Daily Sunshine

পবার সব স্কুলেই এখন শহীদ মিনার

Share

সরকার দুলাল মাহবুব: বিদ্যালয় আছে, কিন্তু নেই শহীদ মিনার। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি পালনে শিক্ষার্থীদের পড়তে হতো বিড়ম্বনায়। শহীদদের প্রতি প্রাণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর সুযোগ পেত না তারা। কখনো কখনো অন্যস্থানের শহীদ মিনারে গিয়ে জানানো হতো শহীদদের শ্রদ্ধা। এমনভাবে চলছে সেই বায়ান্নর পর থেকেই।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ভাষা আন্দোলনের অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও পবার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার ছিল না। তবে সেই সমস্যার অবশেষে সমাধান হয়েছে পবা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেছুর রহমানের ঐকান্তিক চেষ্টায়।
আন্তরিকতা ও ইচ্ছা থাকলে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকুল না হলেও এবং অনেক টানা-পোড়েনের মধ্যেও ভাল কাজ ও স্মরণীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব। তার উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন পবা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোখলেছুর রহমান। করোনা সংকটে বিদ্যালয় বন্ধ। কিন্তু বরাদ্ধ আগের মত ছিল। কয়েক মাসে বেশকিছু টাকা জমা পড়েছিল ফান্ডে। সেই টাকা দিয়েই উপজেলার ৮৩টি বিদ্যালয়ে নির্মাণ করেছেন শহীদ মিনার।
এসব শহীদ মিনার দেখেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা বাংলা সম্পর্কে জানবে এবং অপরদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যসহ ভাবগাম্ভীর্য শতগুণে বেড়ে যাবে। পাশাপাশি মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ও শহীদদের সম্পর্কে এবং ইতিহাস ব্যাখ্যায় শিক্ষার্থীদের জানানো সহজ হবে। এছাড়াও একুশে ফেব্রুয়ারীসহ বিভিন্ন দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবে।
এছাড়াও হরিপুর ও হারুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয়েছে শিশুদের জন্য দৃষ্টিনন্দন মিনি পার্ক। শহীদ মিনারের পাশেই মিনি পার্ক যা দেখলেও চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। এই পার্ক নীরবে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। যা শিশুদের সহায়ক হিসেবে মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করবে। বিশেষ করে পবায় বিদ্যালয়গুলো খুললেই শিশুরা অনেক আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। পাশাপাশি ভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাঁদের সম্পর্কেও জানতে পারবে।
এতদিন বিদ্যালয় ছিল, ছিল না শহীদ মিনার। তাই হতো না একুশে ফেব্রুয়ারির কোনো আয়োজন। এইজন্য মার্তৃভাষাসহ বিভিন্ন দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারেনি রাজশাহীর পবা উপজেলার নব্বইভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফলে দিবসগুলো শুধু ছুটির দিন হিসেবে কেটে যেত তাদের।
এতদিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যেতে হয় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে। আবার কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে দিবসটি পালন করে। অন্যদিকে কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না বানিয়ে শুধু আলোচনা সভা বা মিলাদ মাহফিল করে দিবসটি পালন করা হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে তা-ও করা হয় না। বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠানে দিবসটিতে পালিত হয় সরকারি ছুটি হিসেবে।
উপজেলার শিয়ালবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষর্থী জানায়, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার ছিল না। তারা বিভিন্ন দিবসে নওহাটায় শহীদ মিনারে আসতো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
হারুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা ফেরদৌসী জানান, ‘তার বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার ছিল না। তবে বিভিন্ন দিবসে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হতো। এবারে পবা উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিলেন। এখন থেকে শহীদ দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলো অনেক ভালোভাবে উদযাপন হবে’। তিনি আরো বলেন, এই বিদ্যালয় চত্বরে একটি মিনি পার্কও নির্মাণ করা হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ যে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তার সাক্ষী দিবে এসব শহীদ মিনার। শিশুরা ছোটকাল থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। পাশাপাশি মিনি পার্কে শিশুরা খেলাধুলা করবে এবং শারীরিক গঠনে সহায়ক হবে। বিদ্যালয় খুললেই ফুলগাছ লাগানো হবে। এতে সৌন্দর্য আরো অনেকগুন বেড়ে যাবে।
এমন মন্তব্য করেন মরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজনীন আরা, দুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুননেসা। শহীদ মিনারের জন্য স্কুল খুললেই শিশুরা নতুন পরিবেশ পাবে। তাদের জানার আগ্রহ বেড়ে যাবে।
বিদায়ী পবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, শহীদ মিনার একটি আন্দোলনের প্রতিক। শহীদদের শ্রদ্ধাবোধের নিখাদ স্তম্ভ। যা শিশুদের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশের প্রতি মমত্ববোধ, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হবে।
রাজশাহী জেলা প্রাথমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো জেলায় এক হাজার ৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০৭টিতে শহিদ দিনার রয়েছে। বাকিগুলোতে ছিলনা। এবছর পবা উপজেলায় সবকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও তানোর উপজেলা কিছু বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ জেলায় প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহিদ মিনার। যদিও দফতরটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণ করা হবে।
রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানায়, ‘বর্তমানে ১০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার রয়েছে। এছাড়ায় পবা উপজেলায় ৭৫টি ও তানোর উপজেলায় বেশকিছু শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৈরি করা হবে।’

অক্টোবর ১২
০৬:৩৭ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত