Daily Sunshine

আক্কেলপুরে অনলাইনে ক্লাসে সুফল বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

Share

মওদুদ আহম্মেদ, আক্কেলপুর: ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’। চলমান মহামারি করোনা কালীন সময়ে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ মেরুদন্ড এখন দূর্বল হতে চলেছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম চললেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার শিক্ষার্থীরা। এর কারণ হিসেবে অভিভাবকের অসচেতনতা, আর্থিক অভাব এবং ডিভাইস স্বল্পতাই মুল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৭টি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৯ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাধ্যমিকে (স্কুল ও মাদ্রাসা) ১২ হাজার ২১০ জন, প্রাথমিকে ১১ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষার্থী এবং মাধ্যমিকে ৬৭০, প্রাথমিকে ৪০৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান মহামারি করোনা কালীন সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনলাইনে ক্লাস চলছে। পাশাপাশি সংসদ টিভি ও রেডিওতে প্রচারের মাধ্যমে ক্লাস কার্যক্রম চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস কার্যক্রম চললেও আর্থিক অসচ্ছলতা, অভিভাবকের অসচেতনতা এবং মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের সহজ লভ্যতা না থাকায় অনলাইনে ক্লাসের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে সিলেবাস মোতাবেক পাঠদান করাও সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছন কয়েকজন অভিভাবক। গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেটের সহজ লভ্যতা না থাকায়ও ক্লাস করতে পারছে না গ্রামের শিক্ষার্থীরা।
আনোয়ার হোসেন নামের একজন অভিভাবক বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে পড়বে। তারা যুগোপযুগী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু শহরের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকলেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে’।
আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অনলাইন ক্লাস চলমান আছে। এতে শতভাগ শিক্ষার্থী সুফল পাচ্ছে না। অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকছে। দীর্ঘদিন মহামারী চলতে থাকলে অবকাঠামোগত ভাবেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিতে পড়বে’।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করছি। বার্ষিক পরীক্ষা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক এ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে নেওয়া হবে।
মাধ্যমিকে শহর একা গুলোতে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে এগিয়ে থাকলেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। সরকারি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন চালু আছে। এ উপজেলায় এখনো কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়নি। কম্পিউটার ল্যাবগুলো নিয়মিত চালু রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকল প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা থাকছে’।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের আওতায় আসেনি। তবে রেডিও এবং সংসদ টিভিতে যতটুকু সম্ভব তারা চেষ্টা করছে। প্রাথমিকের সকল শিক্ষকরা রুটিন করে অনলাইন ক্লাস করছেন। ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে ক্লাষ্টার গুলোতে প্রশিক্ষণ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান চালু আছে। আমরা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত মনিটরিং করে থাকি। প্রাথমিকে প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। কোন কিন্ডারগার্টেন এখনো বন্ধ হয়নি, তবে তাদের অবস্থা সোচনীয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান বলেন, ‘ইতিমধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সমন্বয়ে রোডম্যাপ তৈরী করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অনলাইন এবং সংসদ টিভির পাশাপাশি নিজ উদ্দ্যোগে ক্যাবল টিভিতে ক্লাস সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সহশিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসাবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে অনলাইন এবং অফলাইনে বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মনোবল ধরে রাখতে কাজ করছি। তাদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন প্রকার পুরস্কার এবং উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে’।

নভেম্বর ০৬
০৬:২৭ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সানশাইন ডেস্ক: সাত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা (২০১৮ সালভিত্তিক) স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৬৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যে সাতটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো হলো—সোনালী

বিস্তারিত