Daily Sunshine

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাছ চাষে বিপ্লব ঘটাবে হাই-টেক মৎস্য খামার

Share

মেহেদি হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমেরিকান প্রযুক্তিতে নবাব মৎস্য খামারে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাই-টেক মৎস্য চাষ খামার পরীক্ষামূলভাবে চালু হয়েছে। চায়নার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় ৬০ বিঘা আয়তনের জলাশয়ে মৎস্য চাষের সর্বাধুনিক আইপিআরএস (ইন পণ্ড রেসওয়ে সিস্টেম এগ্রিকালচার) চাষ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে।
নবাব গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আকবর হোসেনের পিতা এত্তাজ হোসেন জলাশয়ে মাছ ছেড়ে প্রাথমিকভাবে এর শুভ সূচনা করেন। এ আইপিআরএস প্রযুক্তির মাধমে বর্তমানে ১৩টি ইউনিট বা চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতি চ্যানেলে সাড়ে ১২ পিস রুই, কাতল, গালস্ কাপ, পাবদা, মনো সেক্স তেলাপিয়া, মিনার কাপ, পাঙ্গাস মাছ চাষ হচ্ছে। এক কথায় এ নবাব মৎস্য খামারকে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাছ চাষের বিপ্লব বলা যায়।
নবাব গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আকবর হোসেন কয়েক বছর যাবৎ নীরবে নিভৃত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ করে আসছেন। চাষের আওতায় রয়েছে ৪২টি বড় পুকুর। প্রথম বারের মতো ৬০ বিঘা রেসওয়ে পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ পদ্ধতির আওতায় আরো জমি বাড়ানো হবে।
২০১৯ সালের শুরুতে চায়নার কারিগরি বিশেষজ্ঞ টিম চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে প্রকল্পের সিভিল কাজের ডিজাইন করে দিয়ে যায়। স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারদের নিবিড় তত্বাবধানে আইপিআরএস (আইপিআরএস) এর অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষ হলেও করোনা পরিস্থিতির কারনে চায়না থেকে যন্ত্রপাতি আসতে সময় লাগে। অবশেষে জুন মাসে এগুলো আসার পর তা স্থাপন করা হয়েছে।
(আইপিআর এস) পদ্ধতিতে জলাশয়ের পুরো জমিকে আরসিসি কাঠামো নির্মাণ করে নদীর মতো বৃত্তাকার চ্যানেল করা হয়। চ্যানেল ভর্তি পানিতে যান্ত্রিক উপায়ে স্রোত তৈরি করে ছেড়ে দেয়া মাছের রেস করা হবে। এতে একদিকে মাছের ব্যায়াম হবে। অন্যদিকে খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। যান্ত্রিক উপায়ে পুকুরের যাবতীয় বর্জ্য অপসারনের ব্যবস্থা থাকায় ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাস মুক্ত হওয়ায় মাছের রোগব্যাধি হবে না বললেই চলে। এছাড়া কৃত্রিম উপায়ে পানিতে অক্সিজেন মিশ্রনের ব্যবস্থা থাকায় বেশী ঘনত্বে মাছ চাষ করা যাবে। আশা করা যায় অত্যন্ত হাই প্রোটিনযুক্ত খাদ্য খাওয়ানোর ফলে প্রতি তিনমাসে একবার হারভেস্ট করা সম্ভব হবে। আর নদীর মাছের মত এ মাছের স্বাদ হবে।
এ ধরনের আইপিআরএস প্রকল্প ভারতে তিনটি এবং পাকিস্থানে চারটি রয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় নবাব মৎস্য খামার আয়তনে সর্ববৃহৎ। চায়না থেকে টেকনোলজি ট্যান্সফারের মাধ্যমে আমদদানিকৃত আকবর হোসেনের এ আইপিআরএস এগ্রিকালচার বাংলাদেশের মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে স্থান লাভ করবে মর্মে মৎস্য চাষের সাথে সংশিষ্ট সকলে মনে করছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আইপিআর এস অ্যাকুয়াকালচার পদ্ধতির সর্বাধুনিক হাই-টেক মৎস্য খামারটি মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারের মন্ত্রীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার প্রক্রিয়া চলিতেছে।
নবাব মৎস্য খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ২০১৭ সালে মৎস্যখাতে বিশেষ অবদান রাখায় জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আকবর হোসেন জানান, দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে সম্পর্ণ বৈজ্ঞানিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ করে বিদেশে রপ্তানি করার জন্য তিনি বাংলাদেশে প্রথম এই আইপিআরএস সিষ্টেম চালু করেছে। যাতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ সারাদেশের মানুষ বৈজ্ঞানিক উন্নত প্রযুক্তির সংমিশ্রনের মাছ খেতে পায়। আর এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশের ফসলি জমি অহেতুক ব্যবহার হবেনা। সাথে সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষের কর্মসংস্থান হবে ফলে বেকারত্ব কমে আসবে।

অক্টোবর ১৫
০৭:৩৮ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত