Daily Sunshine

কাঁকনহাটের কাউন্সিলর আমিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

Share

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি, নারী কেলেংকারী, মাদক সেবনসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার আমলে ওয়ার্ডের উন্নয়ন না হলেও প্রকল্প বাগিয়ে নিজে ঠিকই আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছেন। এমনকি সামাজিক নিরাপত্তার কার্ড প্রদানের নামে দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
আমিরুলের আপন চাচাতো ভাই কাজিম উদ্দিন জানান, তিনি একটি মামলায় পড়লে জামিন করানোর জন্য তার স্ত্রীর নিকট থেকে ৫হাজার টাকা আত্মসাত করেন আমিরুল। কিন্তু তিনি জামিন করাননি। পরবর্তিতে টাকা ফেরত চাইতে গেলে আমিরুল দুর্ব্যবহার করেন। ভুক্তভোগী কাজিম আরো বলেন, আমিরুল তার ১৮ বিঘা ভিটা জমি দখল করে সেখানে খামারের নামে মদের আসন বসিয়েছেন। জমি ফেরত চাইলে টাকার গড়ম এবং তার পোশা সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভয় দেখিয়ে আজও জমি ফেরত দেয়নি।
কাজিম ও নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক তার আরো নিকট আত্মীয় ও এলাকাবাসী জানান, দখলকৃত ১৮ বিঘার খামারে প্রতিরাতে বসে মদ ও মেয়ের আসর। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের লিলাখেলা। বাধা দিতে গেলে নেমে আসে নির্যাতন। যেখানে নিয়মিত অংশ নেয় ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোতুর্জা শেখ ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিশু। তারা এখানে বসে মাদক সেবন এবং বাজে মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করে। এ নিয়ে আমিরুলের পরিবারে অনেক অশান্তি চলছে। আমিরুলের স্ত্রী এগুলো সহ্য করতে না পেরে একদিন কাউন্সিলরকে ঝাটা পেটা করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন বলে জানান কাজিম। তবে বর্তমানে একটি ধর্ষন পরবর্তী আত্মহত্যা মামলায় বিশু জেল হাজতে আছে।
আমিরুল কাউন্সিলরের ঐ আত্মীয় বলেন, তারা একসাথে বসবাস করেন। কাউন্সিলর চরিত্রহীন ও মদ্যপ হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকে। ২০১৭ সালে ৭ ফেব্রুয়ারী রাতে পৌর অডিটরিয়াম গেষ্ট রুমে মদ ও মেয়ে নিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েন তার চাচা কাউন্সিলর আমিরুল ইসলাম, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোর্তুজা ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিশু। সে সময়ে জনগণ তাদের ঘণধোলাই দেয়। এ নিয়ে একটি মামলা হয়। যা বর্তমান চলমান রয়েছে।
এদিকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দিতে তিনি প্রতি জনের নিকট থেকে সর্বোনিম্ন এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও প্রকৃত ব্যক্তিরা এই সকল ভাতার কার্ড পায়নি বলে অত্র ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন। সেইসাথে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে রয়েছে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ। অর্থের বিনিময়ে কোন কোন বাড়িতে ৫ থেকে ৭টি ভিজিএফ কার্ড দিয়ে রেখেছেন। কারন অনুসন্ধানে জানা গেছে অনৈতিক কাজ করার জন্যই তিনি এই ধরনের লোভনীয় কাজ করে থাকেন। সুন্দরপুর এলাকার তুখোরের বাড়িতেই এক সাথে ৫ থেকে ৭ কার্ড দেয়া হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে।
তার ওয়ার্ডে ১০ থেকে ২০ বছর পূর্বে স্বামী হারিয়ে অনেক নারী বিধবা রয়েছেন। অথচ তারা আজও বিধবা কার্ড পায়নি। কিন্তু ১৫ থেকে ২০ দিন পূর্বে স্বামী মরলেও তার বিধবা কার্ড করে দিয়েছেন তিনি। এটা নিয়েও এলাকায় রয়েছে নানা গুঞ্জন। সুন্দরপুরের পায়রা, ময়না ও উম্মাতন বলেন, দীর্ঘদিন হলে তাদের স্বামী মারা গেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে বসবাস করেছেন। একটি কার্ড করে দেয়ার জন্য বার বার কাউন্সিলরের নিকট যেয়ে বললেও টাকা দিতে না পারায় তিনি কার্ড করে দেননি। অথচ তাদের এই দুর্দশা দেখে পৌর কৃষকলীগের সভাপতি কল্লোল সহযোগিতা করে মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ তাদের কার্ড করে দিয়েছেন বলে জানান তারা। এ রকম অভিযোগ আরো অনেকই করেছেন।
দলদলা গ্রামের ফাতেমা বেগম বলেন, ১৪ বছর পূর্বে তার স্বামী মারা গেছেন। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে তিনি অমানবিক কষ্ট করেছেন এখনও করছেন। একটি কার্ডের জন্য তিনি কাউন্সিলরের নিকট ১৫ থেকে ২০ বার গেছেন। টাকা দিতে না পারায় তার কার্ড আজও করে দেননি বলে তিনি জানান। এদিকে কাঁকানহাট বাজারের কাঁচামালের ব্যবসায়ী সামসুল বলেন, তিনি এই বাজারের কাঁচা তরিতরকারী বিক্রি করে কোন ভাবে জীবন যাপন করেন। তিনি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড করে নিতে কাউন্সিলর আমিরুলের নিকট গেলে তিনি এক হাজার টাকা নিয়ে একটি কার্ড করে দেন। তিনি বলেন, সরকারী কার্ড বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও এই কাউন্সিলর সবার নিকট থেকে এক থেকে দুই হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়ে থাকেন বলে জানান সামসুল।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমিরুল এ পর্যন্ত এলাকার তেমন কোন উন্নয়ন করতে পারেনি। বহু প্রকল্প তিনি নিয়েছেন। এই সব প্রকল্পের কাজ তিনি নিজে করেছেন। কিন্তু একজন কাউন্সিলর কোনভাবেই পৌরসভার কাজ নিজে করতে পারেন না। অথচ প্রতিটি কাজ তিনি নিজে ঠিকাদার সেজে নিয়েছেন এবং ব্যপক পারিমানে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বিশাল অর্থের মাালিক হয়েছেন। প্রতিটি কাজ তিনি নয়-ছয় করে শেষ করেছেন।
কাউন্সিলর আমিরুল দীর্ঘদিন থেকে কাউন্সিলর রয়েছেন। কিন্তু তার এলাকার রাস্তাঘাট এখনও অনেক কাঁচা রয়েছে। প্রকল্প বাগিয়ে নিয়ে তিনি কাজ করেনি। অথচ প্রকল্পের টাকা আত্মস্বাত করে বসে আছেন। ফলে জনগণ রয়েছেন নানা দূর্ভোগের মধ্যে। বর্ষা মৌসুমে তারা বেশী বিপদে পড়েন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। সুন্দরপুর এলাকার বাবলু, ও লিটনসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, নিজের স্বার্থ হাসিল করতে সুন্দরপুরের গোরস্থানের মধ্যে দিয়ে তিনি রাস্তা করার পাঁয়তারা শুরু করেছিলেন। তাদের বাধার মুখে তিনি এই কাজটি করতে পারেননি।
পৌর কৃষকলীগ সভাপতি কল্লোল মোল্লাসহ আরো অনেকে বলেন, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিরুল ইসলাম, ৩নং ওয়ার্ডের বহিস্কৃত কাউন্সিলর আব্দুল্লাহেল কাফি, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোর্তুজা ও ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিশু মিলে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে পূর্বে একবার দুদকসহ বিভিন্ন স্থানে দরখাস্ত করেন। এর প্রেক্ষিতে বেশ কিছুদিন সকল প্রকার উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুদুক কোন প্রকার দুর্নীতির তথ্য না পেয়ে মেয়রকে নির্দোশ ঘোষনা করেন।
এরপর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হলে এই চরিত্রহীন, নেশাখর ও চরমপন্থি মিলে আবার উন্নয়নের ধারা স্তব্ধ করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। তিনিসহ উপস্থিত অন্যান্য পৌরবাসী তাদের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেইসাথে এই দুর্নীতিবাজ, নেশাখোর ও চরিত্রহীন কাউন্সিলরের বিচার দাবী করেন এবং বয়স্কভাতা ও বিধবা কার্ডের জন্য প্রদানকৃত অর্থ ফেরত চান তারা। এ বিষয়ে কাউন্সিলর আমিরুলের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোনটাই সত্য নয়।

অক্টোবর ১৪
০৬:৪২ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত