Daily Sunshine

শিবগঞ্জ পৌরসভায় প্রতিবার হারে আ’লীগ, স্বপ্ন দেখছে মনিরুল

Share

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সারাদেশের ৩২৯ টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। ঘোষিত পৌরসভাগুলোর মধ্যে উত্তরের শেষ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি পৌরসভাতেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সম্ভবনা রয়েছে আগামী মাসে।
আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিবগঞ্জ পৌরসভায় বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মেয়র পদ প্রত্যাশীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে পৌর এলাকা।
প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন শিবগঞ্জকে পরিছন্ন আধুনিক পৌরসভা গড়ার। প্রত্যেকেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। আর ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা।
প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটলেও অন্যদের চেয়ে ভোটারদের দৃষ্টি এবার আওয়ামী লীগ থেকে নতুন মেয়র পদ প্রত্যাশী সৈয়দ মনিরুল ইসলামের প্রতি বেশী লক্ষ্য করা গেছে। যদিও স্থানীয়ভাবে আওয়ামীলীগের প্রভাব থাকলেও ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পরে অদ্যবধি শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থীই নির্বাচিত হতে পারেননি।
কখনো বিএনপি আবার কখনো জামায়াত কিংবা বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দলটি।
১৯৯৫ সালে শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে জয়ী হন বিএনপিপন্থী মোতাহারুল ইসলাম ঘেটু। সেবার জামায়াতের সমর্থনে দ্বিতীয় হয়েছিলেন জাফর আলী। সেবার আওয়ামী লীগের সমর্থনে কোন দলীয় প্রার্থী না থাকলেও তৎকালীন জাসদ নেতা ও পরে আওয়ামী লীগের পৌর সাধারণ সম্পাদক সব্বের আলীকে সমর্থন করেছিলো দলটি।
এরপর ২০০০ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী জাফর আলী নির্বাচিত হন। সেবার আওয়ামী লীগের সমর্থীত প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিল হয়েছিলেন তৃতীয়। তৎকালীন শিবগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আমিনুল খান দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
তারপর ২০০৬ এবং ২০১১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা শামিম কবির হেলিম নির্বাচিত হন। দুই নির্বাচনেই পরাজিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। সেসময় ২০০৬ প্রথমবার হেলিমের কাছে পরাজিত হন জামায়াতের প্রার্থী জাফর আলী আর আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন উপজেলা সভাপতি আমিনুল খান। তিনি ছিলেন তৃতীয় অবস্থানে। হেলিমের দ্বিতীয় মেয়াদেও তার কাছে ধরাশয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সমর্থনের নির্বাচনে লড়াই করা প্রার্থী।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মত পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নৌকার প্রতীকের প্রার্থী ময়েন খান জানামত হারান।
এরআগে যখন শিবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ছিল তখনও ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত এখানে আওয়ামী লীগের সমর্থীত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারেননি। প্রতিবারই এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা পরাজিত হওয়ায় স্থানীয় নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সবসময় একটা চাপা কান্না ছিলো।
কিন্তু এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুল ইসলামকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় নৌকার সমর্থকরা। ইতোমধ্যে প্রতিদিনই পৌরসভার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠক করে তিনি দলকে সুসংগঠিত করেছেন। করোনার মহামারীতে ছুটেছেন দিনরাত আক্রান্তদের দরজায়। তার প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জিকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে করোনাকালে শিবগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলাজুড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে সহায়তা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। মানবিক সহায়তায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সৈয়দ মনিরুল ইসলামের ‘জিকে ফাউন্ডেশন’। করোনাকালে খাদ্য সংকট নিরসনে মহাচিন্তায় মগ্ন সেই সময়েই করোনা সংক্রমণের বিষয়ে ঐসব মানুষকে সচেতন করতে এবং তাদের ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে এগিয়ে আসে মনিরুলের ‘জিকে ফাউন্ডেশন’।
সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের সময় থেকেই সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিলেন তিনি। সেসময় তিনি শহীদ সালাম-বরকত হলের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও, ২৭ বিসিএস এ ২৩ তম হয়েও তৎকালীন বিরোধীদলীয় সরকারের কারনে চাকরীতে যোগদান করতে পারেননি তিনি।
এরপরে সৈয়দ মনিরুল ইসলাম নিজস্ব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন জিকে ফাউন্ডেশন নামে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় থেকেই শিবগঞ্জে বহুভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগের পাশে বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্বেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। জনপ্রিয় এ নেতা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিদিন পৌরসভার এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা, মতবিনিময় করছেন।
এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে দরিদ্র মানুষকে, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ধর্মীয় সভাসহ নানা সামাজিক কাজে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন। দেশ ও পৌর এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিয়ে আগামী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দলের পক্ষে সংগঠিত করে তুলছেন। পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তিনি। সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শের রাজনীতি করে আসছি। রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। দলের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিবিরের নানান ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েও কখনো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে কথা বলতে পিছ-পা হইনি।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত জনতার পাশে ছিলাম, এখনও আছি। কখনও দলের সঙ্গে বেইমানি করিনি। আশা করি, দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী পৌর নির্বাচনে শিবগঞ্জ থেকে আমাকে মনোনয়ন দেবেন।

নভেম্বর ১৮
০৭:৩১ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

ইউএনডিপিতে চাকরির সুযোগ

ইউএনডিপিতে চাকরির সুযোগ

সানশাইন ডেস্ক: ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রোগ্রামে কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে। এসব পদে আবেদনের বিস্তারিত পাওয়া যাবে https://www.bd.undp.org/content/bangladesh/en/home/jobs.html লিংকে। পদগুলো হলো- ১. ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট-ন্যাশনাল জিআইএস এক্সপার্ট ২. বিজনেস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস স্পেশালিস্ট ৩. কমিউনিকেশনস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি অফিসার ৪. প্রোগ্রাম সাপোর্ট ইন্টার্ন, ইউএনডিপি কান্ট্রি অফিস ৫. ইনক্লুসিভ ডিজিটাল ইকোনমি কনসালট্যান্ট

বিস্তারিত