Daily Sunshine

বন্যায় পান বরজের ক্ষতি ১১ কোটি

Share

আসাদুজ্জামান নূর : প্রথমে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে লোকসানে পান বিক্রি করতে হয়েছে রাজশাহীর চাষিদের। এরপর বন্যায় নষ্ট হয়েছে জেলার অন্যতম পান উৎপাদনকারী উপজেলা বাগমারা ও মোহনপুরের ১৭ হেক্টর জমির পান। এছাড়াও কয়েক দফায় জেলার বিভিন্ন এলাকার পান বরজের ক্ষতি হয়েছে ১১ কোটি ৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এতে কোমর ভেঙ্গে পড়ে চাষিদের। এতকিছুর পরেও পানের দাম কিছুটা বাড়ায় স্বস্তি ফিরছে রাজশাহীর কৃষকের মাঝে।
দফায় দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন চাষিরা। সপ্তাহ দুয়েক থেকে বাড়তে শুরু করেছে পানের দাম। ফলে লোকসান কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
বিগত কয়েকদিন জেলার বিভিন্ন পানের বাজার ঘুরে জানা গেছে, কিছুদিন পূর্বে যেসকল বড় পান বিড়া প্রতি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে; সেগুলো এখন ৭০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট ৫-১০ টাকায় বিক্রি হওয়া পানের বিড়া বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকায়।
জেলার মোহনপুর উপজেলার অন্যতম বড় বাজার একদিল তলা পানের হাট। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এই বাজার ঘুরে খুচরা এবং পাইকারি বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনায় ৬ মাস লকডাউনে কয়েকগুণ কম দামে পান বিক্রি করতে হয়েছে। এরপর দফায় দফায় বন্যায় পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বর্তমান বাজারে পানের দাম বাড়তে থাকায় ঘুরে লোকসান কাটিয়ে উঠার পথ দেখছেন চাষিরা।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছর রাজশাহীতে ৪ হাজার ৩১১ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। এই হিসেবে পানের উৎপাদন হয় ৬৮ হাজার ৯৭৬ টন। জেলায় প্রতি বছর ১ হাজার ১০৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার পান বেচাকেনা হয়। এরমধ্যে চলতি বছর প্রথম দফা বন্যায় ৬৭৮ মেট্রিক টন পানের ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৮ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার বাগামারায় ২ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ নিয়ে জেলায় পানবরজে মোট ক্ষতি দাঁড়ায় ১১ কোটি ৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
সংস্থাটি আরও জানায়, রাজশাহীর ৬৯ হাজার ২২৮ জন কৃষক সরাসরি পান চাষের সঙ্গে জড়িত আছেন। জেলার মোহনপুর, দুর্গাপুর ও বাগমারা উপজেলায় উল্লেখযোগ্যহারে পানের চাষ হলেও মোহনপুর উপজেলায় উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কয়েক দফা বন্যায় এসকল এলাকায় পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসবের পরেও পানের দাম কিছুটা বাড়ায় আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন কৃষকরা।
মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল গ্রামের পানচাষি আশরাফ আলী বলেন, ১৫ কাঠা জমিতে পানের বরজ করেছি। অতিবৃষ্টি এবং বন্যার কারণে পানের বরজের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। গত এক মাস আগে যে পানের দাম ছিলো ৫ টাকা বিড়া সেই পানের দাম এখন ৩০ টাকা। এভাবে পানের দাম বাড়তে থাকলে আমরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো।
উপজেলার মোহনপুর সদরের পান চাষি উমর আলী জানান, ১০ কাঠা জমিতে পানের বরজ করেছি। পানের উৎপাদনও ভালো হয়েছে। আগে যেই পান বিক্রি হতো ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিড়া। সেই পান এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বর্তমানে দাম ভালো পাওয়া সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
দুর্গাপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের পানচাষি আবুল কালাম বলেন, ১ বিঘা জমিতে পানের বরজ করেছি। চলতি বছর কয়েক দফায় বিভিন্নভাবে পানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া তুলনামূলক বরজ থেকে কম পান সংগ্রহ হচ্ছে। খুব অভাবে মধ্য দিয়ে দিন পার হচ্ছে। বর্তমানে পানের দাম বাড়াতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
তিনি আরও বলেন, এক বিড়াতে পান থাকে ৬৪টি। যে পানের দাম এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৫০ থেকে ৬০ টাকা; সেই পান বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা। তেমনিভাবে এক পোয়াতে পান থাকে ৩২ বিড়া। পূর্বে এক পোয়া পানের দাম ছিলো ১ হাজার ৪০০ টাকা এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায়। একই কথা জানান মোহনপুর উপজেলার ধুরইল গ্রামের আকবর আলী নামের আরেক পানচাষি।
মোহনপুরের একদিল তলা পানের হাটের পাইকারি বিক্রেতা সাইদুর রহমান জানান, লকডাউনের সময় পানের বাজার খুবই কম ছিলো। গত এক সপ্তাহ থেকে পানের বাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট পানের পোয়া আগে ৫০০ টাকায় বিক্রি হতো; সেই পান এখন ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার বড় পানের পোয়া বিক্রি হচ্ছিলো ১ হাজার ৪০০ টাকায়, সেটা এখন ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একদিলতলা পানের হাট কমিটির পরিচালক হারুন-অর-রশিদ জানান, করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৬ মাস লকডাউনে থাকায় দেশের বিভিন্ন শহরসহ বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ ছিল। গত দুই মাস থেকে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় পুরোদমে পান বেচাকেনা শুরু হয়েছে। এছাড়া পানের দামও বাড়তি রয়েছে বলে জানান তিনি।

অক্টোবর ২৯
০৭:২৬ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

শীতের আমেজে আহা…ভাপা পিঠা

রোজিনা সুলতানা রোজি : প্রকৃতিতে এখন হালকা শীতের আমেজ। এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভাপা পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন সবাই। আর এই উপলক্ষ্যটা কাজে লাগচ্ছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। লোকসমাগম ঘটে এমন মোড়ে ভাপা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসে পড়ছেন অনেকেই। ভাসমান এই সকল দোকানে মৃদু কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় ভিড় জমাচ্ছেন অনেক পিঠা প্রেমী। রাজশাহীর বিভিন্ন

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গত ৩ এপ্রিলের স্থগিতকৃত নিয়োগ পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সেকশন অফিসার ও পাবলিক রিলেশন অফিসার পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদের লিখিত

বিস্তারিত