Daily Sunshine

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু: গতি ফিরবে উত্তরের অর্থনীতিতে

Share

রাজু আহমেদ: দুর্বল যোাগাযোগ ব্যবস্থার করণে উত্তরের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এক প্রাকার অবহেলার মধ্যেই পার করছে সময়। শিল্প ও কলকারখানা না থাকায় এই অঞ্চলের শিক্ষিত ও দক্ষ জনবল বেকারত্বের মধ্যেই দিন পার করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে সময় ফিরছে উত্তরের। আগামীতে শুধু জাতীয়ই নয় আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল উরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আর এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে যমুনার উপর নির্মাণ শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু।
যমুনা নদীতে নির্মিত বহুল প্রতিক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। যমুনার ওপর নির্মাণ হতে চলা সেতুটি জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক যোগাযোগ নেটয়োকার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। বর্তমান বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হবে এই নতুন রেল সেতু। এটি চালু হলে জাতীয় ও আন্তুর্জাতিক পর্যায়ে উত্তর বঙ্গের সাথে ব্যবসাবাণিজ্যের প্রসাবে ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সকল মহল। এই সেতুর ক্ষেত্রে মূলত রেলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ধরণের পণ্য পরিবহণকেই বেশি গরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের দেয়া তথ্য মতে, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধারিন সাথে উত্তর ও দক্ষিণ রেল যোগাযোগ চালু হয়। প্রথমে ৪টি ট্রেন দৈনির ৮বার পারাপারের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রী চাহিদায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দিলে কমিয়ে দেয়া হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে প্রতিদিন ৪৪টি ট্রেন স্বল্প গতিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সিঙ্গেল লাইনের ফলে ক্রসিং জটিলতায় সময় নষ্ট হয়। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি ঘটছে সিডিউল বিপর্যয়। তবে যমুন নদীর ওপর দিয়ে ট্রেনের এমন খুড়িয়ে চলার দিন শেষ হচ্ছে।
স্থানীয়দের চাহিদা মতো রেল পথ যোগাযোগের উন্নয়নে বর্তমান বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে ৪ দশমিক ৮ কিমি দৈর্ঘের ডাবল লেনের রেল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। সেতুটি নির্মাল হলে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এই এক সেতুর ওপর দিয়ে ১০০ থেকে ১২০ কিমি বেগে দুইটি ট্রেন একত্রে চলাচল করতে পারবে। পরিবহণ করা যাবে সবধরণের মালামাল। এক দেশের সাথে আরেকটি দেশের যে যোগাযোগ সেটার অভ্যন্তরিন কাঠামোর ক্ষেত্রেও এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরা রাখবে। নতুন লাইন হবে ৩০কিমি। সেতুটিতে হবে ডাবল লাইনের ট্রাক।
ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন ওপর দিয়ে এক দিনে ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। মিটারগেজে ১০০ কিমি, আর ব্রডগেজে ১২০ কিমি গতি চলাচল করবে প্রতিটি ট্রেন। মিটারগেজ ও ব্রডগেজ কন্টেইনারসহ পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করানো যাবে। যা ছিলো এই অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের দাবি।
জাপান-বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ১৬ হাজর ৭৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে জাইকা। মোট ব্যয়ের প্রায় ১২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা দেবে জাপানের সহযোগীতা সংস্থা জাইকা। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবার কখা রয়েছে।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, উত্তরের জেলাগুলোর অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। সেতুটি নির্মাণ শেষে চালু হলে আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যগুলো ঢাকার পাশাপাশি চিটাগং ও সিলেট পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবো। এই অঞ্চলে দ্রুত শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠবে। শিল্প কলকারখানার কাঁচামাল সরাসরি চিটাগং বন্দর থেকে এখানে নিয়ে আনতে পারবো। অর্থনৈতিক কাঠামোতে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর এর মধ্যদিয়ে বেকরাত্ব দূর হবে বলে আমি মনে করি।