Daily Sunshine

শিক্ষা প্রসারে আলোকবর্তিকা একজন অধ্যক্ষ

Share

শাহ্জাদা মিলন: মুহা: হবিবুর রহমান। রাজশাহী কলেজের এ যাবৎকালের সবচেয়ে সফল অধ্যক্ষ। ২০১৪ সালের ১৪ই আগস্ট রাজশাহী কলেজে ৫৬তম অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর এ কলেজকে গড়ে তুলেছেন দেশের সেরা কলেজে।
শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরপর চার বার এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ে টানা চার বার দেশ সেরার গৌরব অর্জনের নৈপথ্যের কারিগর রাজশাহী কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে নতুন করে পরিচিত করেছেন দেশে।
শুধু শিক্ষা নয়, আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ২১ দিনব্যাপি আইসিটি প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। মানব সম্পদে পরিণত করতে কলেজের শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানো, বিশ্ব বাজারে টিকিয়ে রাখতে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় জ্ঞানার্জন ও কথপোকথন, ব্যক্তি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নের্তৃত্ব দানে উৎসাহ প্রদান, রাষ্ট্র ও সমাজ পরিবারের প্রতি শিক্ষার্থীদের নৈতিক দ্বায়িত্ব ও কর্ত্যব্যে পালনে ভূমিকা রাখতে বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত করেছেন। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষককে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে আইসিটিতে পারদর্শী করার ফলে এইচএসসি শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অনার্স ও মাস্টার্স শ্রেণির ফলাফলে ভালো করছে রাজশাাহী কলেজ।
শিক্ষার্থীদের কলেজমুখি করতে নিয়েছেন নানা পদক্ষেপ। ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ করা, কলেজে চত্বরে ধূমপান ও বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জব ফেয়ার মেলা, বিভিন্ন উৎসবে অংশগ্রহন, মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করতে রিপোর্টারস ইউনিটি গঠনে সহায়তা প্রদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সর্ম্পকের উন্নয়ন, রাজনৈতিক কোন্দলের অবসান ঘটানোর মাধ্যমে কলেজকে ছাত্রছাত্রীদের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত করেছেন। এছাড়া কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মিশেলে কলেজকে সাজিয়েছেন অপরুপ শোভায়।
এই কলেজের শিক্ষার্থীরা সবদিক থেকে এগিয়ে থাকে সেজন্য বর্তমানে কলেজে ৪৫টি সংগঠন তৈরি করে বিভিন্ন ভাবে শিক্ষার্থীদের মান উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এখানে প্রত্যেকটি সংগঠনের আলাদা চিন্তা চেতনা কাজ করছে।
জানালেন, দর্শনের শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজে চালু করেছেন ইথিকস্ ক্লাব যেখানে উপস্থাপনা শেখানো হচ্ছে। এর ফলে কর্মজীবনে উপস্থাপনার অভিজ্ঞতা তাদেরকে এগিয়ে রাখবে। এছাড়া বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণ বিতরণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কাজ করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এটা সামাজিকভাবে শিক্ষার্থীদের দ্বায়িত্বশীল করে তুলবে। এছাড়া অর্থনীতি বিভাগে চালু করা হয়েছে ‘ক্লাব অব ইকনোমিকস্’। যাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে-সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধন ও সীমিত সম্পদের সেতুবন্ধন অর্থনীতির নিরন্তন প্রয়াস। পাঠ্যসূচির বাইরে সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।
সারাদেশের মধ্যে একমাত্র রাজশাহী কলেজে ইন্টারঅ্যাকটিভ আধুনিক শ্রেণিকক্ষ রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের গ্রুপওয়ার্ক, পেপারওয়ার্ক করে সমস্যার সমাধান করতে পারে। বর্তমানে বসার বেঞ্চের পরিবর্তে টেবিল চেয়ারে বসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখানের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানের মুক্তচর্চার দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে যেন পড়ালেখার বাইরে স্বাধীনভাবে নিজেদের বিকশিত করতে পারে। আবার শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রাখতে ক্লাস পরীক্ষা ও আইসিটি প্রশিক্ষণ, একাডেমিক প্রেজেন্টেশন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, অ্যাসাইনমেন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কলেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবচেয়ে বড় মুর‌্যাল নির্মাণ করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশের জনককে শ্রদ্ধার সহিত স্মরন করে। কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে সাতটি ভবনের নামকরণ করা হয়েছে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের নামে। এতে বীরশ্রেষ্ঠদের নতুন করে অন্তরে ধরে রাখবে শিক্ষার্থীরা।
ভবনগুলো শতবর্ষের অধিক হওয়ায় মূল অবয়ব ঠিক রেখে সেগুলোকে পুননির্মাণ করা হচ্ছে। ছেলে ও মেয়েদের থাকার জন্য আলাদাভাবে নতুন দুইটি পাঁচতলা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া দশ তলা বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবনের কাজ শুরু হয়েছে।
রাজশাহী কলেজের প্রতিটি ভবনকে পুরাতন ছাত্রাবাসগুলোকে নতুনভাবে তৈরি করাসহ হলের পরিবেশগত উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে এখন। আধুনিক পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগি হতে সাহায্য করছে। এটিও শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রফেসর মুহা.হবিবুর রহমান জানালেন, করোনার কারনে হোস্টেলগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া একই সময় কলেজের ২৫৭ জন কর্মচারিদের মাঝে খাদ্যদ্রব্য ও নগদ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে রাজশাহী কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারিদের এক বিন্দুতে আনার চেষ্টা করছেন। বর্তমান সময়ে করোনাকালে নাগরিকদের পাশে দাড়াতে রসায়ন বিভাগের উৎপাদনকৃত সাত হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকটি বিভাগের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে উদ্বুদ্ধ করতে কলেজেকে পাশে দাড় করিয়েছেন।
এছাড়া কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে যেসকল মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেনি তিনি কয়েকজনকে সুযোগ করে দিয়েছেন। দারিদ্রতা যেনো শিক্ষার পথে অন্তরায় না হয় সেজন্য একাডেমিক খরচ ছাড়াই অধ্যয়ণের সুবিধা দিয়েছেন বিনামূল্যে। শিক্ষার্থীরা মানব সম্পদে পরিণত হয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের গড়ে তুলতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন এই আলোকবর্তিকা।

অক্টোবর ০৪
০৬:২০ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত