Daily Sunshine

মায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে বাদাম বিক্রি করছে শিশু রাব্বি

Share

শেখ রহমত উল্লাহ: রাজশাহী আদালত চত্ত্বর। প্রতিদিন সকাল থেকেই আইনজীবী ও মোহরারদের কর্মব্যস্ততা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে বিচার প্রার্থীদের উপস্থিতি। সকাল ১০টার পর থেকেই বিভিন্ন আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হতে থাকে। এক-আধঘন্টার ব্যবধানে বিভিন্ন আদালতের এজলাস বসে। এ সময় বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দিগবিদিক ছুটাছুটি করতে দেখা যায় আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের।
ঠিক তখনই বিচারিক কার্যক্রমে ব্যস্ত এই আদালতের বারান্দায় ৭ বছরের একটি ছোট্ট শিশুকে বাদাম বিক্রি করতে দেখা যায়। তার ছোট্ট মুখের ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথা শুনতে অনেক বিচার প্রার্থীকেই ভীড় করতে দেখা যায়। কখনো জিআরও অফিস আবার কখনো আদালতের বারান্দায় তার দেখা মেলে। শিশুটির সাথে কথা বলে জানা যায় তার নাম রাব্বি। সে হারুপুর বাগানপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী। মায়ের সংসারের খরচ বহন করতেই বাদাম বিক্রি করছে ৭ বছরের শিশু রাব্বি।
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তার যখন বই খাতা নিয়ে পড়তে বসার কথা, ঠিক সে সময়ে তাকে বাদামের ডালা সাজিয়ে ছুটতে হয় রাজশাহীর আদালত প্রাঙ্গনে। জিআরও অফিস, জেলা জজ আদালত ভবন, সিজেএম বা সিএমএম ভবন এর সবগুলোই চষে বেড়ান রাব্বি। আইনজীবী, পুলিশ অথবা বিচারপ্রার্থীদের সাথে বাদাম বিক্রি আর গল্পে মেতে থাকতে দেখা যায় হাস্যোজ্জল এই ছেলেটিকে। বাদাম কেনানর ফাকে ফাকে রাব্বিকে তার পরিবার সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করে থাকেন তারা। ছোট্ট শিশু ভেবে অনেকেই বাদাম কিনেন রাব্বির কাছ থেকে।
আবার কিছু মানুষ বাদাম না কিনেও তাকে আর্থিক সহযোগিতা করতে চাইলে বিনিময় ছাড়া সাহায্য নিতে অস্বীকার করে রাব্বি। এই শিশু বয়সে বাদাম বিক্রি করলেও আদালত পাড়ার হালচাল সম্পর্কে তার কোন জ্ঞান নেই। তাই অনেক সময়ই অন্যান্য বাদাম বিক্রেতা অথবা ভ্রাম্যমান হকারদের দ্বারা ভয়ভীতির শিকার হতে হয় রাব্বিকে।
জানা যায়, শিশু রাব্বি রাজশাহী মহানগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠালবাড়িয়া, রায়পাড়ার রাস্তার পাশে একটি বাড়িতে থাকে। দেখতে বাড়ি মনে হলেও এটি একটি জীর্ণ কুঠির। এখানেই রাব্বি ও তার মা থাকেন। তার বাবা শফিকুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রী হলেও তিনি রাব্বিদের কোন খরচপত্র দেন না। আর রাব্বির মা ডলি বেগম ব্লক তৈরির কাজ করলেও এখন তা বন্ধ আছে। মা-ছেলে মিলে বাড়ি বাড়ি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। হঠাৎ পুকুর ঘাটে পড়ে গিয়ে রাব্বির মা ডলি বেগমের হাত ভেঙে যায়। বেকার হয়ে পড়েন তিনি।
২ ছেলে ও ১ মেয়ের মা হবার পরেও এই দূর্দিনে রাব্বিই ডলি বেগমের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাকি ১ ছেলে ১ মেয়ে বিয়ে করে আলাদা থাকে। মাসে একবারেও খোঁজ নিতে আসেনা তারা। আর স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে সংসার পেতে বসেছেন।
ডলি বেগম প্রতিদিন ভাঙা হাত নিয়ে বাজার থেকে ১০০ টাকার বাদাম কিনে বাড়িতে নিজ হাতে ভেজে ১৫টি প্যাকেট করে রাখেন। পরের দিন রাব্বি ওই বাদামের প্যাকেট প্রতি ১০ টাকায় বিক্রি করে দিন শেষে ১৫০ টাকা মায়ের হাতে এনে দেয়। আগামী দিনের বাদাম কেনার জন্য ১০০ টাকা রেখে বাকী ৫০ টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চলে রাব্বি ও তার মায়ের। বিপদ আপদে রাব্বির উপার্জনের ৫০ টাকাই যেন তাদের সম্বল। কখনো খেয়ে আবার কখনো নাখেয়ে ৫০ টাকায় দিন অতিবাহিত হয় মা ছেলের।
শিশু রাব্বি সম্পর্কে রাজশাহী আদালতের আইনজীবী উত্তম বৈষ্য জানান, জজ কোর্টের দ্বিতীয় তলায় ছেলেটিকে বাদাম বিক্রি করতে দেখে আমার খুব কষ্ট লেগেছে। রাব্বি আমার সন্তানেরও অনেক ছোট। তাকে দেখে মায়া হয়। আমি তার কাছ থেকে ৩০ টাকার বাদাম নিয়ে ১০ ০টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু রাব্বি সেটি নেয়নি। জোর জবরদস্তি করে আমি তার আত্মসম্মানে আঘাত করলামনা। তাকে দোয়া করে চেম্বারে ফিরলাম।
রাব্বি ও তার পরিবার সম্পর্কে কথা হয় রাব্বির মা ডলি বেগমের সাথে, তিনি বলেন নিজে ব্লকের কাজ করে দুটো পেট চালাতাম। এখন সে কাজও নাই। তার পর মাছেলে মিলে বাসায় বাসায় কাজ করতাম হাত ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে তাও করতে পারছিনে। বাধ্য হয়ে আমার কোলের ছেলে রাব্বিকে বাদাম কিক্রি করতে পাঠিয়েছি। চেয়ে খাওয়ার চাইতে কিছু কর্ম করে আনে তাই দিয়েই মা-বেটা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। স্বামীর কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, অন্য বৌয়ের কাছে থাকে। মাসে দু-একবার আমর এখানে আসে, কিন্তু কোন খরচপত্র দেয়না। রাব্বির লেখা-পড়ার পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন করোনার কারনে স্কুল বন্ধ আছে। আমাদের সংসারে এমন অবস্থায় রাব্বির হয়তো আর স্কুলে যাওয়া হবেনা। বাদামই বিক্রি করতে হবে।

অক্টোবর ০৩
০৭:৩১ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

কোয়ারেন্টিন ব্যর্থতায় আসতে পারে ভয়াবহ বিপদ

কোয়ারেন্টিন ব্যর্থতায় আসতে পারে ভয়াবহ বিপদ

সানশাইন ডেস্ক :  দেশে আশঙ্কাজনক হারে কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের সংখ্যা কমছে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, কোয়ারেন্টিন ব্যর্থতার কারণে আক্রান্ত বাড়ছে। আর পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানুষকে কোয়ারেন্টিন না করতে পারার ব্যর্থতাকে ‘অ্যালার্মিং’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এমনিতেই সামনে শীতের মৌসুম। এ সময় রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ পাচ্ছেন ৫৪১ জন ননক্যাডার

প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ পাচ্ছেন ৫৪১ জন ননক্যাডার

|সানশাইন ডেস্ক: ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার নন-ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন পদে ৫৪১ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার থেকে প্রথম শ্রেণির (৯ম গ্রেড) বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা

বিস্তারিত