Daily Sunshine

দাদনের ফাঁদে নিরব কান্না

Share

নিয়ামতপুর প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুরে সাধারণ মানুষ দাদন ব্যবসায়িদের বেড়াজালে বন্দি হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দাদন ব্যবসায়িদের কব্জা থেকে বের হতে না পেরে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে তাদের জীবন। ফলে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
নিঃস্ব হয়ে পড়া এক মাদ্রাসার শিক্ষককে সুুুদের টাকা দিতে না পারায় তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার কিছু ভদ্রবেশী নামধারী লোকও অবৈধভাবে পুঁজি গড়ে তুলতে এসব দাদন ব্যবসা শুরু করেছে।
আবার অনেকে এনজিও ও সমিতি থেকে স্বল্প পরিমান সুদে ঋণ নিয়ে দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে অসহায় মানুষদের কাছে সেটা বেশি লাভে দাদন দিচ্ছে। এক হাজার টাকা নিলে প্রতিমাসে দাদন ব্যবসায়িকে ১শ থেকে ৩শ’ টাকা সুদ দিতে হয়। আবার কেউবা জমি, মেশিন, বসতবাড়ি, বাড়ির প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বন্দক রেখে দাদন ব্যবসায়িদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করছে।
উপজেলার কন্যাপাড়া গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে আশেকপুর মাদ্রাসার শিক্ষক ভুক্তভোগী আনিছার রহমান অভিযোগ করে বলেন, তিনি উপজেলার গরাইগ্রামের নরেশ চন্দ্র বর্মনের ছেলে রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ভিম চন্দ্র বর্মনের কাছে ব্যবসায়িক কারণে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করি। পরে আরো ১ লাখ টাকা নিয়েছেন তিনি। এ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে দিতে হয় ব্যাংকের ফাঁকা চেক, তিন টাকার নন জুড়িশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর। এ টাকার উপর প্রতিমাসে প্রথম ৫ মাস ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার জন্য ৭ হাজার টাকা, তারপর থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকার জন্য সুদ দিতে হয় ১২ হাজার টাকা।
এভাবে ৩ বছরে ৪ লাখ ৭ হাজার সুদের টাকা নিয়মিত পরিশাধ করে আসছি। কিন্তু করোনা মহামারির জন্য গত জুনমাস থেকে কোন সুদের টাকা দিতে পারিনি। আমি ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চেয়েছি তার আসল টাকা পরিশোধ করার জন্য। তারপরও আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমাকে এ দাদন ব্যবসায়িদের হাত থেকে বাঁচান।
শুধু আনিছুর রহমান নয় উপজেলার বিভিন্ন মহল্লা থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন নিরীহ মানুষ।
আইন সম্মত বা বৈধ না হওয়া সত্বেও এ ব্যবসার সাথে জড়িতদেরও নানা কুট কৌশলের কারণে সমাজের বিরুদ্ধে ‘টু’ শব্দটি পর্যন্ত করা হচ্ছে না। কিন্তু দিনে দিনে এর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকার কতিপয় লোকের সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুদের ব্যবসা এলাকায় ভয়াবহ রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা যদি সুদ ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে ভবিষ্যতে এ অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে এর পরিনতি। এ ব্যাপারে থানা-পুলিশেরও এগিয়ে আসা উচিৎ।
বর্তমানে গ্রামাঞ্চলের কিছু উঠতি যুবক পেশা হিসেবেও দাদন ব্যবসাকে বেছে নিয়েছে। তারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পুঁজি তৈরি করে দাদন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন বিশেষ করে মোটর সাইকেল ও স্বর্ণের বিভিন্ন গহনা নেওয়ার প্রবণতা দাদন ব্যবসায়িদের মাঝে বেড়ে গেছে। টাকা ফেরত দিতে দেরি হলেই সেসব মূল্যবান জিনিসপত্র তাদের হয়ে যাচ্ছে।
এতে করে সাধারণ মানুষ তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। দাদন ব্যবসায়িরা টাকা দেওয়ার সময় জমির দলিল, ব্যাংকের ফাঁকা চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেয়। যখন কেউ টাকা ফেরত দিতে পারেনা তখন ঐ চেক স্ট্যাম্পে ইচ্ছেমতো টাকা বসিয়ে পাওনাদারের নিকট দাবি করে। এমনকি প্রশাসনিক সাহায্য নিয়েও তারা ঐ টাকা আদায় করে।
অনেক দাদন ব্যবসায়িরা অন্য ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে রাতা রাতি লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক বনে যাওয়ার আশায় এ দাদন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের বেড়া জালে বন্দি হয়ে অনেক সহজ সরল সাধারণ মানুষ জমি, ঘর-বাড়ি থেকে শুরু করে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। অনেকে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তাদের অত্যাচারে বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
আসল টাকার সুদ দিতে দিতে চক্রবৃদ্ধি হার ছাড়িয়ে দ্বিগুণ টাকা দিয়েছে। কিন্তু এরপরও দাদন ব্যবসায়ির পাওনা এখনও রয়েছে। এ রকম দাদন ব্যবসায়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে রয়েছে।
এসব দাদন ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার এবং গ্রামের সাধারণ মানুষদের সচেতন করে তুলে তাদের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করা দরকার বলে দাবি করেন সুধী সমাজ।

ডিসেম্বর ১২
০৬:০২ ২০২০

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

প্রাণ ফিরে পাচ্ছে রাবির টুকিটাকি চত্বর

স্টাফ রিপোর্টার ,রাবি: টুকিটাকি চত্বর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চিরপরিচিত একটি চত্বর। প্রায় ৩৫ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির লাইব্রেরি চত্বরে ‘টুকিটাকি’ নামের ছোট্ট একটি দোকান চালু হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে টুকিটাকি নামটি ছড়িয়ে পড়ে। দোকানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। ফলে সবার অজান্তেই একসময় লাইব্রেরি চত্বরটির নাম হয়ে যায়

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

আসছে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

সানশাইন ডেস্ক : মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত (এমপিও) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে চলতি মাসেই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৭ হাজার ৩৬০টি শূন্য পদের তালিকা

বিস্তারিত