Daily Sunshine

পর্যবেক্ষণের বাইরে ফার্মাসি

Share

রাজু আহমেদ: রাজশাহী জেলা ও মহানগরীর বৈধ-অবৈধ প্রায় ৪ হাজার ফার্মাসির মাধ্যমে প্রতিদিন দেশের প্রথম সারীর ২০টি ওষুধ কোম্পানী গড়ে প্রায় দুই কোটি টাকার বেশি ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থানীয় ফার্মাসিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অধিক মুনাফার লোভে মিডফোর্ডের নকল ওষুধসহ অনুমোদনহীন ও বিক্রয়নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে এইসব ফার্মাসিগুলোর বিরুদ্ধে। আর নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের লোভের কারণে বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছে না ওষুধের স্যাম্পল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং রাজশাহী কেমিস্ট ও ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের দেয়া তথ্য মতে, রাজশাহী নগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার ওষুধ ফার্মাসি রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৩২ টি ফার্মাসি স্থানীয় ওষুধ প্রশাসন থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। তবে তদারকির অভাবে প্রতিবছর নিয়ম মেনে ওইসব ফার্মাসিগুলোও লাইসেন্স নবায়ন করছেন না। রাজশাহীর ওষুধ প্রশাসনের লাইসেন্সের আওতায় আছে নগরীর দুইটি এলোপেথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং ১৮টি ইউনানি, আয়ুরবেদিক ও হোমিওপেথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
এদিকে রাজশাহীর ওষুধ প্রশাসনের মাত্র একজন কর্মকর্তা দিয়ে চলছে বিভাগসহ জেলার বিশাল এই ওষুধের বাজার তদারকি। আর প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবলের অভাবে স্থানীয় ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ চাইলেও তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারছেন না।
দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী ৩৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজশাহীতে ২০০ থেকে ২২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বাজারজাত করছে। এদের মধ্যে প্রথম সারির ২০টি প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর ওষুধের বাজার দখল করে রেখেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্কয়ার, বেক্সিমকো, অপসোনিনের মতো প্রতিষ্ঠান। স্কয়ার ও বেক্সিমকোর মতো প্রতিষ্ঠানের একাধিক বিক্রয় প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ দের প্রতিমাসে যে টার্গেট দেয়া হয় তাতে রাজশাহীতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ৩০ কোটি টাকার সেল (বিক্রি) টার্গেট পূরণ করছে। সেই হিসেবে শুধুমাত্র
স্কয়ার ও বেক্সিমকোর মত প্রতিষ্ঠান রাজশাহী জেলায় প্রতিদিন যৌথভাবে গড়ে ২ কোটি টাকার ওষুধসহ সার্জিক্যাল ও মেডিক্যাল পণ্য বিক্রি করছে।
অভিযোগ রয়েছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত দিয়ে রাজশাহীর ফার্মাসিগুলোতে নকল ওষুধ প্রবেশ করছে। তারা ঢাকার মিডফোর্ড থেকে নকল ও ভেজাল ওষুধ নিয়ে এনে রাজশাহীর বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। জ্বর, কাশি, গ্যাসের মতো অসুখের প্রতিষেধক হিসেবে যেসব ওষুধের বেশি চাহিদা রয়েছে সেসব ওষুধ নকল হচ্ছে। যা সাধারণ ক্রেতার পক্ষে প্রাথমিক ভাবে নির্ণয় সম্ভব নয়। তবে খোদ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি ফার্মাসিগুলোতে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া বিল বা ভাউচার তদারকি করা সম্ভব হলে নকল বা ভেজাল ওষুধের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করা যেতো।
একই ভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধরতেও প্রয়োজন তদারকি। রাজশাহীর ফার্মাসিগুলোর একটা বড় অংশ এখনো ওষুধ প্রশাসনের লাইসেন্সের বাইরের রয়ে গেছে। রাজশাহীতে সরকারিসহ প্রাইভেট চেম্বারে বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগী দেখেন এমন চিকিৎসকেরা প্রতি সপ্তাহে কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের থেকে গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার ওষুধের ফ্রি স্যাম্পল পেয়ে থাকেন। সেই স্যাম্পল বিক্রি নিষিদ্ধ জানার পরো ওইসব চিকিৎসকরা ওষুধের স্যাম্পলগুলো বিক্রি করছেন। আর লাভের আশায় তা কিনে নিচ্ছেন ফার্মাসিগুলো। এদিকে ওষুধ প্রশাসনের জনবলের অভাবে এসব বিষয় তদারকি সম্ভব হয়ে উঠছে না। ফলে প্রতারিত হচ্ছে জনগণ, ওষুধ কিনে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে নতুন করে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে রোগীরা। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। মাঝখান থেকে ফয়দা লুটছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের একটি সূত্রের দেয়া তথ্য মতে, রাজশাহী বিভাগ ও জেলা ওষুধ প্রশাসন অফিসে কর্মকর্তা থাকার কথা মোট ৬ জন। যারমধ্যে বিভাগে ওষুধ প্রশাসন অফিসে একজন করে উপপরিচালক, সহকারী পরিচাল ও ওষুধ পরিদর্শক এবং জেলা ওষুধ প্রশাসন অফিসে একজন করে সহকারী পরিচালক, ওষুধ তত্ত্ববধায়ক ও ওষুধ পরিদর্শক থাকার কথা। তবে রাজশাহী বিভাগ ও জেলা ওষুধ প্রশাসনের দুইটি অফিস মিলে রয়েছে মাত্র একজন কর্মকর্তা। বিভাগের ওষুধ প্রশাসন অফিসের উপপরিচালক রাজশাহী বিভাগ ও জেলার সকল দায়িত্ব একাই পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এবিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী বিভাগের ওষুধ প্রশসনের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাঈম গোলদারের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি এসব বিষয়ে মোবাইলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, গত ১১ অক্টোবর তিনি ঢাকা থেকে বদলি হেয়ে রাজশাহীতে এসেছেন। তখন থেকেই তিনি দায়িত্ব বুঝে নেয়া থেকে শুরু করে নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নভেম্বর ১৮
০৭:৩৮ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সানশাইন ডেস্ক: সাত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা (২০১৮ সালভিত্তিক) স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৬৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যে সাতটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো হলো—সোনালী

বিস্তারিত