগমারা উপজেলার সাড়ে চার লাখ জনসাধারণের জন্য ৩৩ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উন্নয়ন করেছিলেন। সেখানে দেখভালের কোন লোকজন না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির চিকিৎসা সেবা ব্যহৃত হচ্ছে বলে এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগিরা জানান।
এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্রটির সেবার মান একেবারে নিম্নে নেমে যাওয়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় স্বয়ং বাগমারার সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শনিবার সকাল ১০ টায় সালেহা ইমারত কোল্ড স্টোরেজ মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. গোলাম রাব্বানীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে কমিটির সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক।
তিনি বলেন, বাগমারা একটি বিশাল উপজেলা। এ জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে এখানে ৩১ শয্যার হাসপাতালটিকে এখন ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, তারপরও এখানে সেবার মান সামান্যতম বৃদ্ধি পায়নি।
উপজেলার আনাচে কানাচে একের পর এক ব্যঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সের্ন্টা । সেখানে রোগীরা টাকা দিয়ে নেবার নামে প্রতারিত হচ্ছে অথচ উপজেলার একমাত্র সরকারী হাসপাতালে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিতে আগ্রহী হচ্ছে না। ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছে না। তারাই আবার ক্লিনিকে গিয়ে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা করছে । এটাই কী ডাক্তারদের ধর্ম। ডাক্তার মানে সেবক। সরকার সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা খরচ করে ডাক্তার তৈরি করছে অথচ তারাই ডাক্তার হয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারিত করেছ সাধারণ জনগনকে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এর পরিবর্তন দরকার। সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সেক্টরের প্রায় ১০-১২ টি সমস্যা প্রজেক্টরের মাধ্যমে সংসদ সদস্যের সামনে তুলে ধরে এর সমাধানে সহযোগীতা কামনা করেন। পরে সংসদসদস্য সমস্যাগুলো অগ্রাধীকার ভিত্তিতে সমাধানের জন্য সভায় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সম্প্রতি সরজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে এমন দৃশ্য নজরে পড়ে। এখানে দু-একজন চিকিৎসক থাকলেও তারা বিভিন্ন ওষধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগি ও তাদের স্বজনরা জানান, তারা দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ওষুধ কোম্পানীর লোকদের নিয়ে ডাক্তারেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ডাক্তারের টেবিলের চারপাশে রোগীর ভিড় জমলেও তারা সেদিকে লক্ষ করছেন না। তারা ওষুধ কোম্পানীর লোকজনদের সাথে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়াও জরুরী বিভাগে রোগী ভর্তি হতে আসলে হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি নেই বলে রোগিদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিদায় করছেন। বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে কোন চিকিৎসককে দেখা যায় নি।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ধরনের চিকিৎসা হচ্ছে না। চিকিৎসকেরা সকাল ৯ টায় হাসপাতালে আসলে তারা বেলা ১১ টার মধ্যে বিদায় হয়ে চলে যান। সর্বোচ্চ দেড় দুই ঘন্টা থাকার পর তারা আবারো রাজশাহী অথবা অন্য কোন ক্লিনিকে কাজ করতে চলে যায় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। যার কারণেই হাসপাতাল থেকে রোগীরা ভাল চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এখানকার এক্সরে মেশিন থাকলেও তা চলে না। বার বার মেরামত করে আনলেও তা নষ্ট হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের একটি সুবিধাভোগী মহল বাইরের ক্লিনিকের সাথে যোগসাজসে কৌশলে মেশিনটি নষ্ট করে রাখে। একই অভিযোগ এ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে। গাড়ী ভাল থাকলে ড্রাইভার থাকে না। আবার ড্রাইভার থাকলে শোনা যায় গাড়ী নষ্ট। এ যেন নিত্য দিনের ঘটনা।
এ হাসপাতালের চিকিৎসকদের এমন বেপরোয়া চলাফিরার কারণে নার্সদের (সেবিকা) সেবার মান কমে গেছে। কোন কোন সময় নার্সরা রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। তাদের আচরণে অনেকেই রোগী নিয়ে বাহিরে ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে চলে যায়। নার্স ও ওয়ার্ডবয় মুঠোফোনে ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। স্যালাইন দেয়া একাধিক রোগির স্যালাইন শেষ হয়ে রোগীর শরীর থেকে স্যালাইনে রক্ত চলে গেলেও দেখার কেউ থাকে না।
জানা গেছে অধিকাংশ নার্সদের বাড়ি বাগমারায় হওয়ায় তারা রোগী ও রোগীর স্বজনদের সাথে এমন দুর্ব্যবহার করার সাহস দেখান। এলাকাবাসী অভিযুক্ত নার্স ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর হাছেন আলী অভিযোগ করেন, তিনি তার এক আত্মীয়র চিকিৎসার খোঁজ খবর নিতে হাসপাতালে এসেছিলেন। তার সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সরা খারাপ আচরন করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে অবহিত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও হাসপাতালের বিভিন্ন পরিবেশগত দিক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, হাসপাতালের ভিতরের পরিবেশ একোবারে নোংরা। এখানে প্রাচীরের বিভিন্ন ভাংগা দিক দিয়ে গরু ছাগল প্রবেশ করে এমনকি দিনের বেলায় নেশাখোরনাও আড্ডা বসায় সেখানে। এছাড়া হাসপাতালের প্রাচীর ঘিরে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ স্থাপনা। তাদের কারণেও হাসপাতালের পরিবেশ নানানভাবে বিগ্নিত হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগিরা।
এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী অভিযোগের অভিযোগের অধিকাংশই স্বীকার করে বলেন, আমি আসার পর থেকে হাসপাতালটিতে সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়ে তার অনেকটাই বাস্তাবায়ন করেছি। আমি এখানকার সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে চাই। তাই এখানকার সমস্যাগুলো সংসদ সদস্যের সামনে তুলে ধরেছি। তিনি আমাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়া অনেক সমস্যা আমরা নিজেরা সমাধানের উদ্যোগে নিয়েছি। আগামী তিন মাসের মধ্যে এর বাস্তাবায়ন সবাই দেখতে পাবেন।

ডিসেম্বর ২৮
০৭:১৩ ২০২০

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

পাথর কুড়িয়ে চলে সংসার

পাথর কুড়িয়ে চলে সংসার

স্টাফ রিপোর্টার, রাবি : ভোর ছয়টা। মাঘের কনকনে শীত। কুয়াশার চাদরে আবৃত চারপাশ। রোদ নেই, উল্টো মৃদু বাতাস বইছে। বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট স্থলবন্দরের পাশে মহানন্দা নদীতে নিজেদের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত শ্রমিক। নদীর স্বচ্ছ জলে তারা সকলেই পাথর কুড়োচ্ছেন। হিমালয় থেকে উদ্ভূত হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৪১ও ৪২তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

৪১ও ৪২তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

সানশাইন ডেস্ক : ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি এবং ৪২তম বিশেষ বিসিএসের এমসিকিউ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী ১৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে হবে। তার আগে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টা

বিস্তারিত