Daily Sunshine

বাগমারায় আবারও অবৈধ পুকুর খননের মহোৎসব

Share

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: বাগমারায় থামছে না অবৈধ পুকুর খনন। এলাকা ভিত্তিক সিন্ডিকেট চক্র বন্যা পরবর্তীতে আবারও মেতে ওঠেছে তিন ফসলি জমিতে অবৈধ পুকুর খননে। তারা প্রকাশ্য দিবালোকেই এবার পুকুর খনন চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি পুকুর খননের মহোৎসবে মেতে ওঠেছে উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের কনোপাড়া গ্রামের একটি চক্র। এদিকে এ পুকুর খননের বিরুদ্ধে এবং এলাকায় জলাবদ্ধতার হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে কৃষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
ইউএনওর দপ্তরের আবেদন ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাগমারায় টানা তিনদফা বন্যায় কৃষি, মৎসসহ বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে এ ক্ষয়ক্ষতির পরিমান পাঁয় পাঁচশ কোটি টাকার উপরে। এভাবে অতি বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণ হিসাবে কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন যত্রতত্র পুকুর দিঘী খনন ও বৃষ্টিসহ বন্যার পানি নিষ্কাষণের বিভিন্ন ব্রিজ কালভাটের মুখ বন্ধ করে সেখানে মাছ চাষ করা। এ জন্য পুকুর খনন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর উদ্যোগ গ্রহন করে।
এছাড়া বাগমারায় পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে স্থানীয় এক আইনজীবির হাইকোর্টে করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালত বাগমারায় কোনরুপ পুকুরখনন বন্ধে স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতের এমন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও তার তোয়াক্কা করছেন না স্থানীয় কিছু স্বার্থন্বেষী মহল। তারা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এলাকার হাজার হাজার কৃষকের পেটে লাথি মারতেও দ্বিধাবোধ করছেন না।
কনোপাড়া গ্রামের কৃষক হাফিজুর, আজাহার আলী, আফজাল হোসেন, সাইদুর রহমান, আমিনুল হক ও আব্দুল খালেকসহ ২০-২৫ জন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, তাদের গ্রামে প্রায় দুশ বিঘা দুই থেকে তিন ফসলি জমি অবৈধ পুকুর খননের জন্য কৃষকের কাছে থেকে প্রতি বিঘা (৩৩শতক) জমি প্রতিবছরের জন্য ২৫ হাজার টাকার লিজ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই এখানে পুকুর খনন শুরু করা হবে। জমির মাপজোক চলছে।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, রামরামা গ্রামের মোহন (৩৮), কনোপাড়া গ্রামের নজবুল (৫০) একই গ্রামের সামসুদ্দিনসহ (৫০) ৫-৬ জনের একটি সিন্ডিকেট গ্রামের সহজ সরল নিরীহ কৃষকদের অতি লাভের প্রলোভন দিয়ে জমিগুলো তারা চুক্তি করে নিয়েছে। তারা প্রতিবছর প্রতিবিঘা জমির জন্য কৃষকদেরকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তে জমিগুলো এরি মধ্যে চুক্তিকরা হয়ে গেছে। এখন পুকুর খননের জন্য জমিগুলো মাপজোক চলছে। একই মৌজায় জমি রয়েছে কৃষক হাফিজুর রহমানের।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই মাঠে তিন ফসলী ও দুই ফসলী জমিও রয়েছে। সেখানে পুকুর খনন করা হলে ফসল উৎপাদনসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হবে। এখানে প্রায় ৫-৬ টি অবৈধ পুকুর খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পুকুর খনন করা হলে এখানে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। বর্ষার পানি সহজে নামবে না। ফলে বাড়িঘর ও ফসলাদি ডুবে আমরা সবাই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হব।
একই অভিযোগ করে একই গ্রামের কৃষক আজাহার আলী বলেন, বছরে বিঘাপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে কৃষকেদের যে প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে তা আসলেই ফাঁকি। প্রথম বছর কিছু কৃষদের টাকা দিয়ে চুক্তি করে নিয়ে পরে পুকুর খনন হয়ে গেলে তখন বাঁকি টাকাগুলো কৃষকরা আর পায় না। আশেপাশের এলাকার এমন উদহারণ দিয়ে তিনি নিজ এলাকার কৃষকদের এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে পুকুর খননকারী কনোপাড়া গ্রামের নজবুল পুকুর খননে স্থানীয় প্রশাসন ও মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধ্যজ্ঞার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন উল্লেখ করে বলেন, ওই বিলে পুকুর খননের জন্য আমার নামে কোন ডিড নাই। আমি খনন করা পুকুর লিজে নিয়ে মাছ চাষ করি মাত্র।
অপর খননকারী একই গ্রামের সামসুদ্দিন নিজ পুকুর খননের সাথে জড়িত আছেন স্বীকার করে বলেন, সেখানে আমারা তিন ভাইয়ের মিলে প্রায় ১৮-২০ বিঘা জমি রয়েছে। জমিগুলো সারা বছর কুচুরীপনায় ভরে অনাবাদী পড়ে থাকে। তাই সেখানে পুকুর খননের উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য প্রশাসনের অনুমতির জন্য আবেদন করেছি। যা এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
অপর খননকারী রামরামা গ্রামের মোহনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বাগমারায় পুকুর খনন ও পরিবেশের ভারসাম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, বাগমারায় পুকুর দিঘী খনন বর্তমানে মারাত্মক ঝুকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতিক বাগমারার বন্যায় যে ভয়াবহ রুপ এলাকাবাসী দেখছে তা যত্রতত্র পুকুর খননের কারণেই ঘটেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, কোন ভাবেই বাগমারার যে কোন এলাকায় আর পুকুর খনন করতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি এলাকায় পুকুর খনন বন্ধে আমাদের সোর্স নিয়োগ করা আছে। খবর পাওয়া মাত্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পুকুর খননকারী যেই হোক তাদের দমন করা হবে।

অক্টোবর ৩০
০৬:৩৫ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

৭ ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সানশাইন ডেস্ক: সাত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা (২০১৮ সালভিত্তিক) স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ৬৭টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। শনিবার (২৮ নভেম্বর) ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যে সাতটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হলো হলো—সোনালী

বিস্তারিত