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এ্যন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এই সেতু চালু হলে রেল পথে উত্তরের সাথে এই কানেকটিভিটি শুধুমাত্র দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইন্ডিয়া, নেপাল, ভূটানসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ গড়ে উঠবে। ভারত থেকে এক রাতে চিটাগাংয়ে পাথর পাঠাতে চাইলে আগে তা সম্ভব হতো না। এই সেতু নির্মাণ হলে তা সম্ভব হবে। রাজশাহী চেম্বারের মাধ্যমে আমিই প্রথম এই দাবি জানিয়েছিলাম। আমি ৩৮টা পয়েন্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছিলাম। এর মাধ্যমে ১২টা দাবি মেনে নেয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু গুরুত্ব তুলে ধরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলে পণ্যবাহি ট্রেনের চাহিদা থাকলেও এতোদিনেও আমরা চালু করতে পারিনি। কারণ পুরোনো সেতুর লোড ক্ষমতা ছিলো না। ক্যাপাসিটির চাইতে বেশি ট্রেন চালছে এই সেতুর ওপর দিয়ে। এতেকরে সিডিউল ঠিক রাখা সম্ভভ হচ্ছে না।
ইন্ডিয়ার কাছে বাংলাদেশের রেল পথের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ইন্ডিয়ান পণ্যবাহী ট্রেনের ট্রাফিক বাড়ছে। ওদের এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে পণ্য নিতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগে। আমদের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করলে তাদের এই সময় লাগবে মাত্র ১দিন। এতে করে তাদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। তারা উত্তরের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য নিয়ে এনে ঢাকা হয়ে চিটাগণ পোর্ট ব্যবহার করতে আগ্রহী। অক্টোবর মাসে ১৪৫ টি পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রেন পশ্চিমাঞ্চল রেলে প্রবেশ করেছে। সেপ্টেম্বর মাসে এসেছে ১৪৪টা ট্রেন। স্বাধীনতার পর এই সংখ্যাটা সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৭ সালের কোন এক মাসে সর্বোচ্চ ৯৭টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন প্রবেশ করে। ইন্ডিয়ার যে ট্রাফিক উভয় দেশের কাছেই এটার একটা গুরুত্ব আছে। উত্তরাঞ্চলের বেনাপল, দর্শনা, রহনপুর, বিরল এই চারটি স্থলবন্দর দিয়ে ইন্ডিয়ার পণ্যবাহী ট্রেন প্রবেশ করে। এই ট্রেনগুলোতে করে পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, গরুসহ বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়। এতে করে করোনা পরিস্থির মধ্যেও দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়। করোনার মধ্যে ট্রাক বন্ধ হয়ে গেলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের পণ্যবাহী ট্রেন যোগাযোগকে কাজে লাগানো হয়। ইন্ডিয়া থেকে পাথর আসে পদ্মা সেতুন জন্য। দেশিয় ডিমান্ডতো আছেই সেই সাথে রয়েছে আন্তর্জাতিক ডিমান্ড। নেপাল ও ভুটানেরও বাংলাদেশের রেল পথের প্রতি আগ্রহ আছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের এই কর্মকর্তা রেল পথকে সাশ্রয়ী উল্লেখ করে বলেন, উত্তরা ইপিজেডের (নিলফামারী) জন্য কাঁচামল আনতে একএকটি কনটেইনার প্রতি ট্রাকে তাদের পরিবহণ খরচ পরছে ৭০ হাজর টাকা। সেখানে ট্রেনের মাধ্যমে ওই একই কনটেইনার আনতে খরচ পরবে ৪০ হাজার টাকা। এই হিসেবই বলে দেয় যমুনার ওপর নির্মাণ হতে চলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু গুরুত্ব আমদের দেশের অর্থনীতির জন্য কতটুকু গুরুত্ব বহণ করে।

নভেম্বর ৩০
০৫:৪৪ ২০২০

আরও খবর

বিশেষ সংবাদ

কবর খুঁড়তেই দেখা গেল আরবি হরফের ছাপ!

কবর খুঁড়তেই দেখা গেল আরবি হরফের ছাপ!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এক মৃত ব্যক্তির কবর খোরার সময় আরবি অক্ষর লেখা বের হয়েছে কবরে দুই পাশের মাটিতে। কবরের দুই পাঁজরের পাশে বিসমিল্লাহ, সুরা ইয়াছিন অক্ষরের কিছু অংশ এবং পূর্ব পাশে রয়েছে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৪১ও ৪২তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

৪১ও ৪২তম বিসিএস পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

সানশাইন ডেস্ক : ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি এবং ৪২তম বিশেষ বিসিএসের এমসিকিউ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। আগামী ১৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে একযোগে হবে। তার আগে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টা

বিস্তারিত