Daily Sunshine

হিমাগারে আলুর মজুদ, বাজারে আকাশ ছোঁয়া দাম

Share

মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাটে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে চড়া দামেই বিক্রি করা হচ্ছে আলু। জেলায় চাহিদার চেয়ে পাঁচগুণ আলুর উৎপাদন হওয়ার পরও করোনাকালীন সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা আলুর দাম বাড়াতে থাকলে এর উৎপাদন খরচসহ সার্বিক বিবেচনায় কৃষি বিপণন অধিদফতর আলুর মূল্যে নির্ধারণ করে দেয়। যেখানে আলুর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা। কিন্তু এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে।
কৃষি বিপণন অধিদফতর তিন স্তরে আলুর দাম নির্ধারণ করেছে। তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩০ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে। আর পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা আর হিমাগার পর্যায়ে কেজি ২৩ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে।
তবে চাল, পেঁয়াজ, শাক-সবজির পর এবার আলুর এ রেকর্ড দামে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চারঘাটের স্বল্প আয়ের মানুষ। এক মাস আগেও বাজারে যে আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যেত। মাস ঘুরতে না ঘুরতে সেই আলুর দাম এখন বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। গত শনিবার রোববার সকালে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের মতো চড়া দামেই আলু বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আর হিমাগার পর্যায়ে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দুদফা বন্যায় জেলার সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে চাহিদার চেয়ে আলুর চাষও কম হয়। এ ছাড়া বাজারে বর্তমানে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী।
এ দিকে করোনায় নিম্নআয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ অনেকটা কর্মহীন হয়ে পড়ায় তারা আলুর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তার জন্য ত্রাণ হিসেবে চালের পাশাপাশি আলুও দেয়া হচ্ছিল। এসব কারণে করোনার সময় মার্চের শুরুতে প্রতি কেজি আলুর দাম ২০ টাকা থাকলেও তা এখন লাগামহীনভাবেই বেড়েই চলেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলুর উৎপাদন কম হওয়া ও চলমান বন্যায় আলুর ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ অন্যান্য সবজির দাম বাড়ার সঙ্গে আলুর দাম বাড়ার বিষয়টি জড়িয়ে আছে। তবে এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলু খুব বেশি নেই, আলুর জোগান কমে আসায় দাম বাড়ছে। বাজারে নতুন আলু উঠলে দাম কমবে।
এক ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি বাজার থেকে আলু কিনে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিতে বহন খরচ, চাঁদা, পরিবহন ভাড়া ও দোকান ভাড়া লাগছে। শুধু তা-ই নয়, পাইকারি বাজারে আলুর দামও চড়া। বেশি দামে পাইকারি বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে। তাই সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে অসাধু সিন্ডিকেট। সুযোগ বুঝে তারা বিনা কারণেই আলুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অশুভ চক্র চাল, পেঁয়াজের সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। এবার অন্যান্য সবজির দাম বাড়ায় আলু নিয়ে কারসাজি শুরু করছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আরো সুযোগ পাচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। মাছ-গোশত কিনে খাওয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। আলুর ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন আর সে উপায়ও নেই। আলুর দাম বেড়েই চলেছে।
শনিবার চারঘাট সতরে কেনাকাটা করতে আসা কালূহাটি গ্রামের বাবু বলেন, সরকারী নিদের্শনা অমান্য করেচড়া দামেই বিক্রি করা হচ্ছে আলু। বাজারে সঠিকভাবে মনিটরিং না থাকলে দাম কখনও কমবে না। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহীতে গত মৌসুমে ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ করা হয়েছে। আর প্রতি হেক্টর জমিতে ২৬ মেট্রিক টন করে উৎপাদন হয়েছে। এতে রাজশাহীতে ৯ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন আলুর উৎপাদন হয়েছে। আর রাজশাহীতে আলুর চাহিদা হলো প্রায় এক লাখ ৮৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন। রাজশাহীতে চাহিদার চেয়ে পাঁচগুণ আলুর আবাদ হয়ে থাকে।
বিষয়টি সম্পর্কে চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়তি রাণী কৈরী বলেন, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী আলুর দাম ৩০ কেজি দরে বিক্রি করতে হলে আগে হিমাগারসহ পাইকারী বাজারে আলুর দাম ঠিক করতে হবে। নইলে খুচরা বাজারে আলু দাম ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা কঠিন।
কারণ হিসাবে তিনি বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারী বাজর থেকে প্রতি কেজি আলু ক্রয় করেছেন ৩৯ টাকা থেকে ৪২ টাকা দরে। তাহলে তারা কিভাবে ৩০ টাকা দরে আলু বিক্রি করবেন। তবে কয়েক দিনের মধ্যে আলুর বাজার এমনিতেই কমে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।

অক্টোবর ১৯
০৬:৩৭ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত