Daily Sunshine

জনবল ও যন্ত্রপাতি সঙ্কটের অজুহাত কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না খামারিরা

Share

আসাদুজ্জামান নূর : হন্যে হয়ে চাকুরি না খুঁজে উদ্যোক্তা হয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রতি জোর দিচ্ছে সরকার। সেই পথেই হাঁটতে গিয়ে হোচট খাচ্ছেন অনেক তরুণ। খামার করে স্বনির্ভর হতে গিয়ে মিলছে না সঠিক পরামর্শ ও সেবা। রাজশাহীর প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক তরুণ উদ্যোক্তা ও খামারিদের অভিযোগ, খামার করেও গবাদিপশুর চিকিৎসা সেবা, কৃত্রিম প্রজনন, টিকাদান ও গরু মোটাতাজাকরণ কার্যক্রমে পাচ্ছেন না কাঙ্খিত সেবা।
এদিকে রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলছে, জনবল সঙ্কট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। সঙ্কট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অশ্বাস দেয়া হয়েছে প্রধান দপ্তর থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহযোগিতা ছাড়াই রাজশাহী জেলায় গড়ে উঠেছে হাজার হাজার গরু মোটাতাজাকরণ ও পোল্ট্রি খামার। সরকারি পশু ডাক্তারের সহযোগিতা না পাওয়ায় বিভিন্ন হাতুড়ে ডাক্তারের পরামর্শে চলছে এসব খামার। ফলে বাড়তি অর্থ ও ভুল পরামর্শে ঘটছে নানা দূর্ঘটনা। লাগামহীনভাবে ভুলভাল চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে রেজিষ্টারবিহীন ভুয়া ডাক্তার।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় হাঁস, মুরগি, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, গাভীসহ গবাদিপ্রাণি ও পোল্ট্রির মোট ১৪ হাজার ২২০ টি খামার রয়েছে। এরমধ্যে গরু হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার ১০ হাজার ৩৫৪ টি। সংখ্যায় যা সর্বাধিক। এছাড়াও গাভীর খামার ৩৩৯টি, ছাগলের ২৬২টি, ভেড়ার ১৯৬টি, লেয়ার মুরগি ৪৪৪টি, ব্রয়লার ৮৫৭টি, মহিষের ১১৯টি, সোনালী মুরগির ৫১টি, কবুতরের ১২২২টি, টার্কি ১৯৪, কোয়েলের ৪২টি এবং হ্যাচারি বা ব্রিডার ৮টি খামার রয়েছে।
জেলায় হৃষ্টপুষ্ট গরু-মহিষের ১০ হাজার ৪৭৩টি খামারে দেশি গরু রয়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ২১৬টি। আর শঙ্কর জাতের গরু রয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২১টি। মহিষ রয়েছে ১১ হাজার ৩৪২টি। এছাড়া ২৬২টি খামারে ১০ লাখ ১৮ হাজার ৪৮টি ছাগল এবং ১৯৬টি খামারে ৮৫ হাজার ৭৯৪টি ভেড়া পালন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে জেলায় ১২৭টি হাঁসের খামারে রয়েছে আট লাখ ২৪ হাজার ৭১৫টি হাঁস। মুরগি আছে ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৯টি। ১২২২টি খামারে আছে তিন লাখ ৭৬৬টি কবুতর।
এসব গবাদি পশুপাখির রোগ নিরাময়, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরামর্শের জন্যে মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদগুলো শূন্য থাকায় জেলার খামারগুলোয় বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। খামারিরা দুধ, গোশত ও ডিম উপাদন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। পাচ্ছেন না সুলভমূল্যে চিকিৎসাসেবা। চিকিৎসা করাচ্ছেন বাইরের ভুয়া নামধারী পশু ডাক্তার দিয়ে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরসূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মঞ্জুরীকৃত ১১৮টি পদের মধ্যে ৪০টি শূন্য। ফলে প্রকট হয়ে উঠেছে জনবল সঙ্কট। প্রয়োজনীয় জনবল সঙ্কট হওয়ায় ভুয়া ডাক্তার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সরকারি ডাক্তার নিয়োগ হলে অবৈধ ও নামধারী ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সকল কাঠামো না থাকায় ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। উপজেলায় মিনি ল্যাব প্রয়োজন থাকলেও জেলা-উপজেলা মিলিয়ে গবাদিপ্রাণির পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি মাইক্রোস্কোপ ছাড়া কিছুই নেই।
রাজশাহী প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ১১৮টির মধ্যে ৪০টি শূন্য পদ। এগুলো হলো জেলার তানোর উপজেলায় ৬টি, বাগমারায় ৭টি, গোদাগাড়ীতে ২টি, পবায় ৪টি, মোহনপুরে ৪টি, দূর্গাপুরে ৪টি, চারঘাটে ৫টি ও পুঠিয়া উপজেলায় ৪টি পদ শূন্য। এমনকি জেলা দপ্তরেও রয়েছে জনবল সঙ্কট। এর ফলে পশুপাখির নিয়মিত টিকাদান, চিকিৎসাসেবা, কৃত্রিম প্রজনন ও গরু মোটাতাজাকরণ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন খামারিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর নগরীর এক গো-খামারী বলেন, ‘আমার খামারে মোট ৭৩টি গরু রয়েছে। অসুস্থ হলে লাখ টাকার গরুকে তো আর ফেলে রাখে যায় না। তাই নিজে নিজে চিকিৎসা করাই। প্রাণিসম্পদে তথ্যের জন্য ফোন দিলে বিভিন্ন তথ্য, চিকিৎসা বলে দেয়। সরাসরি খামারে তাঁরা আসে না। যা করার আমি নিজেই করি।’
অধিকাংশ সময়ই দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় খামার মালিকদের। প্রায় সময়ই গরুর বিভিন্ন রোগবালাইসহ নানা সমস্যা হলেও প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। পাওয়া যায়না ডাক্তার। তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই অজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করান বলে জানান অপর এক খামারি।
এদিকে, দপ্তরে জনবল সঙ্কট ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোহা. ইসমাইল হক। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে জনবল সঙ্কটের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় অফিস থেকে সঙ্কট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অশ্বাস দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর শূন্য পদগুলোয় পদায়নের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।
ড. মোহা. ইসমাইল হক বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় শূন্য পদগুলোয় পদায়ন হলে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। অনেকেই উচ্চ পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ায় এই সেক্টরে একটা গ্যাপ পড়েছে। ফলে জনবল কমে যাওয়ায় অল্প কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসা দিতে পারছে না। প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর স্টেরয়েড ও হরমোন জাতীয় ওষুধের বিক্রি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে মানুষকে সচেতন এবং জেলার সর্বত্র কঠোরভাবে প্রশাসনও মনিটরিং করছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, জেলায় স্টেরয়েডসহ ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি ঔষুধ অন্য কোথাও বিক্রি হওয়ার বিষয়ে জানতে পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নভেম্বর ২০
০৬:২৬ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ৩ এপ্রিলের স্থগিতকৃত নিয়োগ পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সেকশন অফিসার ও পাবলিক রিলেশন অফিসার পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদের লিখিত

বিস্তারিত