Daily Sunshine

উত্তরবঙ্গ না বাঁচলে দেশকে খাদ্য আমদানি করতে হবে: বাদশা

Share

স্টাফ রিপোর্টার: উত্তরবঙ্গকে দেশের ‘প্রাণ’ উল্লেখ করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, উত্তরবঙ্গ দেশের ৭০ ভাগ খাদ্য উৎপাদন করে। তাই উত্তরবঙ্গের প্রাণ-প্রকৃতি ও জলবায়ু রক্ষায় কাজ করতে হবে। উত্তরবঙ্গ না বাঁচলে দেশকে খাদ্য আমদানি করতে হবে।
তিস্তা নদী সুরক্ষায় মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, তিস্তা চুক্তি সই, জলাধার নির্মাণসহ ছয়দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঁচ লাখ মানুষের গণস্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার বিকালে রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এর আয়োজন করা হয়।
গণস্বাক্ষর কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, উত্তরবঙ্গের রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগ বাংলাদেশের খাদ্য, ফলমূল শাক-সবজি, মাছ সবকিছুর হিসাব করলে দেশের ৭০ ভাগ খাদ্য সরবরাহ করে। উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের প্রাণ। উত্তরবঙ্গ না বাঁচলে দেশকে খাদ্য আমদানিনির্ভর হতে হবে। অথচ উত্তরবঙ্গের জলবায়ুর পরিবর্তনের দিকে আমরা নজর দিচ্ছি না। এখন উত্তরবঙ্গের নদীগুলো যদি খনন না করা হয় এবং তার প্রবাহ যদি নিশ্চিত না হয় তাহলে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্যের ফলন ব্যর্থ হয়ে যাবে।
বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন প্রকল্পের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে চাষাবাদকে ‘আত্মঘাতি ব্যবস্থা’ উল্লেখ করে বাদশা বলেন, বরেন্দ্র প্রকল্পে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে কৃষিকাজ করা হচ্ছে। মাটির নিচ থেকে পানি তোলার এই ভয়ঙ্কর আত্মঘাতি ব্যবস্থা বন্ধ না করা হলে বিপদ আরও বাড়বে। যদি নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক করা হতো, নদীখনন এবং নদীর পানি যদি সংরক্ষণ করে যদি কৃষিকাজ করতাম তাহলে ভূ-গর্ভস্থ পানি তোলার প্রয়োজন হতো না। তাহলে উত্তরবঙ্গের জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির হাত থেকে রক্ষা পেত। এখন উত্তরবঙ্গে গ্রীষ্ণকালে তীব্র উত্তাপ। যখন বৃষ্টির প্রয়োজন তখন বৃষ্টি নেই। অসময়ে ঝড় এসে উত্তরবঙ্গের জলবায়ু পরিবর্তনের একটা ভয়াবহ ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য কতবড় হুমকি তা এখনও কেউ বিবেচনা করছে না।
ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, উত্তরবঙ্গ অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু রাজধানী-সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা একটা বৈষম্যের দৃষ্টান্ত। আমি মনে করি, বাহাদুরাবাদে পৃথক রেলসেতু এবং সড়ক সেতু নির্মাণ করা দরকার যেন উত্তরবঙ্গের মানুষ যা উৎপাদন করে তা সমুদ্রবন্দর থেকে শুরু করে ঢাকার বাজার পর্যন্ত পৌঁছে মধ্যস্বত্ত্বভোগীর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
তিনি বলেন, তিস্তা বাঁচাও সংগ্রামকে এই মূহুর্তে বাংলাদেশের যৌক্তিক দাবি হিসেবে মনে করি। এই কারণে মনে করি যে তিস্তার পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হলো না। কৃষকরা পানি পেল না। তিস্তা নদী এখন ১২ কিলোমিটারে পরিণত হয়েছে। তিস্তা নদীর অধিকার আমরা হারিয়েছি। তিস্তার পানি হারানো এবং পদ্মার পানি কমে যাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীতে পানিপ্রবাহ কমে গেছে। এর সমাধান করতে হবে। কালক্ষেপণের কোন সুযোগ নেই।
তিস্তা আন্দোলন বাংলার মানুষকে পথ দেখাচ্ছে উল্লেখ করে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, নদী তীরে যত মানুষ বসবাস করে, তাদের সবাইকে পথ দেখাচ্ছে তিস্তা আন্দোলন। আমার বাড়িও নদীতীরে। তিস্তাপাড়ের মানুষ যদি আন্দোলনে নেমে পড়েন, আমিও পদ্মাপাড়ের মানুষকে আন্দোলনে নামানোর ব্যবস্থা করব। বুড়িগঙ্গার পানি এত বিষাক্ত যে পোকামাকড়ও মারা যায়। এখন দেখতে পাই পদ্মা নদীতেও বর্জ্য ফেলা হয়। নদীগুলোর দখল এবং বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর পানি স্বচ্ছ থাকবে সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে।
পাঁচ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংসদে স্পিকারের সামনে তুলে ধরার ইচ্ছার কথা জানিয়ে বাদশা বলেন, আমি সব সময় উত্তরবঙ্গের ব্যাপারে কথা বলি। কিন্তু তখন উত্তরবঙ্গেরই সাংসদদের সমর্থন পাই না। অধিবেশন শেষ হওয়ার পর তারা বলেন, বাদশা ভাই ভাল বলেছেন। আজ রংপুর থেকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা বাংলাদেশে নতুন ধরনের আন্দোলনের সূচনা করেছে। আমরা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পেয়েছি। এই বাংলাকে যেদিন সুজলা সুফলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারব সেদিন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য ফিরে আসবে। আমরা উনসত্তরের গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি। মানুষের অধিকার আদায়ে বিগত ৫০ বছর ধরে লড়াই করেছি। তিস্তা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান মনে করছি। আমি পার্লামেন্টে উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করব। উত্তরবঙ্গের মানুষের স্বার্থের জন্য কথা বলব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হাক্কানী। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন- সিপিবির উপদেষ্টা শাহাদাত হোসেন, জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ, জাসদের রংপুর মহানগরের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রাঙা, বাংলাদেশ জাসদের নগর সভাপতি গৌতম রায়, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক অশোক সরকার, শিক্ষক নেতা আবদুল ওয়াহেদ মিয়া ও তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাফিয়ার রহমান।

নভেম্বর ১৭
০৬:৩০ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সানশাইন ডেস্ক: সাত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা (২০১৮ সালভিত্তিক) স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৬৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যে সাতটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো হলো—সোনালী

বিস্তারিত