Daily Sunshine

হঠাৎ অস্থির চালের বাজার

Share

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা ধান উৎপদনের জন্য প্রচীনকাল থেকেই পরিচিত। এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজেরে হঠাৎ করে চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ৬ থেকে ৭ পযর্ন্ত বেড়েছে। চালের বাজার অস্থির হওয়াতে খুচরা বাজারে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।
অস্বাভাবিক ভাবে চালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষ। লাগামহীন দাম বাড়লেও এখন পর্যন্ত বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কর্মকর্তার কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি।
মিল মালিকদের দাবি, এক শ্রেণির অসাধু খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণেই চালের বাজার অস্থিতিশীল। অন্যদিকে চালের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন ধান সংকট নেই, মিলারদের কাছে যথেষ্ঠ চাল মজুদ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার পাঁচশিরা বাজার, কালাই পৌরবাজার, মাত্রাইহাট, পুনটহাট, মোসলিমঞ্জহাট, মোলামগাড়ীহাটে চালের খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম লাগামহীন ভাবে বেড়ে গেছে। অথচ মাস দেড়েক আগেই উপজেলার কৃষকরা ফসলি জমি থেকে বোরো ধান কেটে ঘরে তুলেছেন। আর ওই ধান ওঠার দেড় মাসের মধ্যে উপজেলায় দেখা দিয়েছে ধানের সংকট। এ অজুহাত দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
গত পাঁচদিন আগে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৪৭ টাকা দরে, বর্তমানে যা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়, কাটারি চাল ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকায়, ২৮-জাতের ধানের চাল ৪১ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকায়, ২৯-জাতের ধানের চাল ৩৯ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়। এ ভাবেই চালের দাম বাড়তে থাকায় নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষরা পড়েছেন চরম বিপাকে। আর খুচরা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত পুঁজি।
উপজেলার মাত্রাই হাটে চাল কিনতে আসা জাহাঙ্গীর আলম ও রবিউল ইসলাম জানান, সপ্তাহ খানেক আগেও ২৯-জাতের ধানের চাল কিনেছেন প্রতি কেজি ৩৯ টাকায়, কিন্তু সেই চালই এখন ৪৬ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে। আর ২৮-জাতের ধানের চাল কিনেছেন প্রতি কেজি ৪১ টাকা, সেই চালই বর্তমান ৪৭ টাকা কেজিতে কিনতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত চালের দাম বাড়ায় তারা এখন মহাবিপাকে পড়েছেন। কাজেই চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কালাই পৌরসভার ভ্যান চালক খালেক ও রমজান আলী বলেন, আমরা দিন আনি, দিন খাই। গত সপ্তাহ থেকে চালের দাম বৃদ্ধি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু করোনা কারণে আমাদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছেনা। এভেবে চালের দাম বাড়তে থাকলে আমাদের ছেলে-মেয়ে নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে। উপজেলার মোহাইল গ্রামের কৃষক মোর্শেদ ও খালেক জানান, গত ১০ দিনে আগে ধানের দাম বৃদ্ধি না পেলেও মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট তৈরি করে ধান মজুদ করে রেখে এখন বাজারে ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে চালের দাম বৃদ্ধি করছে। এটা দুঃখজনক ঘটনা।
উপজেলার পাঁচশিরা বাজারের খুচরা ও পাইকারি চাল বিক্রেতা মেসার্স তালের চাউল ঘরের সত্বাধিকারী আবু তালেব সরদার ও মেসার্স ভাই বোন চাল ঘরের সত্বাধিকারী হান্নান মন্ডল বলেন, আমরা বেশি মূল্যে চাল ক্রয় করছি বলেই বেশি মূল্যে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। ধান সংকটে ফেলে মাঝারি ও বড় মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমান তাদের কাছে যথেষ্ঠ পরিমাণে চাল মজুদ রয়েছে। আমরা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে দরে চাল ক্রয় করছি তা সামান্য লাভে বিক্রি করছি। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।
উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী বলেন, এ এলাকায় কোন ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পায়নি। আমরা মিলে ধান থেকেই চাল উৎপাদন করি। ধান ও চালের সংকট নেই। এলাকার এক শ্রেণি অসাধু খুচরা ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চালের বাজার অস্থিতিশীল করেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল হান্নান বলেন, উপজেলায় মাঝারি ও বড় মিলারদের কাছে অনেক ধান মজুদ রয়েছে। তাছাড়া এ অসময়ে চালের দাম কিছুটা বাড়ে। এছাড়া বেশ কিছুদিন থেকে বৈরি আবহাওয়া কারণে মিলার, ছোট, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীদের চাল তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তাই কিছুটা চালের দাম বাড়তে পারে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবারক হোসেন পারভেজ বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রায় প্রতিদিন নিয়মিত উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মনিটরিং করা করা হচ্ছে। এরপরও কেউ যদি অবৈধ ভাবে ধান-চাল মজুদ রাখেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অক্টোবর ০৪
০৬:২০ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত