Daily Sunshine

আলো ঝলমলে এক পৌরসভা কাটাখালী

Share

স্টাফ রিপোর্টার: সড়কে আলোক বাতি ও রাস্তা ঘাট দেখলেই এখন বুঝা য়ায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সীমানা ঘেষে গঠিত এটিই কাটাখালী পৌরসভা। দোষে গুনে মানুষ হলেও কাপাসিয়ার ফলের দোকানদার মুকুল হোসেন বলেন, আমাদের পৌরসভায় ২০ বছরে যা উন্নয়ন হয়নি এই সাড়ে চার বছরে তার চেয়ে অনেক বেশী হয়েছে। একদিকে উন্নয়ন এবং অন্যদিকে ডাকলে পাওয়া যায়। উন্নয়নের কোন কাজ হলে মেয়র জনগণকে দেখে নেয়ার জন্য বলেন। তার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে অবশ্যই এমন কথা বলতে পারতেন না। অন্তঃন্ত আগামী নির্বাচনে আব্বাস মেয়রের বিকল্প আব্বাসই। শ্রমিক আব্দুর রাজ্জাকও একই ধরণের মন্তব্য করেন।
তবে জনগণ যে শুধু মেয়র আব্বাসের গুণগান নিয়ে ব্যস্ত তা কিন্তু নয়। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দোকানদার মুঞ্জুরুল হক বলেন, খালি উন্নয়ন উন্নয়ন শুনছি। এখনো ডেনেজ ব্যবস্থা নেই। নদী থেকে বালি উত্তোলনে রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। সরকারের লাখ লাখ ক্ষতি হচ্ছে।
শুধু কি মেয়র আব্বাসের সময়েই নদী থেকে বালি উত্তোলন হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না আগেও হয়েছে। তবে ছোট ছোট গাড়ী দিয়ে পরিবহন করা হতো। এখন ১০ চাকার গাড়ীতে বালি বহণ করায় নতুন রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং উড়ন্ত বালিতে রাস্তার পাশের ঘর-বাড়ী নোংড়া হচ্ছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের রোগ ব্যাধি দেখা দিচ্ছে। তিনি জামায়াত নেতা মাজেদুর রহমানকে ভাল ও সৎ মানুষ ভলে উল্লেখ করেন। বর্তমান মেয়রের উন্নয়ন ও তৃণমুল মানুষের পাশাপাশি থাকার বিষয়টিতে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যাটে-বলে মিলে গেছে। বৈরী পরিবেশ থাকলে মেয়র বুঝতে পারতো কত ধানে কত চাল।
তার এই কথা মানতে নারাজ বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ভাতিজা ও দাওকান্দি কলেজের ইসলামের ইতিহাসের ছাত্র ইবাদত হোসেন। তিনি বলেন, সত্য ও বাস্তবাবতাকে অস্বীকার করলে ইতিহাস বিকৃত হয়। পৌরসভার প্রতিটি জনগণকে বর্তমান মেয়র সম্মান করেন। করোনাকালীন সময়ে দলবল নির্বিশেষে এলাকার গরীব দু:খিদের পাশে ছিলেন এবং যথেষ্ট পরিমান ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি আমাদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালপাড়ার ভিতরের এই রাস্তাটি সংস্কার না হলেও অনেক রাস্তা নতুনভাবে সংস্কার করেছেন এবং করছেন। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বেশী হলে বিজয় সহজ হবে না। ওই এলাকার মাহাতাব হোসেন বলেন, মেয়র ভাল কাজ করেছেন।
এদের সাথে একমত পোষণ করেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নজিরের মোড়ের বাসিন্দা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীরত আকবর আলী বলেন, টিক দেওয়ার লোক ছিল- ভিক্ষ দেওয়ার কেউ ছিল না। মেয়র আব্বাস সাড়ে চার বছরে যা উন্নয়ন করেছেন, সাবেক মেয়র মাজেদুর রহমান সাড়ে ১৯ বছরেও করতে পারেন নি। এরপরেও অনেকে মনোনয়ন চাইবে। প্রতিহিংসায় মেতে উঠবে। ভোট দিতে নিষেধ করবে। শেষে আঙ্গুর ফল টক বলে আব্বাসকেই ভোট দিবে এবং দেয়া উচিত। তবে মেয়র মহোদয়কে বুঝতে হবে, এই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের চাইতে বিএনপি ও সমমনা দলের ভোট সংখ্যা বেশী। ভোটে আবারো জয়ী হতে ঘরে-বাইরে সব দিকেই চোখ খোলা ও কান খাড়া করে সতর্কতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে।
বাখড়াবাজ দক্ষিণপাড়া মোড়ের দোকানদার রহিদুল ইসলাম বলেন, মাজেদুর রহমান ভাল মানুষ। তবে মেয়র আব্বাস ভাল কাজ করেছেন। কিন্তু রহিদুলের স্ত্রী বলেন, এই ওয়ার্ডে কিছুটা হলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। তবে শুনেছি অন্যান্য স্থানে ভাল কাজ করেছেন। গরিব-দু:খিদের মাঝে ব্যাপক সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাখরাবাজ ক্লাবের মোড় এলাকার জমির উদ্দিন ও রাব্বি বাসের হেলপার জাকির হোসেন বলেন, জনগণ ভাল কাজের দাম দিলে অবশ্যই মেয়র আব্বাস আবারো বিজয়ী হবেন।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল হোসেনের ছেলে ছাত্র ইসতিয়াক হোসেন ও হযরত আলীর ছেলে ছাত্র জিয়াউল হক (২৫) বলেন, সাধারণ মানুষের মন অনেকাংশেই জয় করেছেন বর্তমান মেয়র। দলীয় লোকের কাছেই তিনি ঈর্ষার কারণ। তৃণমুলে দলবল নির্বিশেষে তার শক্ত অবস্থান। উন্নয়ন ও বিতরণ কাজে দলীয় নেতা-কর্মীকে প্রাধান্য না দেওয়ায় কিছুটা নিজেদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যা মনোনয়ন পেলে কেটে যাবে। কোন জনগণকে তিনি আলাদা চোখে দেখেননি। আওয়ালীগ, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে প্রাপ্যতার বিষয়ে ভেদাভেদ রাখেননি। এটা উন্নয়ন ও জনগণের জন্য জনপ্রতিনিধির পজেটিভ দিক। এমন দৃষ্টি ভঙ্গির প্রতিনিধি থাকলে দেশ আরো অনেকদুর এগিয়ে যেত। একজন জনপ্রতিনিধি যে সেবক, শাসক নয়-এটা মেয়র আব্বাস প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
কাটাখালি পৌরসভার বেশীরভাগ জনগণের মতামতের ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে-কেউ স্বপ্ন দেখে, কেউ দেখায়, আবার কেউ স্বপ্নের মতই কাজ করে দেখিয়ে দেয় জীবন কত সুন্দর, পরিচ্ছন্ন আর কর্মময়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কিংবা মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কিন্তু বছর বছর, যুগে যুগে আসে না। বর্তমানে কাটাখালি পৌরসভাকে সাজাতে মেয়র আব্বাসের বিকল্প তিনিই।

অক্টোবর ০১
১৯:৪৪ ২০২০

আরও খবর

পত্রিকায় যেমন

বিশেষ সংবাদ

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

নগরীর পুরাতন বইয়ের বাজার, কেমন আছেন দোকানীরা?

আবু সাঈদ রনি: সোনাদীঘি মসজিদের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বইয়ের দোকান। নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের একমাত্র আশ্রয়স্থল এই পুরাতন লাইব্রেরী। মধ্যবিত্তরা যে যায় না ঠিক তেমনটিও না। কি নেই এই লাইব্রেরীতে? একাডেমিক, এডমিশন, জব প্রিপারেশনসহ সব ধরনের বই রাখা আছে সারি সারি সাজানো। নতুন বইয়ের দোকানের সন্নিকটে

বিস্তারিত




এক নজরে

আমাদের সাথেই থাকুন

চাকরি

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

চাকুরির নিয়োগ দিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সানশাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। রাবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পদের নাম: কম্পিউটার অপারেটর পদ সংখ্যা: ০১ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ফিজিওখেরাপি) পদ সংখ্যা: ০২ টি। বেতন: ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা। পদের নাম: মেডিক্যাল টেকনােলজিস্ট (ডেন্টাল) পদ সংখ্যা:

বিস্তারিত